হ্যালোইনকে ঘিরে ফ্যাশন দুনিয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন প্রবণতা। ভৌতিক সাজ, রহস্যময় পোশাক আর ব্যতিক্রমী অনুষঙ্গের চাহিদা বাড়লেও ক্রেতাদের একটি বড় অংশ এখন এমন পোশাকে বিনিয়োগ করতে চাইছেন, যা শুধু ৩১ অক্টোবরের উৎসবেই নয়, বছরের অন্য সময়েও পরা যাবে। বিশেষ করে বিলাসবহুল ফ্যাশন, পুরোনো দিনের সংগ্রহযোগ্য পোশাক এবং স্বতন্ত্র নকশার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
আগে হ্যালোইনের পোশাক কেনার ক্ষেত্রে কম দাম ও সাময়িক ব্যবহারের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেত। এখন সেই ধারণায় পরিবর্তন আসছে। ফ্যাশনসচেতন ক্রেতারা এমন পোশাক খুঁজছেন, যা তাঁদের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করবে, একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যাবে। বিরল পুরোনো পোশাক, বিশেষ নকশার করসেট, লেসের পোশাক এবং নজরকাড়া জ্যাকেট হয়ে উঠছে এই প্রবণতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন এখন বড় বাণিজ্যিক উৎসব। ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির ৭১ শতাংশ ভোক্তা হ্যালোইনের পোশাক কেনার পরিকল্পনা করেছেন। বিভিন্ন বয়সের ক্রেতাদের মিলিয়ে এ খাতে সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ ৪৪০ কোটি ডলার। ডেলয়েটের ২০২৬ সালের হ্যালোইনবিষয়ক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৯২ শতাংশ পরিবার এ উৎসবে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটা মিলিয়ে একটি পরিবারের গড় ব্যয়ের পরিকল্পনা ২১৯ ডলার। জরিপে আরও দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ ক্রেতা অক্টোবর মাস শুরু হওয়ার আগেই প্রথম কেনাকাটা শেষ করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
এই বাজারে ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হলেও প্রতিযোগিতাও রয়েছে। কম দামে পোশাক পাওয়া যায় এমন দোকান, ব্যবহৃত পোশাকের বাজার এবং পুরোনো পোশাকের দোকান ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। দ্য রিয়েলরিয়ালের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ‘হ্যালোইন কস্টিউম’, ‘হ্যালোইন ড্রেস’, ‘হ্যালোইন ব্যাগ’, ‘কোচ হ্যালোইন’ ও ‘মসকিনো হ্যালোইন’-এর মতো শব্দ দিয়ে অনলাইনে অনুসন্ধান বেড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সাধারণ উৎসবের সাজের সঙ্গে ফ্যাশনকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে চাইছেন ক্রেতারা।
ডেলয়েটের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ বাজারে সুপারমার্কেট, ছাড়ের দোকান ও পোশাকের বিশেষ দোকানগুলো হ্যালোইন কেনাকাটায় এগিয়ে রয়েছে। তবে ১০ শতাংশ পরিবার ব্যবহৃত পোশাক, পুনর্বিক্রয়কেন্দ্র ও পুরোনো পোশাকের দোকান থেকে সবচেয়ে বেশি কেনাকাটা করার পরিকল্পনা করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই প্রবণতা জোরালো। চলতি বছরের আগস্টেই টিকটকে হ্যালোইন-সম্পর্কিত পোস্টের সাপ্তাহিক সংখ্যা ৯৩ শতাংশ বেড়েছিল বলে ভোগ বিজনেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তখন এ ধরনের হ্যাশট্যাগযুক্ত পোস্টের মোট সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৭৪ লাখ। গ্রীষ্মকাল থেকেই সেখানে ব্যতিক্রমী ও নির্দিষ্ট ভাবনাভিত্তিক হ্যালোইন সাজের ধারণা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো এখনো এই বাজারের পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেনি। দিলারা ফিন্দিকোগলু, মাতিয়ের ফেকাল ও রিক ওয়েনসের মতো কয়েকটি ব্র্যান্ড এমন নকশা সামনে এনেছে, যা রহস্যময় ও ভৌতিক আবহ তৈরি করলেও উৎসবের পরও ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে হ্যালোইনের পোশাক এখন শুধু এক দিনের সাজ নয়, ব্যক্তিগত ফ্যাশন সংগ্রহের অংশ হয়ে উঠছে।
গথিক সাজ থেকে দৈনন্দিন ফ্যাশন
ফ্যাশনে গথিক বা অন্ধকার, রহস্যময় ও কিছুটা ভৌতিক নকশার জনপ্রিয়তা এই পরিবর্তনকে আরও জোরালো করেছে। গ্যাব্রিয়েট, অ্যামেলিয়া গ্রে ও টিশ উইনস্টকের মতো ফ্যাশন ব্যক্তিত্বদের পোশাকে এ ধরনের নান্দনিকতা দেখা যায়। একসময় যা নির্দিষ্ট উপসংস্কৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন মূলধারার ফ্যাশনেও জায়গা করে নিচ্ছে।
বিলাসবহুল বিপণন ও ফ্যাশন বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে হ্যালোইনের পোশাক কেনা এখন ব্যক্তিগত রুচি প্রকাশের একটি মাধ্যম। তাঁদের কাছে সাজের বিশেষত্ব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু পোশাকটি পরে আর ব্যবহার করা যাবে না—এমন কেনাকাটায় আগ্রহ তুলনামূলক কম।
ব্লুমিংডেলসের ফ্যাশন পরিচালক ডেভিড থিয়েলিবিউল মনে করেন, হ্যালোইন সৃজনশীলতা ও আত্মপ্রকাশের সুযোগ তৈরি করে। তাঁর মতে, বিলাসবহুল পোশাক কেনা ক্রেতাদের অনেকেই অন্য কারও চরিত্র ধারণ করার চেয়ে নিজেদের পরিচিত সাজে কল্পনার নতুন মাত্রা যোগ করতে বেশি আগ্রহী। এই প্রবণতা এমন পোশাক কেনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা উৎসবের পরও ব্যবহার করা যায়।
কম দামি অনুষঙ্গের সঙ্গে দামি পোশাক
ফ্যাশন ও তরুণদের সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান আর্চরাইভালের প্রবৃদ্ধিবিষয়ক প্রধান বেন হার্মসের মতে, বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে সাজের প্রধান আকর্ষণীয় পোশাকটি তৈরি করা। অন্যদিকে, কম দামের ব্র্যান্ডগুলো পরচুলা, শিং বা অন্যান্য অনুষঙ্গের বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারে।
অর্থাৎ, পুরো সাজের জন্য বেশি অর্থ ব্যয় না করেও একটি বিশেষ পোশাকের মাধ্যমে আলাদা পরিচিতি তৈরি করা সম্ভব। তরুণ ক্রেতাদের মধ্যে এই উচ্চমূল্য ও কমমূল্যের পণ্যের সমন্বয় ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে।
আর্চরাইভালের জ্যেষ্ঠ সৃজনশীল কৌশলবিদ অ্যালেক্সিস কওয়ানের মতে, জেন-জি প্রজন্মের ক্রয়ক্ষমতা ও আর্থিক চাপ—দুই বিষয়ই এই প্রবণতায় ভূমিকা রাখছে। ডিপপ, ভিন্টেড ও দ্য রিয়েলরিয়ালের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে কেনা করসেট ও স্কার্টের সঙ্গে কম দামের পরচুলা, শয়তানের শিংয়ের মতো অনুষঙ্গ এবং সাজসজ্জার প্রসাধনী ব্যবহার করছেন অনেকে।
ইন্টারনেট সংস্কৃতিও হ্যালোইনের ফ্যাশনকে প্রভাবিত করছে। অনেকের কাছে এখন শুধু ভয়ংকর দেখানোই উদ্দেশ্য নয়; বরং সাম্প্রতিক জনপ্রিয় সংস্কৃতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচিত বিষয় এবং নির্দিষ্ট ফ্যাশন মুহূর্তের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪ সালে নির্দিষ্ট রুচি ও নাটকীয় উপস্থাপনানির্ভর ‘গে হ্যালোইন’ প্রবণতা আলোচনায় আসে। ২০২৫ সালে জনপ্রিয় হয় নিজের হাতে পোশাক ও সাজ তৈরির ধারণা, যা #DIYCostumes হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি পুরোনো দিনের বিখ্যাত র্যাম্পের পোশাক এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতির বিশেষ মুহূর্ত পুনর্নির্মাণের প্রবণতাও বাড়ে। অভিনেতা হাডসন উইলিয়ামসের আলোচিত মেট গালার পরদিনের সাজ এবং কিম কার্দাশিয়ানের মেয়ে নর্থ ওয়েস্টের গথিক ফ্যাশন অনুকরণের মতো উদাহরণ এ ক্ষেত্রে আলোচনায় এসেছে।
২০২৬ সালে এই প্রবণতা আরও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। আর্চরাইভালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জেন-জি ক্রেতারা এখন এমন পোশাক চান, যা পুনর্বিক্রি করা যাবে কিংবা অন্য সময়েও পরা সম্ভব হবে। যুক্তরাজ্যে পিন্টারেস্টে ‘চিক হ্যালোইন কস্টিউম’ অনুসন্ধান এক বছরে ১৬৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ‘ব্ল্যাক লেস’ অনুসন্ধান বেড়েছে ১৩০ শতাংশ এবং ‘লেদার আউটফিট’ ১২০ শতাংশ।
পুরোনো পোশাকের বাজারে বাড়ছে চাহিদা
ভিনটেজ বা পুরোনো দিনের পোশাকের বাজার এই পরিবর্তনের অন্যতম সুবিধাভোগী। অনন্য নকশা ও বিরল পোশাকের জন্য এসব দোকানের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। খুচরা বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এডিটেডের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ক্রিস্টা করিগানের মতে, পুরোনো পোশাকের দোকানের সঙ্গে স্বতন্ত্রতার প্রতিযোগিতায় বড় ব্র্যান্ডগুলোর পক্ষে জেতা কঠিন। তাই তাদের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠছে দ্রুত পণ্য সরবরাহ এবং জনপ্রিয় চলচ্চিত্র বা চরিত্রের অনুমোদিত নকশা।
জারার হ্যালোইন সংগ্রহে টি-শার্ট, পিটার প্যান কলারের পোশাক এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী নানা পোশাক রয়েছে। এর মধ্যে টিম বার্টনের কর্পস ব্রাইড, এডওয়ার্ড সিজরহ্যান্ডস ও দ্য নাইটমেয়ার বিফোর ক্রিসমাস চলচ্চিত্রের নকশাও রয়েছে। এ ধরনের পোশাক উৎসবের সাজের পাশাপাশি সাধারণ দিনেও ব্যবহার করা সম্ভব।
ফ্যাশন প্ল্যাটফর্ম লিস্টের কিউরেশন ব্যবস্থাপক বারবারা ইয়ানজেকের মতে, পোশাক ও কস্টিউমের মধ্যকার পার্থক্য ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে আসছে। ক্রেতারা এমন পোশাক কিনছেন, যা ৩১ অক্টোবরের পরও স্বাভাবিক পোশাক হিসেবে পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। ফলে হ্যালোইনের সাজের চেয়ে দৈনন্দিন পোশাকের উপযোগিতা এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
লেস, করসেট, আঁটসাঁট পোশাক ও ফিতা দিয়ে বাঁধা বুটের চাহিদা বাড়ার মধ্যেও এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। এসব পোশাকে রোমান্টিক ও রহস্যময় আবহ তৈরি করা যায়। একই সঙ্গে উদারিং হাইটস ও সেন্স অ্যান্ড সেন্সিবিলিটি-এর মতো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের নাটক ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তাও এ ধরনের ফ্যাশনের প্রতি আগ্রহ বাড়াচ্ছে।
সিমোন রোশা, পলিন দুজানকুর ও দিলারা ফিন্দিকোগলুর মতো ব্র্যান্ডের পোশাকে ভিক্টোরীয় যুগের নকশা, কোমল সৌন্দর্য ও নাটকীয়তার মিশ্রণ দেখা যায়। এসব পোশাক বিশেষ অনুষ্ঠানে যেমন পরা যায়, তেমনি দৈনন্দিন সাজেও যুক্ত করা সম্ভব।
চলচ্চিত্রের প্রচার অনুষ্ঠানে তারকাদের পোশাক থেকেও অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন ক্রেতারা। লিস্টের বারবারা ইয়ানজেকের মতে, স্পাইডার-ম্যান ও দ্য ওডিসি চলচ্চিত্রের প্রচারের সময় জেনডায়ার পরা পুরোনো সংগ্রহের পোশাক, বিশেষভাবে তৈরি পোশাক এবং লুই ভুইতো ও শিয়াপারেলির নকশা ফ্যাশনপ্রেমীদের আগ্রহ তৈরি করেছে। এসব সাজের অনুপ্রেরণা নিয়ে এমন পোশাক তৈরি করা যায়, যা হ্যালোইনের বাইরে অন্য অনুষ্ঠানেও ব্যবহারযোগ্য।
র্যাম্পের পুরোনো পোশাকে নতুন আকর্ষণ
পুরোনো দিনের বিখ্যাত র্যাম্পের পোশাক এখন হ্যালোইনের ফ্যাশনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশকের নকশা এবং ফ্যাশন ইতিহাসের পরিচিত মুহূর্তগুলো নতুন করে আলোচনায় আসছে। ২০২৫ সালে ১৯৯৫ সালের এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে টম ফোর্ডের নকশা করা গুচির পোশাকে ম্যাডোনার উপস্থিতি ছিল এমনই একটি আলোচিত উদাহরণ।
বিলাসবহুল ব্যবহৃত পোশাকের বাজার ভেস্টিয়ার কালেক্টিভের স্টাইল ও শিল্পবিষয়ক পরিচালক গায়া গুইরাসিয়ানের মতে, ক্রেতারা এখন শুধু প্রচলিত হ্যালোইন কস্টিউম খুঁজছেন না। বরং নির্দিষ্ট চরিত্র, বিখ্যাত র্যাম্পের মুহূর্ত কিংবা জনপ্রিয় সংস্কৃতির পরিচিত দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার জন্য পোশাক বেছে নিচ্ছেন।
১৯৯০-এর দশকের ভিভিয়েন ওয়েস্টউড, জন গ্যালিয়ানোর সময়কার ডিওর, আলেকজান্ডার ম্যাককুইন, জঁ পল গলতিয়ে ও মুগলারের পুরোনো সংগ্রহের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি নজরকাড়া নকশার তৈরি পোশাকও ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে।
এ ক্ষেত্রে পোশাকের নিজস্ব পরিচিতি গুরুত্বপূর্ণ। এমন নকশা বেছে নেওয়া হচ্ছে, যা দেখলেই নির্দিষ্ট সময়, ফ্যাশনধারা বা সাংস্কৃতিক মুহূর্তের কথা মনে পড়ে। পোশাকটি সরাসরি কস্টিউমের মতো না হলেও সঠিক অনুষঙ্গ ও সাজের মাধ্যমে তা হ্যালোইনের উপযোগী হয়ে ওঠে।
ভিনটেজ পোশাকে মখমল, জ্যাকার্ড কাপড়, ঢেউখেলানো হাতা, স্বচ্ছ কাপড় এবং নজরকাড়া কাটছাঁটের ব্যবহারও বাড়ছে। এসব উপাদান গথিক, মধ্যযুগীয় ও জাদুকরী আবহ তৈরি করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে পুরোনো ফ্যাশনের পরিচিত নকশা ও ঐতিহাসিক অনুষঙ্গ পোশাককে আলাদা বৈশিষ্ট্য দেয়।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ভিনটেজ পোশাকের দোকান টাইমলেস ভিক্সেনের প্রতিষ্ঠাতা লরেন লেপিরের মতে, হ্যালোইন অনেক ক্রেতার জন্য নিজেদের পোশাকের সংগ্রহে ব্যতিক্রমী কিছু যোগ করার সুযোগ। তাঁর দোকানে তারকা ও বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ক্রেতারা বিরল পুরোনো বিলাসবহুল পোশাক খোঁজেন। এসব পোশাকের দুর্লভতা সম্পর্কে সচেতন হওয়ায় তাঁরা তুলনামূলক বেশি অর্থ ব্যয় করতেও আগ্রহী।
একই শহরের আরেকটি দোকান দ্য ভিনটেজ প্রজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা সারাহ জর্ডান বাসও মনে করেন, পোশাকটি বারবার পরা যাবে জানলে ক্রেতারা বেশি অর্থ খরচ করতে রাজি হন। তাঁর উদাহরণ অনুযায়ী, ভিভিয়েন ওয়েস্টউডের একটি করসেট শুধু হ্যালোইনের সাজে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত পোশাকের অংশ হলে কেনাকাটাটি আরও যুক্তিসংগত হয়ে ওঠে।
তাঁর মতে, গথিক নকশার পাশাপাশি মসকিনো, আলেকজান্ডার ম্যাককুইন ও জঁ পল গলতিয়ের মতো ব্র্যান্ডের পুরোনো পোশাকের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। ক্রেতারা এখন আগের চেয়ে বেশি ভেবেচিন্তে কেনাকাটা করছেন। হ্যালোইন তাঁদের কাছে ব্যক্তিগত ফ্যাশন সংগ্রহে নতুন ও ব্যতিক্রমী পোশাক যোগ করার একটি উপলক্ষ হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে, হ্যালোইনের ফ্যাশন এখন এক দিনের সাজের গণ্ডি পেরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে। কম দামের অনুষঙ্গের সঙ্গে বিলাসবহুল পোশাকের সমন্বয়, পুরোনো নকশার পুনরুত্থান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এই পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে। ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন পোশাক তৈরি করা, যা উৎসবের আকর্ষণ ধরে রাখার পাশাপাশি ক্রেতাদের দৈনন্দিন জীবনেও জায়গা করে নিতে পারে।












