বন্ধ কারখানা আবার চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গড়েছিল। ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সেখান থেকে ঋণ বিতরণ হয়েছে মাত্র ৫৬০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এটি মোট বরাদ্দের প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ। আরও ৯২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার ঋণ এখন প্রক্রিয়াধীন। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশ করা হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে। ফলে বন্ধ কারখানা চালুর তহবিল কেন কাজে আসছে না, সে প্রশ্ন এখন জোরালো হচ্ছে।
এই তহবিল আসলে একটি বড় প্রণোদনা প্যাকেজের অংশ। অর্থনীতি চাঙা করতে চলতি বছরের মে মাসে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে আছে পুনঃঅর্থায়ন ও প্রাক-অর্থায়নের নানা স্কিম। এসব ঋণে সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত পুরো প্যাকেজ থেকে বিতরণ হয়েছে ১১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকার কিছু বেশি। এটি মোট অঙ্কের ২০ শতাংশেরও কম। আরও প্রায় ২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা প্রক্রিয়াধীন আছে। অর্থাৎ ঘোষণার প্রায় পাঁচ মাস পরও প্যাকেজের বড় অংশ পড়ে আছে।
সব স্কিমের চিত্র অবশ্য এক রকম নয়। রপ্তানির আগের ঋণ, অর্থাৎ প্রি-শিপমেন্ট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বিতরণ হয়েছে ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা। এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিশেষ স্কিমে গেছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সৃজনশীল অর্থনীতির স্কিমে বিতরণ হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। সিএমএসএমই খাতের চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়নে গেছে প্রায় ৯০৮ কোটি টাকা। কৃষি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানের স্কিমে বিতরণ ২৯৩ কোটি টাকার মতো। বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের ১ হাজার কোটি টাকার পুরোটাই এখনো প্রক্রিয়াধীন। রপ্তানিকারক ও ছোট উদ্যোক্তারা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেয়েছেন। সেই তুলনায় বন্ধ কারখানা চালুর তহবিল অনেক পিছিয়ে আছে।
এই পিছিয়ে থাকার মানে বোঝা জরুরি। একটি কারখানা বন্ধ থাকলে শ্রমিক কাজ হারান, উৎপাদন থেমে যায়। রপ্তানির অর্ডারও অন্য দেশে চলে যেতে পারে। আবার একটি কারখানা চালু হলে শুধু মালিক নন, শ্রমিক, সরবরাহকারী আর আশপাশের ছোট ব্যবসাও উপকার পায়। তাই এই তহবিলের টাকা ঠিক জায়গায় পৌঁছানো দেশের কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কম সুদে ঋণ থাকা সত্ত্বেও উদ্যোক্তারা কেন এগিয়ে আসছেন না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। ব্যাংকগুলো এমন ঋণে কতটা ঝুঁকি নিতে চায়, সেটিও দেখার বিষয়। কারণ বন্ধ কারখানাকে ঋণ দেওয়া মানে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে টাকা দেওয়া, যার আয় এই মুহূর্তে বন্ধ। ঋণ ফেরত পাওয়া নিয়ে ব্যাংকের দুশ্চিন্তা থাকাই স্বাভাবিক।
সামনের কয়েক মাস তাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রক্রিয়াধীন ৯২৯ কোটি টাকার আবেদন কত দ্রুত ছাড় হয়, সেটিই হবে প্রথম পরীক্ষা। এতে বিতরণ বেড়ে মোট বরাদ্দের সাড়ে ৭ শতাংশের কাছাকাছি যেতে পারে। তবু ২০ হাজার কোটি টাকার তুলনায় তা সামান্য। বন্ধ কারখানা চালুর তহবিল সত্যিই শিল্প ফেরাতে পারবে কি না, তা নির্ভর করবে ঋণের শর্ত, আবেদনের প্রক্রিয়া আর ব্যাংকের আগ্রহের ওপর। এসব জায়গায় অগ্রগতি না হলে বড় ঘোষণার পরও অনেক কারখানার ফটক বন্ধই থেকে যেতে পারে।












