খুলনা নগরীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তুষার নামে ২২ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় খাদেমুল উলুম মাদ্রাসার কাছে এ ঘটনা ঘটে। কয়েকজন যুবকের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলি ছোড়া হলে তুষার আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, ভোরে মাদ্রাসার কাছাকাছি কয়েকজন যুবকের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাঁদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালান। এতে তুষার গুলিবিদ্ধ হন। তবে কী নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু ঘোষণা
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তুষারের মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া কাছাকাছি একটি স্থান থেকে গুলির দুটি খোসাও পাওয়া গেছে। এসব আলামত ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পুলিশের
খুলনা সদর থানার উপপরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, তুষার পলাশ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। কারাগারে থাকা খুলনার এক শীর্ষ অপরাধী এ গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন মিয়া জানান, তুষার পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
তবে কারা তাঁকে গুলি করেছে, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কোনো অপরাধী গোষ্ঠীর বিরোধ জড়িত কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে উদ্ধার হওয়া আলামত
ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ, মোটরসাইকেল ও গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র, হামলাকারীদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
খুলনা নগরীর জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভোরে এ ধরনের গুলির ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার বিষয়টি এখন তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।












