চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.২ শতাংশে নামতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। মঙ্গলবার প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ২.২ শতাংশে নামবে। এরপর ধীরে বেড়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তা মোটামুটি ৩ শতাংশে পৌঁছাবে। চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়াতে পারে ১০.৯ শতাংশে, যা ১৬ বছরে সর্বোচ্চ। ছয় মাস আগে সংস্থাটি এই হার ৬ শতাংশ হবে বলে ধারণা দিয়েছিল।
তিন সপ্তাহের মধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থাই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ২৩ সেপ্টেম্বর ৪ শতাংশের পূর্বাভাস দেয়। বিশ্বব্যাংক ৬ অক্টোবর জানায় ৩.৪ শতাংশ। আইএমএফের পূর্বাভাস এর চেয়েও কম। অথচ আগস্টে প্রকাশিত সরকারের পাঁচ বছরের কৌশলগত কাঠামোয় চলতি অর্থবছরে ৬.৫ শতাংশ এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৮.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
আইএমএফের পূর্বাভাসে দক্ষিণ এশিয়ার সাত দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সবার নিচে। ২০২৭ থেকে ২০৩১ পর্যন্ত ভারতের প্রবৃদ্ধি প্রতিবছর ৬.৮ শতাংশের বেশি থাকবে বলে ধারণা। ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ভুটানের প্রবৃদ্ধি ৫.৫২, নেপালের ৫.০২, পাকিস্তানের ৪.৫, মালদ্বীপের ৪.০৩ ও শ্রীলঙ্কার ৩.৫১ শতাংশ হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য এই হার ২.৯৭ শতাংশ। দেশে টানা চার বছর ধরে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যাংক, জ্বালানি ও ব্যবসার নিয়মকানুনে প্রতিশ্রুত সংস্কার না হলে এই পূর্বাভাসই বাস্তব হতে পারে। তার মতে, সব দোষ বাইরের সংকটের ঘাড়ে চাপানো আংশিক সত্য। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন বলেন, সরকারের এখন প্রবৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দেওয়া উচিত। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশ নিম্ন প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কম কর্মসংস্থানের ফাঁদে পড়েছে। দারিদ্র্য কমানোর অর্জনও উল্টো দিকে যাচ্ছে।
সাধারণ মানুষের জন্য আইএমএফের পূর্বাভাসের মানে হলো আরও কিছুদিন বাজারে চড়া দাম আর কাজের সুযোগ কম। বাংলাদেশ ব্যাংক জুলাইয়ে নীতি সুদহার কমিয়ে ৯.৫ শতাংশ করে, সেপ্টেম্বরে তা অপরিবর্তিত রাখে। আগস্টে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪.৭৫ শতাংশ। জুনে খেলাপি ঋণ মোট ঋণের ৩২.৭৮ শতাংশে উঠেছে। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, সুশাসন ও সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে এই চিত্র বদলাবে না।












