প্রবাসীদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মঙ্গলবার ঢাকায় এ কথা জানান। প্রবাসী ও অভিবাসন নিয়ে কাজ করা গবেষণা সংস্থা রামরুর ৩০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেন। মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত এসব ট্রাইব্যুনালে শুধু প্রবাসীদের মামলারই বিচার হবে। প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব এখন তৈরি হচ্ছে।
মন্ত্রীর কথায় উঠে এসেছে প্রবাসীদের পুরোনো এক ভোগান্তি। বিদেশ থেকে পাঠানো টাকায় দেশে জমি বা ফ্ল্যাট কেনেন অনেকে। পরে সেই সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। আবার পরিবারের কাছে পাঠানো টাকা ফেরত পাওয়া নিয়েও মামলা হয়। এসব মামলা বছরের পর বছর চলে, হয়রানিও কম হয় না। পরিবারের সদস্যদের বারবার আদালতে যেতে হয়। বিদেশে বসে আইনজীবীর খরচ টানতে হয় প্রবাসীকে। মন্ত্রী জানান, দেশের শ্রমিকদের জন্য শ্রম আদালত আছে। কিন্তু প্রবাসীদের জন্য আলাদা কোনো আদালত নেই। এই ফাঁক পূরণ করতেই নতুন উদ্যোগ।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবটি সংসদের আগামী অধিবেশনে তোলার চেষ্টা চলছে। আগামী অধিবেশনে সম্ভব না হলে তার পরের অধিবেশনে এটি পাস হবে বলে তিনি আশা করেন। এর আগেই আইনগত সহায়তা পেতে প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের জন্য একটি ব্যবস্থা চালু আছে। সরকারি আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের হটলাইনে ফোন করে পরামর্শ নেওয়া যায়। প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হলে এই সহায়তা আরও কাজে লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ পরামর্শের পর মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির একটা নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান সবাই জানে। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার সবচেয়ে বড় ভরসাগুলোর একটি। আইনমন্ত্রী নিজেও প্রবাসী শ্রমিকদের দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, অনেক প্রবাসী ন্যায্য মজুরি পান না। অন্য দেশের শ্রমিকদের চেয়ে কম মজুরিতে কাজ করেন অনেকে। প্রতারণার শিকারও হন অনেকে, অথচ প্রতিকার পেতে দেশে ফিরে লড়াই করা সহজ নয়। এসব সমস্যা দেখতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
বিভাগীয় শহরে ট্রাইব্যুনাল হলে প্রবাসী পরিবারগুলোর ঢাকায় দৌড়ানোর কষ্ট কমবে। যেসব জেলা থেকে বেশি মানুষ বিদেশে কাজ করতে যান, সেখানকার পরিবারের জন্য এটি বড় স্বস্তি হতে পারে। তবে শুধু আদালত বানালেই হবে না। বিচারক, জনবল আর মামলা দেখার ডিজিটাল ব্যবস্থাও লাগবে। প্রবাসী যেন বিদেশে বসেই মামলার খোঁজ নিতে পারেন, সেটিও জরুরি। প্রস্তাবের খসড়া চূড়ান্ত হলে বোঝা যাবে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কতটা কার্যকর হবে। ততদিন প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারকে নিজেদের সুরক্ষার দিকে নজর রাখতে হবে। দেশে টাকা পাঠালে বৈধ মাধ্যমে পাঠান এবং রসিদ রেখে দিন। জমি বা ফ্ল্যাট কিনলে দলিল নিজের নামে হচ্ছে কি না, নিশ্চিত হোন। কাউকে আমমোক্তারনামা দেওয়ার আগে ভালো করে ভাবুন। বিরোধ দেখা দিলে দেরি না করে আইনগত সহায়তার হটলাইনে যোগাযোগ করুন। কাগজপত্র গোছানো থাকলে যেকোনো আদালতেই মামলা চালানো সহজ হয়।












