বলিউড অভিনেত্রী রবীনা ট্যান্ডনের খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার ধরন দেখলে বোঝা যায়, সুস্থ থাকতে সব সময় কঠোর ডায়েট কিংবা ব্যয়বহুল খাবারের প্রয়োজন হয় না। ঘরোয়া খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং দৈনন্দিন জীবনে কিছু সচেতন অভ্যাসের ওপরই গুরুত্ব দেন তিনি। জন্মদিন উপলক্ষে ২৬ অক্টোবর অভিনেত্রীর জীবনযাপনের এই দিকগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২০ সালের নভেম্বরে পিংকভিলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের খাবার, ব্যায়াম ও ত্বকের যত্ন নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছিলেন তিনি।
রবীনার খাদ্যাভ্যাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, পরিচিত ও সাধারণ খাবারের প্রতি নির্ভরতা। দুপুরের খাবারে ডাল, শাকসবজি ও দই রাখেন তিনি। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলেন এবং সাঁতার, যোগব্যায়াম ও হাঁটার মতো শরীরচর্চাকে প্রাধান্য দেন।
দুপুরের খাবারে ডাল, সবজি ও দই

নিজের প্রতিদিনের খাবার সম্পর্কে রবীনা জানিয়েছিলেন, দুপুরে ডাল, সবজি ও দই খাওয়া তাঁর নিয়মিত অভ্যাস। তাঁর মতে, পেট ভরা রাখা এবং খাবারের মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজন মেটানো গুরুত্বপূর্ণ। দইকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন, কারণ এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক থাকে।
তাঁর এই খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) স্বাস্থ্যকর খাবারবিষয়ক নির্দেশনার বেশ কিছু মিল রয়েছে। সংস্থাটি সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে ফলমূল, শাকসবজি, ডালজাতীয় খাবার, পূর্ণশস্য এবং স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের বিভিন্ন উৎস গ্রহণের পরামর্শ দেয়।
বিভিন্ন ধরনের খাবার খেলে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতেও সুষম খাদ্যাভ্যাস ভূমিকা রাখতে পারে। ডাল থেকে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, সবজি থেকে আঁশ ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান এবং দই থেকে প্রোটিন ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়।
রবীনা আরও জানিয়েছিলেন, খাবার নিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের আগ্রহও রয়েছে। তাঁর স্বামী ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নতুন নতুন রান্নার রেসিপি দেখে খাবার তৈরি করেন।
কোমল পানীয় বাদ, ঘরেই তৈরি হয় ঘি
খাবারের ক্ষেত্রে রবীনা শুধু কী খান, তা নয়, কোন খাবার এড়িয়ে চলেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁদের বাড়িতে ঘরেই ঘি তৈরি করা হয়। সন্তানদেরও কোমল পানীয় এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন তাঁরা।

এ ছাড়া নিজের খামারে উৎপাদিত জৈব হলুদ ব্যবহার করে একটি ঘরোয়া পানীয় তৈরি করেন তাঁরা। এতে থাকে জোয়ান, লবঙ্গ, গোলমরিচ, হলুদ ও আদা। উপকরণগুলো পানিতে ফুটিয়ে তাতে সামান্য ঘি যোগ করা হয়। পরিবারের শিশুদেরও এই পানীয় পান করতে দেওয়া হয় বলে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার সীমিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পানীয়ের পরিবর্তে পুষ্টিকর, কম প্রক্রিয়াজাত খাবার বেছে নেওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার একটি উপায়।
ভারোত্তোলনের চেয়ে সাঁতার ও কার্ডিওতে স্বাচ্ছন্দ্য
শরীরচর্চার ক্ষেত্রেও রবীনা নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও পছন্দকে গুরুত্ব দেন। ভারোত্তোলনের তুলনায় কার্ডিও ব্যায়ামে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি। সাঁতার, যোগব্যায়াম, হাঁটা ও দৌড় তাঁর পছন্দের শরীরচর্চার মধ্যে রয়েছে।
রবীনার মতে, সবার শরীরের ধরন এক নয়। যে ধরনের ব্যায়াম একজনের জন্য উপযোগী, অন্য কারও ক্ষেত্রে সেটি একই রকম কার্যকর বা স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক নাও হতে পারে। তাই নিজের শরীরের সঙ্গে মানানসই ব্যায়াম বেছে নেওয়াই তাঁর রুটিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক পরিশ্রম অথবা ৭৫ মিনিট তীব্র মাত্রার ব্যায়াম করা উচিত। আরও বেশি স্বাস্থ্যগত সুবিধার জন্য মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম সপ্তাহে ৩০০ মিনিট পর্যন্ত বাড়ানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন প্রধান পেশিগুলো শক্তিশালী করার ব্যায়াম করার সুপারিশ রয়েছে।
ত্বকের যত্নেও নিয়মিত পরিচর্যা
শরীরচর্চার পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন রবীনা। তিনি তেল দিয়ে শরীর মালিশ করতে পছন্দ করেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকের শুষ্কতা মোকাবিলায় নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং ও পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছিলেন তিনি।
রবীনার জীবনযাপনের মূল দিকগুলো হলো ঘরোয়া খাবার, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা, পছন্দসই শরীরচর্চা এবং নিয়মিত ত্বকের যত্ন। তবে খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পরিকল্পনা ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং স্বাস্থ্যগত চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।












