নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বাড়ানো আর জ্বালানি বাঁচানোর বাস্তব উপায় খুঁজছে সরকার। এ জন্য তরুণ ও পেশাজীবীদের কাছ থেকে নতুন ধারণা চেয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ। টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবন প্রতিযোগিতাটির নাম রাখা হয়েছে স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের সন্ধানে। সহযোগিতায় আছে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা স্রেডা। বাস্তবায়ন করছে জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড। আবেদনের শেষ দিন ২৫ অক্টোবর। অর্থাৎ আগ্রহীদের হাতে সময় আছে এক সপ্তাহের মতো।
টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যাবে দুই বিভাগে। প্রথম বিভাগে থাকবেন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যেকোনো বিভাগের দুজন শিক্ষার্থী মিলে একটি দল করতে পারবেন। দ্বিতীয় বিভাগ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কর্মরত পেশাজীবীদের জন্য। তাঁরা অংশ নেবেন এককভাবে। প্রত্যেককে সর্বোচ্চ ১ হাজার শব্দের একটি ধারণাপত্র জমা দিতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে তিন মিনিটের একটি ভিডিও। ভিডিওতে দেখাতে হবে ধারণাটি কতটা বাস্তবসম্মত আর এর সম্ভাব্য প্রভাব কী। নিবন্ধন ও জমা দেওয়ার কাজ হবে স্রেডার ওয়েবসাইটে প্রতিযোগিতার জন্য খোলা আলাদা পাতায়।
বিষয়ের তালিকা বেশ বড়, ফলে প্রায় সব ধরনের ভাবনার জায়গা আছে। এর মধ্যে আছে সৌরবিদ্যুৎ, স্মার্ট সৌর সেচ, গ্রিডের বাইরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও গ্রিড আধুনিকায়ন। আছে বিদ্যুৎ মজুত, বায়ুবিদ্যুৎ আর দেশে সৌর প্যানেল ও ইনভার্টার তৈরির ধারণা। কৃষিজমিতে ফসলের পাশাপাশি সৌর প্যানেল বসানো এবং পানিতে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎও তালিকায় রয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন রান্নার ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ ব্যবহার মাপার ডিজিটাল টুল নিয়েও কাজ জমা দেওয়া যাবে। বৈদ্যুতিক গাড়ি ও চার্জিং ব্যবস্থা, সাশ্রয়ী ভবন ও শীতলীকরণ, চাহিদা ব্যবস্থাপনা, আচরণ বদল এবং নীতি প্রস্তাবও বিবেচনায় থাকবে।
উদ্যোগটির পেছনে আছে বড় জাতীয় লক্ষ্য। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। একই সময়ে ১৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যও আছে। স্রেডার চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নতুন ও বাস্তবসম্মত ধারণা পেতেই এই আয়োজন। তাঁর মতে, তরুণেরা এখন গবেষণায় এআইসহ নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। সেসব সমাধান কাজে লাগিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে চায় সরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ এখনো আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম যখন ওঠানামা করছে, তখন দেশের ভেতরে সাশ্রয়ের উপায় খোঁজা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা নিজের ভাবনা সরকারের টেবিলে তোলার সুযোগ। ক্লাসের প্রকল্প বা থিসিসের কাজকে বাস্তব প্রস্তাবে রূপ দেওয়া যেতে পারে। পেশাজীবীরাও মাঠের অভিজ্ঞতা থেকে ছোট কিন্তু কাজের সমাধান তুলে ধরতে পারেন। বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিতরণ লাইন বা কারখানায় প্রতিদিন যে অপচয় চোখে পড়ে, তা কমানোর উপায়ও হতে পারে ভালো প্রস্তাব। পুরস্কারের ধরন ও পরের ধাপের বিস্তারিত জানতে আবেদনের আগে স্রেডার ওয়েবসাইটে নিয়মাবলি ভালো করে পড়ে নেওয়া দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পরামর্শ নিলে ধারণাপত্র আরও গোছানো হতে পারে। সময় কম, তাই ধারণাপত্র ছোট, পরিষ্কার আর হিসাবনির্ভর রাখাই ভালো।












