বৈধ পথে দেশে টাকা পাঠানো প্রবাসীদের জন্য নতুন সুবিধার কথা জানিয়েছে সরকার। প্রবাসী কার্ড চালু হলে কার্ডধারীরা রেমিট্যান্সে বাড়তি প্রণোদনা পেতে পারেন। এখন ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠালে আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা মেলে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ১৩ অক্টোবর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি ছিল রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট বা রামরুর ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, কার্ড চূড়ান্ত হয়ে কর্মীদের হাতে পৌঁছালে প্রবাসী কার্ডে ৩ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়া যাবে।
কার্ডটি এখন চার থেকে পাঁচটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু আছে। এর মধ্যে আছে জর্ডান ও দক্ষিণ কোরিয়া। পরীক্ষার সময় প্রবাসীদের সাড়া যাচাই করছে সরকার। কার্ড পেতে প্রবাসীদের নিবন্ধন করতে হবে। কার্ডের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের ব্যবস্থাও থাকবে। প্রবাসীদের নানা সমস্যা সমাধানে ১১টি খাত চিহ্নিত করেছে সরকার। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় অগ্রাধিকার ও ছাড়ের সুবিধা যোগ করার পরিকল্পনা আছে। ছুটিতে দেশে এলে জমিজমার বিরোধ দ্রুত মেটানোর ব্যবস্থাও এই তালিকায় রয়েছে।
একই অনুষ্ঠানে রিক্রুটিং এজেন্সির শৃঙ্খলা নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশে প্রায় তিন হাজার রিক্রুটিং এজেন্সি আছে। কাজের মান দেখে গ্রেডিং করলে এর মধ্যে ৩০০ থেকে ৫০০টি টিকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তাঁর মতে, এজেন্সিগুলোকে শৃঙ্খলায় আনতে না পারলে অভিবাসন প্রক্রিয়া মসৃণ রাখা কঠিন হবে। সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাঠ্যক্রম বিদেশের চাহিদা অনুযায়ী হালনাগাদ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। নারী কর্মীদের সুরক্ষায় আরও কাজ করা দরকার, সেটিও স্বীকার করেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান প্রবাসীদের সম্পত্তি ও টাকাপয়সা নিয়ে মামলার কথা তোলেন। এসব বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিশেষ আদালত গঠনের প্রস্তাব তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। অর্থাৎ প্রণোদনার পাশাপাশি বিদেশ যাওয়ার আগের আর ফেরার পরের ধাপগুলোতেও বদল আনতে চাইছে সরকার।
উপসাগরীয় দেশ, ইউরোপ বা আমেরিকায় থাকা কর্মীদের কাছে হিসাবটা সহজ। ধরা যাক, কেউ মাসে ৫০ হাজার টাকা দেশে পাঠান। আড়াই শতাংশ হারে তিনি এখন পান ১ হাজার ২৫০ টাকা। প্রবাসী কার্ডে ৩ শতাংশ প্রণোদনা চালু হলে একই অঙ্কে মিলবে ১ হাজার ৫০০ টাকা। বছরে এই বাড়তি অর্থ দাঁড়ায় ৩ হাজার টাকায়। নিয়মিত টাকা পাঠানো পরিবারের জন্য অঙ্কটা ছোট নয়। তাই বৈধ পথে টাকা পাঠানোর পক্ষে এটি বাড়তি যুক্তি হয়ে উঠতে পারে। হাসপাতালের ছাড় বা জমির বিরোধে দ্রুত সমাধান যোগ হলে কার্ডের মূল্য আরও বাড়বে। দেশে থাকা মা-বাবা বা সন্তানের চিকিৎসার খরচ সামলানো অনেক প্রবাসী পরিবারের বড় চিন্তা।
তবে এখনো কয়েকটি বড় প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। কার্ডের ফি কত হবে, কারা যোগ্য হবেন, তা জানায়নি মন্ত্রণালয়। সব দেশে কবে কার্ড চালু হবে, সেই সময়ও ঘোষণা হয়নি। প্রবাসী কার্ডে ৩ শতাংশ প্রণোদনা তাই এখনো পরিকল্পনার পর্যায়ে। প্রবাসীদের আপাতত দূতাবাস ও মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে নজর রাখাই ভালো। কোনো দালাল বা অচেনা ব্যক্তি কার্ড করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সতর্ক থাকা জরুরি।












