দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আবার উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে রোববার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ২৪৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এটি চলতি বছরে একদিনে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সর্বোচ্চ সংখ্যা। একই সময়ে এই রোগে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে এ বছরের সর্বোচ্চ ছিল ২ হাজার ১৫৮ জন, যা ২৭ সেপ্টেম্বর রেকর্ড হয়েছিল। নতুন সংখ্যা সেই সীমা পেরিয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, নতুন সাত মৃত্যুর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার দুজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার একজন। বাকি চারজনের মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগের দুজন, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের একজন করে। অর্থাৎ ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি আর মৃত্যু শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নেই। রাজধানীর বাইরের বিভাগগুলোতেও রোগী ও মৃত্যুর খবর আসছে। তাই সব জেলার মানুষকেই এখন সতর্ক থাকতে হবে।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৮ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৩৮৪ জনে। মৃতদের ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ নারী, বাকি ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ। একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু এ বছর হয়েছে ১০ জনের, ৬ অক্টোবর আর ১৫ অক্টোবর।
সংখ্যাগুলো থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট। অক্টোবরের শেষ দিকে এসেও ডেঙ্গুর প্রকোপ কমেনি। সেপ্টেম্বরের শেষে যে চাপ দেখা গিয়েছিল, তা এখন আরও বেড়েছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলানো তাই বড় চ্যালেঞ্জ। রোগী বাড়লে শয্যা, স্যালাইন ও চিকিৎসক-নার্সের ওপর চাপও বাড়ে। এ কারণে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা যেন আরও না বাড়ে, সে জন্য এখন সতর্কতাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। এই মশা বেশি কামড়ায় সকালে ও বিকেলে। তাই ফ্ল্যাটবাড়ির বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবনের গর্ত, পুরোনো টায়ার আর এয়ারকন্ডিশনারের নিচে জমা পানিও ঝুঁকির জায়গা। সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের মশা নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের নিজ উদ্যোগও জরুরি। সপ্তাহে অন্তত একবার সম্ভাব্য সব জায়গা দেখে পানি ফেলে দিলে লার্ভা বড় হওয়ার সুযোগ কমে যায়।
চিকিৎসকেরা সাধারণত কয়েকটি পরামর্শ দেন। বাসার ভেতরে ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, ফুলের টব, ফেলে রাখা পাত্র আর ছাদের জমা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। দিনের বেলাতেও মশারি বা মশা নিরোধক ব্যবহার করা ভালো। জ্বর হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বমি, তীব্র পেটব্যথা, শরীরের কোথাও থেকে রক্তক্ষরণ বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা পেলে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অধিকাংশই সুস্থ হয়ে ওঠেন। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা দরকার। পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে তাঁকে মশারির ভেতরে রাখা ভালো, যাতে মশা অন্যদের কাছে রোগ ছড়াতে না পারে। পর্যাপ্ত তরল খাবার ও বিশ্রামও জরুরি।












