নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে প্রায় দুই মাস কারাগারে রাখার ঘটনায় লিপি আক্তার (৩৯) নামে এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরও তিন মাস কারাগারে থাকতে হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল এ তথ্য জানিয়েছেন।
২০০৮ সালে ধর্ষণের মামলা
আদালতের নথি অনুযায়ী, নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা লিপি আক্তার ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। মামলায় তিনি দাবি করেছিলেন, তখন তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
মামলার পর পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয়।
ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্বের তথ্য
লিপি আক্তার সন্তান জন্ম দেওয়ার পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, কামাল উদ্দিন ওই শিশুর জৈবিক বাবা নন।
এরপর মামলাটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোয়। ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর রায়
কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে করা মামলার পরিণতি এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেষ পর্যন্ত মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়েরের ঘটনায় লিপি আক্তারকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে।
আদালতের রায়ে লিপি আক্তারের এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাঁকে।












