যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর বিনিময়ে এবার ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বেশি সহায়তা আশা করছে বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বুধবার স্পষ্ট ভাষায় এ কথা জানিয়েছেন। ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা চলছে। এর ফাঁকে তিনি মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বা ট্রেজারির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাড়তি সহায়তা চাওয়ার কথা জোর দিয়েই তোলা হয়েছে।
বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন সহায়তা আর দুই দেশের সার্বিক সম্পর্ক নিয়ে কথা হয়। সহায়তা দেয় এমন মার্কিন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলাদা করে বসেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ খুব বেশি সহায়তা পায়নি। তবে সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে এগিয়েছে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কিনছে। তেল, সয়াবিন আর নানা ভোগ্যপণ্যও আমদানি হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সহায়তা এখন না এলে আর কখন আসবে। তিনি জানান, মার্কিন পক্ষ এ যুক্তির সঙ্গে একমত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বাস্তবে কী আসে। সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চলতি বছর ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যাংককের আলোচনা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
উড়োজাহাজ কেনার অঙ্কটা বড়। মার্কিন নির্মাতা বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে সরকার। তেল ও সয়াবিনের মতো পণ্যও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগের চেয়ে বেশি কেনা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব কেনাকাটার প্রভাব পড়ছে দুই দেশের বাণিজ্যে। প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যেও। তাঁর যুক্তি, বাংলাদেশ যখন এত কিছু কিনছে, তখন এর প্রতিদানে সহায়তাও আসা উচিত। কী ধরনের সহায়তা আসবে, কত পরিমাণে আসবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। সামনের দিনগুলোতে বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সময়টা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সহজ নয়। ডলারের জোগান নিয়ে চাপ আছে, বিদেশি ঋণ শোধের দায়ও কম নয়। একই সফরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে নতুন অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা চলছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাড়তি সহায়তা পেলে চাপ কিছুটা কমতে পারে। অনুদান, সহজ শর্তের ঋণ বা বিনিয়োগ, যেকোনো রূপেই তা কাজে লাগবে। তবে আমদানি বাড়ানোর একটা খরচও আছে। প্রতিটি উড়োজাহাজ আর প্রতিটি জাহাজভর্তি পণ্যের দাম ডলারে মেটাতে হয়। ফলে বিনিময়ে কী মিলছে, সেই হিসাব মানুষের সামনে স্পষ্ট থাকা দরকার। কোন খাতে কত টাকা আসছে, কোন শর্তে আসছে, তা জানা থাকলে বিতর্কও কমবে।
সাধারণ মানুষের জন্য প্রশ্নটা সোজা। সয়াবিন তেল আর জ্বালানির দাম ঘরের বাজেটে সরাসরি প্রভাব ফেলে। কোন দেশ থেকে এসব পণ্য আসছে, তার ওপর দাম আর সরবরাহের স্থিতিও কিছুটা নির্ভর করে। আবার রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার বহরে নতুন উড়োজাহাজ এলে যাত্রীসেবা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের যাতায়াতে আসন সংকট কিছুটা কমতে পারে। অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, দেখা যাক কী হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাড়তি সহায়তা শেষ পর্যন্ত কতটা আসে, তা বোঝা যাবে ওয়াশিংটনের পরের পদক্ষেপে।












