বিশ্বজুড়ে ব্যয় কমানো এবং এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের অর্থ জোগাতে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মাইক্রোসফট। প্রযুক্তি জগতের অন্যতম বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর এক-চতুর্থাংশেরও বেশি এ কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন।
সোমবার মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের জন্য এটি স্বেচ্ছামূলক কর্মসূচি। যেসব কর্মী ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে অন্য কোথাও কাজ করার কথা ভাবছেন, তাঁরা আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা নিয়ে আগেভাগেই সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ পাবেন।
মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ বিভাগসহ এআইভিত্তিক বিভিন্ন সেবা, কোপাইলট, অর্থ বিভাগ, মানবসম্পদ, এক্সবক্স এবং উইন্ডোজ ও ডিভাইস বিভাগে কর্মরত যোগ্য কর্মীরা এ প্রস্তাবের আওতায় থাকতে পারেন। তবে বিপণন, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীরা এ কর্মসূচির বাইরে থাকবেন বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় বলেন, যেসব যোগ্য কর্মী প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এ কর্মসূচি নতুন একটি সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মী ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো।
এআই বিনিয়োগের চাপ বাড়ছে
মাইক্রোসফটের এ উদ্যোগের পেছনে বড় কারণ এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ। অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মতো মাইক্রোসফটও এআই পরিচালনার জন্য তথ্যকেন্দ্র ও উন্নত চিপ তৈরিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এ বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত মুনাফা আসবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্নও বাড়ছে।
২০২৬ সালের পুরো বছরে মূলধনি ব্যয় ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এত বড় অঙ্কের ব্যয়ের মধ্যে কর্মী ও পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ মাইক্রোসফটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত বার্ষিক নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মাইক্রোসফটের পূর্ণকালীন কর্মীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার। সে হিসাবে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে তা প্রতিষ্ঠানের কর্মীবাহিনীর উল্লেখযোগ্য অংশকে প্রভাবিত করতে পারে।

বুধবার বাজার বন্ধের পর চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে মাইক্রোসফটের। এর আগে ব্যয় কমানোর এ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মী ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
এর আগেও কর্মী কমিয়েছে মাইক্রোসফট
চলতি বছরেই যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত প্রায় ৯ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। দেশটিতে মাইক্রোসফটের মোট কর্মীর প্রায় ৭ শতাংশের জন্য ওই কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল।
এর আগে জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে ৪ হাজার ৮০০টি পদ বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেয়, যা মোট কর্মীর প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। তখন এক্সবক্সের গেমিং ব্যবসায় পুনর্গঠন এবং সর্বোচ্চ পাঁচটি গেম নির্মাণ স্টুডিও থেকে সরে আসার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। দীর্ঘদিনের বড় বিনিয়োগের পর ওই বিভাগ থেকে আর্থিক মুনাফা বাড়ানোই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য।
নতুন কর্মসূচিটি কানাডা, ভারত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে অংশগ্রহণকারী বিভাগগুলোর ৭০ বা তার নিচের স্তরের যোগ্য কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে মাইক্রোসফট জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু থাকা একটি স্বেচ্ছামূলক কর্মসূচি। আগের স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের কর্মসূচি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্যোগটি তৈরি করা হয়েছে। যোগ্য কর্মীদের পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে।
প্রযুক্তি খাতে নতুন বাস্তবতা
এআই খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একদিকে অবকাঠামো ও উন্নত প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও নজর দিতে হচ্ছে। মাইক্রোসফটের নতুন উদ্যোগ সেই চাপেরই একটি প্রতিফলন।
তবে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ দেওয়ার অর্থ এই নয় যে সবাই চাকরি ছাড়বেন। কর্মসূচিতে কতজন অংশ নেবেন, তা নির্ভর করবে কর্মীদের সিদ্ধান্ত এবং প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত শর্তের ওপর।












