স্পেনের চলচ্চিত্র নির্মাতা হাভিয়ের কালভো ও হাভিয়ের আমব্রোসি, যাঁরা একসঙ্গে ‘লস হাভিস’ নামে পরিচিত, তাঁদের নতুন চলচ্চিত্র ‘লা বোলা নেগ্রা’ দিয়ে নির্মাণশৈলীতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন। স্প্যানিশ কবি ও নাট্যকার ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার জীবন ও কাজ থেকে অনুপ্রাণিত এই চলচ্চিত্রে ইতিহাস, কল্পনা, ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা এবং সামাজিক লজ্জার সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটির বিশেষত্ব শুধু কাহিনিতে নয়, বরং পোশাক, রং, স্থাপত্য ও বাস্তব লোকেশনের অভিনব ব্যবহারে।
ছবির কেন্দ্রে রয়েছেন সেবাস্তিয়ান, কার্লোস ও আলবার্তো—তিনজন সমকামী পুরুষ। তাঁদের গল্পের সময়কাল যথাক্রমে ১৯৩২, ১৯৩৭ ও ২০১৭ সাল। তিনটি ভিন্ন সময়ের এই চরিত্রকে যুক্ত করেছে লোরকার অসমাপ্ত নাটক ‘লা বোলা নেগ্রা’। অতীতের ক্ষত, সামাজিক অপমান, আত্মপরিচয় এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকার শক্তি কীভাবে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে প্রবাহিত হয়, তা ছবির অন্যতম প্রধান বিষয়।
পরিচালকদ্বয়ের কাছে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী কাজ। আর সেই ভাবনাকে পর্দায় বাস্তব রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন পোশাক পরিকল্পনাকারী আনা কোবোস এবং দৃশ্যসজ্জার দায়িত্বে থাকা রজার বেয়েস।
বাস্তব লোকেশনে ইতিহাসের পুনর্নির্মাণ
ছবিটির দৃশ্যসজ্জায় প্রচলিত ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রের ধারণা থেকে সরে এসেছেন নির্মাতারা। তাঁদের লক্ষ্য ছিল না কেবল নির্দিষ্ট সময়ের সাজসজ্জা হুবহু অনুকরণ করা। বরং তাঁরা এমন পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছেন, যা দেখতে বাস্তব, ব্যবহারযোগ্য এবং মানুষের দীর্ঘদিনের বসবাসে গড়ে ওঠা কোনো জায়গার মতো মনে হয়।
দৃশ্যসজ্জাকারী রজার বেয়েসের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্মাতারা অতীতের আবহ চাইলেও প্রচলিত নকশার ছাঁচে বাঁধা কোনো দৃশ্যপট চাননি। তাঁরা নিজেদের মতো করে ইতিহাসকে পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছেন।
১৯৩৭ সালে স্থাপিত ছবির সূচনাদৃশ্যে সেবাস্তিয়ানের ছোট গ্রাম ইতালীয় বোমারু বিমানের হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। স্পেনের গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে এই দৃশ্য নির্মাণের জন্য দলটি এমন একটি বাস্তব গ্রামের সন্ধান করে, যা পরিত্যক্ত বা প্রায় জনশূন্য। শেষ পর্যন্ত কান্তাব্রিয়া ও বুর্গোস অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকায় উপযুক্ত একটি গ্রাম খুঁজে পাওয়া যায়। স্পেনের গৃহযুদ্ধের সময় অঞ্চলটি একাধিকবার বিভিন্ন পক্ষের দখলে গিয়েছিল। সেই ইতিহাসও দৃশ্যসজ্জার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছে।
পুরোনো গ্রামের ধ্বংসাবশেষের ওপর নতুন করে বসতি নির্মাণ করা হয়। বিদ্যমান স্থাপনার কিছু অংশ ব্যবহার করা হয়, পরিত্যক্ত কিছু জায়গা সংস্কার করা হয় এবং স্থানীয় পরিবেশ বুঝতে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ চলে। বড় আকারের নির্মাণ হলেও এর মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের জীবনের কাছাকাছি থাকা একটি বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা।
ধ্বংসপ্রাপ্ত গির্জা থেকে পুরোনো সিনেমা হল
ছবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের জন্য বাস্তব ও পরিত্যক্ত স্থাপনা বেছে নেওয়া হয়েছে। সেবাস্তিয়ান যে ধ্বংসপ্রায় গির্জায় নিজের নামের সঙ্গে সম্পর্কিত সাধুর বিশাল মূর্তিতে ওঠে, সেটি ছিল প্রকৃতির প্রভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত একটি পুরোনো ধর্মীয় স্থাপনা।
পরবর্তী সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি সান্তান্দারের যে হাসপাতাল দেখানো হয়েছে, সেটির জন্য ব্যবহার করা হয় একটি পরিত্যক্ত ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সরকার ভবনটি সংস্কারের পরিকল্পনা করেছিল। অন্যদিকে, পেনেলোপে ক্রুস অভিনীত নেনে চরিত্রের ক্যাবারে পরিবেশনার জন্য বেছে নেওয়া হয় ১৯৫০-এর দশক থেকে বন্ধ থাকা একটি জরাজীর্ণ সিনেমা হল।
সিনেমা হলটি এতটাই ভগ্নদশায় ছিল যে সেখানে অসংখ্য কবুতর বাসা বেঁধেছিল। বেয়েসের কাছে জায়গাটি প্রথম দর্শনে অত্যন্ত খারাপ মনে হলেও, এর মধ্যেই তিনি ছবির জন্য প্রয়োজনীয় স্বতন্ত্র আবহ খুঁজে পান।
দৃশ্যসজ্জার এই পদ্ধতি শুধু অতীতের স্থাপনা দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিটি জায়গার পেছনে একটি করে ইতিহাস কল্পনা করা হয়েছে। এরপর এমনভাবে পরিবেশ সাজানো হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত চরিত্রদের চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজকর্মও স্বাভাবিক বলে মনে হয়।
১৯৩২ সালের গ্রীষ্মে গ্রানাডায় স্থাপিত কার্লোসের গল্পেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। বাবার অনুরোধে একটি অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদের জন্য আবেদন করা কার্লোসকে শহরের মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। নির্মাতারা চেয়েছেন, ঐতিহাসিক সময়ের শহরটিও যেন বর্তমানের মতো প্রাণবন্ত মনে হয়।
ক্লাবের অভ্যন্তরীণ দৃশ্য তৈরির জন্য মাদ্রিদের বাইরে তাঁবুর মতো কাঠামোয় সেট নির্মাণ করা হয়। সমৃদ্ধ সাজসজ্জার বোর্ডরুমে সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালার চিত্রকর্ম রাখা হয়। পাশাপাশি এমন মাচাও তৈরি করা হয়, যেখানে চিত্রশিল্পীরা বসে কাজ করতে পারেন। এভাবে স্থির ও সাজানো কোনো ঘরের বদলে জীবন্ত কর্মপরিবেশের অনুভূতি তৈরি করা হয়েছে।
প্রকৃতির আলো-বাতাসেই বাস্তবতার সন্ধান
দৃশ্যসজ্জার ক্ষেত্রে বাস্তব পরিবেশের ব্যবহার ছিল বেয়েসের অন্যতম প্রধান কৌশল। স্টুডিওর কৃত্রিম পরিবেশে কাজ করার বদলে খোলা আকাশের নিচে দৃশ্য ধারণ করা তুলনামূলকভাবে জটিল। তবু নির্মাতারা সেই পথ বেছে নিয়েছেন।
বাস্তব সূর্যের আলো, জলপাইগাছ, জানালা দিয়ে দেখা প্রকৃত আকাশ এবং বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ—এসব উপাদান অভিনেতাদের দৃশ্যের আবহ অনুভব করতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মের পরিবেশ ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রকৃতির উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
সবকিছু কৃত্রিম পটভূমির সামনে ধারণ করলে যে অনুভূতি তৈরি হয়, বাস্তব পরিবেশে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তার চেয়ে আলাদা। এই পার্থক্যই ছবির দৃশ্যগুলোকে আরও জীবন্ত করে তুলতে সাহায্য করেছে।
তিন সময়ের গল্পে তিন ধরনের পোশাকের ভাষা
পোশাক পরিকল্পনাকারী আনা কোবোস ছবির তিনটি সময়কালকে আলাদা করে চেনানোর জন্য নির্দিষ্ট রং, নকশা ও পোশাকের ধরন বেছে নিয়েছেন। পরিচালকদ্বয়ের ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি পোশাকের কারুকাজ, ঐতিহাসিক সূত্র এবং শিল্পকলার বিভিন্ন উদাহরণ নিয়ে কাজ করেছেন।
২০১৭ সালের মাদ্রিদ ও কান্তাব্রিয়াকে ঘিরে আলবার্তোর গল্পে পোশাকের জন্য অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে কানাডীয় নির্মাতা জেভিয়ের দোলানের ‘মাথিয়াস অ্যান্ড ম্যাক্সিম’ চলচ্চিত্র থেকে। আলবার্তোর মা তেরেসা চরিত্রে অভিনয় করা লোলা দুএনিয়াসকে এমন পোশাকে দেখা যায়, যা দোলানের ছবিতে শ্রমজীবী মায়েদের পোশাকের কথা মনে করিয়ে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে খোলামেলা হাতাকাটা পোশাক ও স্কার্ট।
আলবার্তোর সঙ্গী জুয়ান পাবলো চরিত্রে অভিনয় করা জুলিও তোরেস এবং তাঁর বন্ধুদের পোশাকের ক্ষেত্রে অভিনেতাদের নিজেদের পোশাকের সঙ্গে মজার ও সমসাময়িক উপকরণ মেশানো হয়েছে। এতে শহুরে, স্বাধীনচেতা সমকামী সামাজিক পরিসরের একটি স্বতন্ত্র চেহারা ফুটে উঠেছে।
অন্যদিকে, আলবার্তো চরিত্রে অভিনয় করা কার্লোস গনসালেসের ভাবনা অনুসারে তাঁর পোশাক সাজানো হয়েছে। চরিত্রটি একজন তরুণ ইতিহাসবিদ, যিনি নিজেকে সংযত ও পরিপাটি রাখেন এবং অভিনেতা ফিলিপ সেমুর হফম্যানের পোশাকের ধরন অনুসরণ করেন। তাঁর সাধারণ পোশাকের সঙ্গে যুক্ত করা হয় অভিনেতার দাদার ব্যবহৃত একটি চশমা। ব্যক্তিগত স্মৃতির এই উপাদান চরিত্রটির সাজে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
১৯৩৭ সালের পোশাকে সবুজ, নীল ও মাটির রং
১৯৩৭ সালের যুদ্ধকালীন অংশে সবুজ, নীল, খাকি ও বালুরঙের প্রাধান্য রয়েছে। এই সময়ের পোশাক পরিকল্পনায় অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ফরাসি নির্মাতা ক্লেয়ার দনি পরিচালিত ‘বিউ ট্রাভেল’ চলচ্চিত্র। ১৯৯৯ সালের এই ছবিতে জিবুতিতে অবস্থানরত ফরাসি বিদেশি সৈন্যদলের সদস্যদের ঘিরে একটি সংবেদনশীল মনস্তাত্ত্বিক গল্প বলা হয়েছে।
কোবোসের কাছে সঠিক ধরনের সামরিক পোশাক খুঁজে পাওয়া সহজ ছিল না। বিশেষ করে পোশাকের সবুজ রং কেমন হবে, তা নিয়ে তাঁকে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে। স্পেনের গৃহযুদ্ধ নিয়ে আগেও বহু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। একই সময়ে আরও কয়েকটি যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের কাজ চলায় ১৯৩০-এর দশকের উপযোগী পোশাক সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে পোশাকে পূর্ব ইউরোপীয় আবহ আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি এমন উজ্জ্বল রং ব্যবহার করা হয়েছে, যা ৩৫ মিলিমিটার চলচ্চিত্রে ধারণ করা পোশাকের রঙের গভীরতার কথা মনে করিয়ে দেয়। উদ্দেশ্য ছিল ঐতিহাসিক আবহ বজায় রেখেও পোশাককে সমসাময়িক ও আকর্ষণীয় করে তোলা।
পরিচালকদ্বয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ছিল, ছবির প্রতিটি সময়পর্বে যেন সংবেদনশীলতা ও আকাঙ্ক্ষার অনুভূতি থাকে। চরিত্রগুলোর আকাঙ্ক্ষা দর্শকের কাছেও যেন অনুভবযোগ্য হয়, তাঁরা সেটি চেয়েছিলেন। সে কারণে সৈন্যদের পোশাকেও কিছুটা খেলাচ্ছলে তৈরি নকশা রাখা হয়েছে। যুদ্ধের পোশাকে দেখা এসব চরিত্র শেষ পর্যন্ত তরুণ মানুষ—এই বাস্তবতাও তুলে ধরতে চেয়েছেন নির্মাতারা।
প্রতিটি অভিনেতার জন্য জাতীয়তাবাদী বাহিনীর সৈন্যদের পোশাক আলাদাভাবে তৈরি ও মাপমতো সেলাই করা হয়। মিগেল বার্নার্দেউ অভিনীত চরিত্রের জন্য বিশেষ অন্তর্বাস, রাতের পোশাক ও ব্যান্ডেজও তৈরি করা হয়, যাতে অভিনেতার শারীরিক গড়নের সঙ্গে সেগুলো মানানসই হয়।
পেনেলোপে ক্রুসের পোশাকে ছবির সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত
ছবিতে নেনে চরিত্রে অভিনয় করেছেন পেনেলোপে ক্রুস। তিনি এমন একজন ক্যাবারে শিল্পী, যিনি সাহসী ও ইঙ্গিতপূর্ণ গানের পরিবেশনা করেন। তাঁর পোশাক পরিকল্পনায় কোবোস বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন শরীরের গড়ন, অলংকরণ ও মঞ্চের উপস্থিতিকে।
নেনের প্রথম পরিবেশনায় ক্রুসকে দেখা যায় গভীর গলার কাট ও অলংকরণযুক্ত সাদা গাউনে। পোশাকটি তাঁর চরিত্রের আত্মবিশ্বাস ও মঞ্চের আকর্ষণকে সামনে আনে। অন্য একটি পরিবেশনায় তিনি সামরিক পোশাকের আদলে তৈরি শক্তিশালী নকশার পোশাক পরেন, যার অনুপ্রেরণা এসেছে ১৯৯০-এর দশকের মুগলারের নকশা থেকে। ওই দৃশ্যে বাস্তব একটি ট্যাংকও ব্যবহার করা হয়েছে।
চারপাশে তরুণ পুরুষদের উপস্থিতি থাকলেও ক্রুসের পোশাক ও মঞ্চসজ্জা দৃশ্যের প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে। তাঁর পোশাক শুধু চরিত্রের বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়ায়নি; বরং নেনের ব্যক্তিত্ব, সাহস এবং পরিবেশনার শক্তিকেও তুলে ধরেছে।
কার্লোসের পোশাকে কালো-সাদার নাটকীয় ব্যবহার
১৯৩২ সালের কার্লোস চরিত্রের পোশাকও ছবির উল্লেখযোগ্য অংশ। সে সময় পুরুষদের স্যুট সাধারণত ঋতুভেদে গাঢ় বা খুব হালকা রঙের হতো। এই ঐতিহাসিক প্রবণতা অনুসরণ করে কোবোস কার্লোসের জন্য কালো বা প্রায় কালো এবং সাদা রং বেছে নেন। তাঁর পরিবারের সদস্য ও অভিজাত ক্লাবের অন্যদের পোশাকেও একই রঙের প্রভাব রাখা হয়।
ছবির পোশাক বিভাগে পুরুষদের স্যুট তৈরির দায়িত্বে ছিলেন ২৩ বছর বয়সী বিশেষজ্ঞ মারিও ভিদাল। তিনি কার্লোসের জ্যাকেট এমনভাবে কাটেন, যাতে কাঁধ চওড়া এবং কোমরের অংশ তুলনামূলকভাবে আঁটসাঁট দেখায়। বড় আকারের ল্যাপেল পোশাকে আরও নাটকীয়তা যোগ করে।
পোশাকের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক নিয়ম অনুসরণ করা হলেও নির্মাতারা কেবল সেই সময়ের প্রচলিত ধরন হুবহু পুনর্নির্মাণ করতে চাননি। কার্লোসের পোশাকে এমন একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রাখা হয়েছে, যা প্রথম দেখায় স্পষ্ট না হলেও চরিত্রটির স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলে।
ক্ষুদ্রতম বিবরণেও লোরকার প্রতি শ্রদ্ধা
ছবির দৃশ্যসজ্জাকারী বেয়েসের মতে, চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকেই নিজেদের কাজের খুঁটিনাটিতে গভীর মনোযোগ দিয়েছেন। শুধু প্রধান শিল্পী বা বিভাগীয় প্রধান নন, পর্দার আড়ালে কাজ করা ছোট দলগুলোর সদস্যরাও ছবির বিষয়বস্তুর গুরুত্ব বুঝে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো হাতের লেখা বিশেষজ্ঞের কাজ। লোরকার ‘লা বোলা নেগ্রা’ নাটকের মাত্র চারটি পৃষ্ঠা টিকে আছে। সেই পৃষ্ঠাগুলো মাসের পর মাস ধরে পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞটি লেখকের হাতের লেখার বৈশিষ্ট্য—বিশেষ করে ইংরেজি বর্ণমালার ‘এল’ ও ‘এফ’ অক্ষরের আকৃতি এবং যতিচিহ্নের ব্যবহার—অনুকরণ করার চেষ্টা করেছেন।
এ ধরনের সূক্ষ্ম প্রস্তুতি দেখায়, ছবিটি শুধু ঐতিহাসিক সময়ের বাহ্যিক চেহারা পুনর্নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকতে চায়নি। বরং এর কেন্দ্রে থাকা সাহিত্যিক ঐতিহ্য এবং লোরকার সৃষ্টির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়াও ছিল নির্মাতাদের লক্ষ্য।
‘লা বোলা নেগ্রা’ তাই শুধু তিনটি সময়ের তিনজন মানুষের গল্প নয়। পোশাক, বাস্তব স্থাপনা, রং, আলো এবং ক্ষুদ্রতম নকশার সমন্বয়ে ছবিটি ইতিহাস ও ব্যক্তিগত অনুভূতির মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি করেছে। সামাজিক লজ্জা, আত্মপরিচয় ও প্রতিকূলতার মুখে টিকে থাকার বিষয়গুলোকে দৃশ্যের ভাষায় প্রকাশ করাই এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ছবিটি বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে এটি নেটফ্লিক্সে দেখার সুযোগ পাওয়ার কথা।












