সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বুধবার একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে রিয়াদে হুতি হামলায় জ্বালানি কোম্পানি আরামকোর অপারেশন সেন্টারের এলাকার একটি ভবনে আঘাত লাগে। সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, আকাশে ধ্বংস করা দুটি হুতি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫টি বাড়ি।
হুতিরা দাবি করেছে, তারা দাহরানে আরামকোর স্থাপনা, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের একটি আরামকো শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে। পাল্টা জবাবে জোট পশ্চিম ইয়েমেনের বিভিন্ন তেলস্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, এসব স্থাপনা সৌদি আরব, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরের নৌপথ হুমকিতে ফেলার কাজে ব্যবহার হচ্ছিল।
হামলার পর তেলের দাম আবার বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের ডিসেম্বর সরবরাহের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৯৭ ডলারে উঠেছে। আগের দিন দাম ছিল ১০৫.৬৯ ডলার। সৌদি মন্ত্রিসভা বলেছে, লোহিত সাগর ও বাব-আল-মান্দেব প্রণালিতে নিজের নিরাপত্তা ও নৌচলাচলের স্বাধীনতা হুমকিতে পড়তে দেবে না দেশটি। গত শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হন। ২০১৫ সালের পর সৌদি আরবে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।
পরিস্থিতির অবনতিতে অনেক দেশ সৌদি আরবে থাকা নাগরিকদের সতর্ক করেছে। ফ্রান্স মঙ্গলবার নাগরিকদের রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মাম বিমানবন্দর এড়িয়ে চলতে বলেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার ইসরায়েলি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইয়েমেনের রাজধানী সানায় জ্বালানি সংকটের ভয়ে পেট্রলপাম্পে মানুষের লাইন দেখা গেছে।
রিয়াদে হুতি হামলার প্রতিটি নতুন ঘটনা বাংলাদেশের জন্য সরাসরি উদ্বেগের। সৌদি আরবে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি থাকেন, শনিবারের হামলায় দুজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। ঢাকা থেকে ১০০টি ফ্লাইট এরই মধ্যে বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে জ্বালানি আমদানির খরচ বাড়বে, চাপ পড়বে রিজার্ভ আর বাজারদরে। তাই এই সংঘাত কোন দিকে গড়ায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে ঢাকাকেও।












