ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। দলে ফিরেছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। চোট কাটিয়ে ফিরেছেন লিটন দাসও। তবে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকার ও পেসার খালেদ আহমেদ। চোটের কারণে এবারও দলে জায়গা পাননি গতিময় পেসার নাহিদ রানা। দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ২৮ অক্টোবর, মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দলের নেতৃত্বে থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
ঘোষিত দলে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয় ও জাকের আলী। স্পিন বিভাগে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান। পেস বিভাগে আছেন তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন ও শরীফুল ইসলাম। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টের দলে তাসকিন ছিলেন না। তাঁর ফেরায় পেস আক্রমণে অভিজ্ঞতা বাড়ল। অন্যদিকে সৌম্য সরকার সাম্প্রতিক টেস্ট দলে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি। এবার তাঁকে দল থেকেই বাদ দেওয়া হয়েছে।
লিটনের ফেরাটা দলের জন্য বড় স্বস্তি। চোটের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে তিনি খেলতে পারেননি। সেই সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল হতাশার। শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরে ফাইনালে ওঠার আগেই বিদায় নেয় দল। সেই ম্যাচে ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের কোনো ম্যাচেই দল ২০০ রান ছুঁতে পারেনি। ওয়ানডের সেই ব্যর্থতা ভুলে এখন লাল বলের ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে হবে ক্রিকেটারদের। মুশফিক, মুমিনুল ও লিটনের মতো অভিজ্ঞদের ওপর তাই দায়িত্ব বেশি।
ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট মানেই সাধারণত স্পিনের লড়াই। মিরপুরের উইকেটে মিরাজ ও তাইজুল দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বড় অস্ত্র। এবার তাঁদের সঙ্গে আছেন অফস্পিনার নাঈম হাসান। ফলে নির্বাচকেরা উইকেট দেখে তিন স্পিনার খেলানোর বিকল্প হাতে রাখলেন। পেস বিভাগে তাসকিন ও হাসান মাহমুদের সঙ্গে ইবাদত ও শরীফুল থাকায় বৈচিত্র্যও আছে। তবে নাহিদ রানার অনুপস্থিতি চোখে পড়বে। গতির জন্য পরিচিত এই তরুণ পেসার চোট থেকে সেরে উঠতে না পারায় কয়েকটি সিরিজ ধরে মাঠের বাইরে।
ভক্তদের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হলো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। আরব আমিরাত থেকে খালি হাতে ফেরার পর দলের প্রতি সমর্থকদের হতাশা স্পষ্ট। ঘরের চেনা কন্ডিশনে ভালো ফল এলে সেই চাপ কিছুটা কমবে। ওয়ানডেতে টপ অর্ডারের ভাঙন বারবার দলকে বিপদে ফেলেছে। টেস্টে লম্বা সময় উইকেটে টিকে থাকার পরীক্ষা আরও কঠিন। তানজিদ ও সাদমানের উদ্বোধনী জুটি শুরুটা কেমন করে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। মাঝের সারিতে মুমিনুল, মুশফিক আর লিটনকে বড় ইনিংস খেলতে হবে। হৃদয় ও জাকেরের সামনেও টেস্ট দলে জায়গা পাকা করার সুযোগ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট জিতলে বিশ্ব টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের অবস্থান নিয়েও কিছুটা স্বস্তি পাবে বাংলাদেশ। ২৮ অক্টোবর মিরপুরে প্রথম দিনের সকালেই বোঝা যাবে, শান্তর দল ব্যাটিংয়ের পুরোনো দুর্বলতা কতটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে।












