সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথি হামলায় নিহত বগুড়ার মো. শাহেদ আহমেদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহটি আসে। সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের উপস্থিতিতে স্বজনেরা মরদেহ গ্রহণ করেন। শাহেদের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা এলাকায়। গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় তিনি প্রাণ হারান। হুথি হামলায় নিহত বাংলাদেশি এই কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরতে প্রায় দুই সপ্তাহ লেগে গেল।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়েছে। দাফন ও মরদেহ পরিবহনের জন্য দেওয়া হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। বিশেষ অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে আরও ৫০ হাজার টাকা। শাহেদ কাজ করতেন সাদ আল-এসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানিতে। প্রতিষ্ঠানটি তাঁর বকেয়া বেতন, ভাতা ও চাকরির অন্যান্য পাওনা বাবদ ২৭ হাজার ৩৯৫ সৌদি রিয়াল জমা দিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ টাকা। অর্থটি রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসে জমা রয়েছে। বিএমইটি কার্ড বা বৈধ পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পর পরিবারটি আরও ৩ লাখ টাকা পেতে পারে। বিমার আওতায় থাকলে মিলতে পারে আরও ১০ লাখ টাকা।
শাহেদের মরদেহ যখন দেশে ফেরার অপেক্ষায়, তখন আরেকটি হামলা হয়। বুধবার রাতে সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুইজন নিহত ও আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি। তাঁরা হলেন কুমিল্লার সজল চন্দ্র দাস এবং নোয়াখালীর মোহাম্মদ আবদুর রহিম। দুজনই দাম্মামের সৌদি জার্মান হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গরম ও ধোঁয়ায় তাঁরা জ্ঞান হারিয়েছিলেন। তাঁদের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এখন দুজনের অবস্থাই স্থিতিশীল। দূতাবাসের একজন প্রতিনিধি হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের খোঁজ নিয়েছেন এবং কথা বলেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি আরবে হুথি হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতিও প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। কূটনৈতিক পথে সংকট সমাধানের কথাও বলা হয়েছে। হামলার প্রভাব পড়েছে সৌদিগামী যাত্রীদের ওপরও। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-দাম্মাম ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট বন্ধ থাকবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। বিমান জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সূচি যথাসময়ে জানানো হবে।
সৌদি আরব বাংলাদেশি কর্মীদের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। তাই সেখানে প্রতিটি হামলার খবর দেশে বহু পরিবারকে উদ্বিগ্ন করে। বিমানবন্দরের মতো জায়গায় হামলা হলে ঝুঁকিতে পড়েন যাত্রী, শ্রমিক ও বিমানবন্দরের কর্মীরা। রিয়াদের পর দাম্মামের ঘটনা দেখাল, হুথি হামলায় নিহত বাংলাদেশি বা আহত কর্মীর তালিকা আরও লম্বা হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এ কারণে প্রবাসী কর্মীদের পরিবারগুলো দূতাবাস ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি ঘোষণার দিকে নজর রাখছে। হুথি হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মীর পরিবার এখন আর্থিক সহায়তার বাকি অংশের অপেক্ষায়। দাম্মামের হাসপাতালে থাকা দুই কর্মীর স্বজনেরা তাকিয়ে আছেন তাঁদের দ্রুত সুস্থ হয়ে কাজে ফেরার দিকে। আর যাঁদের রিয়াদ বা দাম্মামে যাওয়ার টিকিট আছে, তাঁদের নজর এখন বিমানের পরবর্তী ঘোষণার দিকে।












