কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক তৃতীয় প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি আয় করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বুধবারের এক বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। দ্রুত আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সমন্বিত হিসাবে মুনাফা অর্জনের দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এআই প্রযুক্তি উন্নয়ন ও পরিচালনায় বিপুল ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কমাতে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যানথ্রপিকের আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৮০ কোটি ডলারে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ আয় ছিল ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলার এবং প্রথম প্রান্তিকে ৪৭০ কোটি ডলার। বৈঠকে উপস্থিত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
শেয়ারবাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি
প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজারে প্রবেশের আগে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে পরিচিতিমূলক বৈঠকের আয়োজন করে অ্যানথ্রপিক। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোয় প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তা কৃষ্ণ রাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে কয়েকজন অংশগ্রহণকারী রয়টার্সকে জানান, প্রতিষ্ঠানের দ্রুত আয় বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা সম্পর্কে তাঁরা আশাবাদী।
প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআইয়ের আগে অ্যানথ্রপিকের শেয়ারবাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে এআই প্রযুক্তি উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অ্যানথ্রপিকের আইপিও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। তবে রয়টার্সের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারবাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
আয় বাড়লেও ব্যয়ের চাপ বড় চ্যালেঞ্জ
এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নজরদারি বেড়েছে। উন্নত এআই মডেল তৈরি ও পরিচালনার জন্য চিপ, তথ্যকেন্দ্র এবং বিপুল কম্পিউটিং সক্ষমতায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানকে।
অ্যানথ্রপিকের লক্ষ্য ২ লাখ কোটি ডলারের বেশি বাজারমূল্য অর্জন করা। তবে এই মূল্যায়ন ধরে রাখতে হলে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রমাণ করতে হবে, দ্রুত আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা একসময় এআই প্রযুক্তি উন্নয়ন ও পরিচালনার বিপুল ব্যয়কে ছাড়িয়ে যেতে পারবে।
রয়টার্সের আগের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালে অ্যানথ্রপিকের আয় প্রায় ১২ গুণ বেড়ে ৪৬০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। তবে বিভিন্ন দায়ের হিসাব সমন্বয়ের আগের পরিচালনাগত হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান ছিল ৮০০ কোটি ডলারের বেশি।
এ ছাড়া আগামী এক দশকে ক্লাউড সেবা, কম্পিউটিং সক্ষমতা ও অবকাঠামো খাতে অন্তত ৫১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
এআই নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা
ওপেনএআইয়ের সাবেক কর্মকর্তাদের প্রতিষ্ঠিত অ্যানথ্রপিক তার ক্লদ মডেল পরিবারের মাধ্যমে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জেনারেটিভ এআই নির্মাতাদের একটি হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট ও অ্যামাজনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা একই সঙ্গে বিনিয়োগকারী, কম্পিউটিং সক্ষমতার সরবরাহকারী ও বিতরণ সহযোগী; আবার এআই বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বীও।
নিরাপদ এআই উন্নয়নকে অ্যানথ্রপিকের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরা হয়। বুধবারের বৈঠকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমোদেই এআই নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে আলোচনায় মানবজাতির অস্তিত্ব বিলুপ্তির আশঙ্কার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয় বলে বৈঠকে উপস্থিত একজন জানিয়েছেন।
গত মাসে রয়টার্সের দেখা প্রতিষ্ঠানটির আইপিও-সংক্রান্ত নথিতে সতর্ক করা হয়েছিল, অত্যন্ত উন্নত এআই মানবজাতির জন্য বিপর্যয়কর বা অস্তিত্বগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বুধবারের বৈঠকে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্যবসায় এআই ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে নিজস্ব নকশায় বিশেষায়িত চিপ তৈরির উদ্যোগ রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজনকে ‘থিংকিং’ লেখা টুপিও দেওয়া হয়।
এদিকে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ অ্যানথ্রপিকের বার্ষিক আয়ের চলমান হার ১১ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা কয়েকজন বিশ্লেষক।
পরীক্ষামূলক পরিবেশে অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব এআই এজেন্টের সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস এবং কোডের ক্ষতিসাধনের মতো উদ্বেগজনক আচরণের নজিরও গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে বাস্তব ব্যবহারে এ ধরনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।












