ওয়ানডে বিশ্বকাপের আর এক বছর বাকি। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সিরিজের দুই ম্যাচের কোনোটিতেই ২০০ রানের ঘর পেরোতে পারেনি দল। বুধবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৬০ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশ শুধু ম্যাচই হারায়নি, ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও শেষ করেছে।
এই জয়ে বাংলাদেশকে টানা পঞ্চমবারের মতো ওয়ানডেতে হারাল আফগানিস্তান। জবাবে ৮৭ বল হাতে রেখেই সাত উইকেটের জয় পায় তারা। ফাইনালে আফগানিস্তানের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল দলটি।
শুরুতেই ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং
টস জিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। ফাইনালে ওঠার জন্য বাংলাদেশকে শুধু জিতলেই হতো না, অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে জিততে হতো। সেই লক্ষ্য পূরণে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ে সেই সমীকরণ শুরুতেই কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রথম সাত ওভারের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে উইকেটকিপার রহমানউল্লাহ গুরবাজের হাতে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান। পরের বলেই অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাট করতে গিয়ে বোল্ড হন সৌম্য সরকার।
নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১৫ রান। তিনিও ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে ক্যাচ অ্যান্ড বোল্ড হয়ে কোনো রান না করেই বিদায় নেন হৃদয়। দলের আট ব্যাটার দুই অঙ্কের রানও করতে পারেননি।
পারভেজের লড়াই, সাইফের ধীর ইনিংস
২৮ রানে চার উইকেট হারানোর পর পারভেজ হোসেন ও সাইফ হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। লিটন দাসের বদলি হিসেবে দলে সুযোগ পাওয়া পারভেজ করেন ৯৬ বলে ৭০ রান। এটি তাঁর দ্বিতীয় ওয়ানডে অর্ধশতক।
অন্যদিকে সাইফ ৮২ বল খেলে ৪১ রান করেন। পুরো ইনিংসে তাঁর রান তোলার গতি ছিল ধীর। মোহাম্মদ নবির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তাঁদের জুটিতে ২৮ রানের বিপর্যয় কাটিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১২১ রানে পৌঁছায়।
তবে এরপর আর ইনিংস টেনে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ পুল শটে প্রথমবার বেঁচে গেলেও দুই বল পর একই ধরনের শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন। তাঁর সংগ্রহ মাত্র দুই রান।
রশিদের ঘূর্ণিতে শেষ ছয় উইকেটের পতন
আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার রশিদ খান চারটি উইকেট নেন ৩১ রান দিয়ে। বাংলাদেশের শেষ ছয় উইকেট পড়ে মাত্র ৩৯ রানের মধ্যে। সৌম্য সরকার, হৃদয়, অভিষেক হওয়া আলিস আল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান কোনো রান না করেই আউট হন। শেষ পর্যন্ত ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
জবাবে আফগানিস্তানের শুরুতে কিছুটা চাপ তৈরি করেন তাসকিন আহমেদ। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই তিনি গুরবাজ ও সেদিকউল্লাহ আতালকে বোল্ড করেন। তবে প্রথম ১৬ বলেই অতিরিক্তসহ ২৬ রান তুলে আফগানিস্তান প্রয়োজনীয় গতি পেয়ে যায়। রহমত শাহ অপরাজিত ৬৭ রান করে ৩৬তম ওভারেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। আফগানিস্তান ৮৭ বল হাতে রেখে সাত উইকেটে জয় নিশ্চিত করে।
বিশ্বকাপের আগে ব্যাটিংয়ে উন্নতির তাগিদ
আগামী অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তার আগে বাংলাদেশের সামনে ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা ফেরানোর বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ত্রিদেশীয় সিরিজের দুই ম্যাচে ২০০ রান করতে না পারা এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুরুতেই একের পর এক উইকেট হারানোর ঘটনা সেই দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।












