ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চারটি উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়নের কথা ভাবছে সরকার। এর মধ্যে আছে ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস রাজধানী থেকে সরিয়ে নেওয়া। গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাস টার্মিনাল সরানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। সংস্কার হবে ৩১টি বাস রুট। আর অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা। সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বৃহস্পতিবার এসব উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পদক্ষেপ নিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। তাই চারটি উদ্যোগকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রথম উদ্যোগ পুরোনো বাস নিয়ে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পুরোনো বাস সরানোর বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। যান্ত্রিক ত্রুটি, দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ আর অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে এসব বাস দুর্ঘটনা ও দূষণের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে পুরোনো বাস তুলে নেওয়ার আগে বিকল্প বাসের ব্যবস্থা করা জরুরি। তা না হলে যাত্রীরা উল্টো বাস সংকটে পড়বেন। দ্বিতীয় উদ্যোগ টার্মিনাল নিয়ে। সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও গুলিস্তানের বাস টার্মিনাল ও স্ট্যান্ড শহরের কেন্দ্র থেকে সরানোর কথা ভাবা হচ্ছে। এসব জায়গায় আন্তজেলা বাসের ওঠানামা, যাত্রী তোলা আর পার্কিংয়ের চাপে আশপাশের সড়ক প্রায় সারা দিন আটকে থাকে।
তৃতীয় উদ্যোগ ৩১টি পুরোনো বাস রুটের সংস্কার। এখানে শুধু রাস্তা মেরামত নয়, নির্দিষ্ট বাস থামার জায়গা, সংযোগ সড়ক আর গাড়ি ঢোকা ও বের হওয়ার ব্যবস্থাও ঠিক করার কথা। যাত্রী ধরতে বাসগুলোর প্রতিযোগিতা, যেখানে-সেখানে থামা আর হঠাৎ লেন বদল ঢাকার যানজটের পরিচিত কারণ। চতুর্থ উদ্যোগ অটোরিকশা নিয়ে। ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানও এর আওতায় আসবে। নিবন্ধন, চালকের যোগ্যতা, চলাচলের এলাকা, পার্কিং আর নিয়ম ভাঙলে শাস্তির বিষয় নীতিমালায় থাকতে পারে। কোন সড়কে কোন যান চলবে, তা ঠিক হবে সড়কের ধারণক্ষমতা ও নিরাপত্তা বিবেচনায়।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা এবং গণপরিবহনের সহজলভ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বাস্তবায়নে যুক্ত থাকবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন মালিকেরা। এর পাশাপাশি নভেম্বর থেকে ছয়টি রুটে নতুন ব্যবস্থায় বাস চালানোর প্রস্তুতিও চলছে। যাত্রীর গড় যাত্রার সময়, স্টপেজে অপেক্ষার সময়, দুর্ঘটনার হার ও গণপরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা দেখে অগ্রগতি মাপার কথা বলা হয়েছে। তবে চার উদ্যোগের খরচ ও সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি। এগুলো এখনো পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।
ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা নতুন নয়। রুট ঠিক করা, টার্মিনাল সরানো আর লক্কড়ঝক্কড় বাস তুলে দেওয়ার কথা বহুবার শোনা গেছে। বেশির ভাগ উদ্যোগ মাঝপথে থেমে গেছে। কখনো মালিকদের আপত্তি, কখনো বিকল্প জায়গার অভাবে কাজ এগোয়নি। এবার সরকার বলছে, কাজগুলো আলাদা নয়, একসঙ্গে হবে। কাজের দায়িত্ব স্পষ্ট করে ভাগ করা হবে এবং নিয়মিত অগ্রগতি দেখা হবে। ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা আসবে কি না, তা বোঝা যাবে যাত্রীর অপেক্ষার সময় আর বাসে চড়ার ভোগান্তি কমে কি না, তা দেখে।












