পাকিস্তানের করাচির গুলশান-ই-হাদিদ এলাকার একটি আবাসিক ভবন থেকে একই পরিবারের পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকর্মীরা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) একটি বেসরকারি আবাসন এলাকার বাড়ি থেকে এক ব্যক্তি, দুই নারী ও দুই শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যার সম্ভাব্য ঘটনা হিসেবে দেখছে। তবে পাঁচজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
নিহতদের পরিচয়
উদ্ধারকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির নাম শাহজাইব। তাঁর বয়স ৪০ বছর। তাঁর স্ত্রী সাবার বয়সও ৪০ বছর। তাঁদের দুই মেয়ে আরিয়ার বয়স চার বছর এবং আইজালের বয়স পাঁচ বছর। নিহত অপর নারী শাহজাইবের ১৮ বছর বয়সী বোন শুমাইলা।
ঘটনার পর পুলিশ বাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং তদন্ত শুরু করে। একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে চিরকুটে
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহজাইবের লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। এতে তিনি আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি বেকার ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, শাহজাইব তাঁর প্রয়াত বাবার কাছ থেকে পাওয়া সম্পত্তি বিক্রি করে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করছিলেন। তবে আর্থিক সংকটের সঙ্গে পাঁচজনের মৃত্যুর সম্পর্ক কী, তা এখনো তদন্তের বিষয়। পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহের বাইরে গিয়ে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ সিন্ধু পুলিশের প্রধানের
ঘটনার বিষয়ে সিন্ধু প্রদেশের পুলিশের মহাপরিদর্শক জাভেদ আলম ওধো নজর দিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট উপমহাপরিদর্শকের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং ঘটনার সব দিক বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছেন তিনি।
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত তাঁকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শেষ করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
করাচিতে একই ধরনের আরেক ঘটনার স্মৃতি
গুলশান-ই-হাদিদের ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে করাচির সাইট এলাকার আহসানাবাদে একটি ফ্ল্যাট থেকে একই পরিবারের পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একজন পুরুষ, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের তিন সন্তান ছিলেন।
সেই ঘটনাতেও পুলিশ আত্মহত্যার সন্দেহের কথা জানিয়েছিল। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো কয়েক দিন আগের বলে ধারণা করা হয়েছিল। নিহত ব্যক্তি ডা. উমর অসুস্থতার কারণে বেকার ছিলেন এবং আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন বলে সে সময় জানা যায়।
দুটি ঘটনার মধ্যে কিছু মিল থাকলেও গুলশান-ই-হাদিদের পাঁচজনের মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশি তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলের ওপরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র নির্ভর করছে।












