বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার ভারতের শেয়ারবাজারে দুর্বল সূচনা হতে পারে। বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রধান সূচক নিফটি ৫০ প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় লেনদেন শুরু করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবেও চাপ তৈরি করছে।
সোমবার ভারতীয় সময় সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে গিফট নিফটি ফিউচারসের অবস্থান ছিল ২২ হাজার ৬০৮ পয়েন্টে। শুক্রবার নিফটি ৫০ বন্ধ হয়েছিল ২২ হাজার ৬০০ পয়েন্টে। এই ব্যবধান বাজারের সূচনায় বড় ধরনের উত্থান বা পতনের সম্ভাবনা কম থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তেলের দাম ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত
গত সপ্তাহে ভারতের প্রধান দুই শেয়ারসূচক নিফটি ৫০ ও বিএসই সেনসেক্স যথাক্রমে ২ দশমিক ৪ শতাংশ ও ২ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। চারটি লেনদেন দিবসেই সূচক দুটিতে পতন হয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ছিল এই দুর্বলতার প্রধান কারণ।

সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। শুক্রবার ভারতীয় বাজার বন্ধ হওয়ার পর দাম বেড়ে প্রায় ছয় মাসের সর্বোচ্চ ১১৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। পরে কিছুটা কমলেও সৌদি আরবে চলমান হামলার কারণে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
ভারত আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় উঁচু থাকলে দেশটির মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে জ্বালানি বাজারের গতিবিধি এখন বিনিয়োগকারীদের অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
এদিকে জাপান বাদে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারের এমএসসিআই সূচক সোমবার ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। আঞ্চলিক বাজারের এই দুর্বলতাও ভারতের শেয়ারবাজারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ফেডের সুদের হার নিয়ে সতর্ক বিনিয়োগকারীরা
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব অর্থনীতিবিদের ধারণা, ফেড এ সপ্তাহে সুদের হার বাড়াবে না; তবে ডিসেম্বরে হার বাড়াতে পারে।
মূল্যস্ফীতির চাপ সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি তৈরি করলেও নীতিনির্ধারকেরা আপাতত সতর্ক অবস্থান নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়লে ডলার ও মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এতে ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কমার ঝুঁকি থাকে।

তবে সাম্প্রতিক লেনদেনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কিছুটা সমর্থন এসেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের শেয়ারবাজারে ৮৯০ কোটি রুপি বা প্রায় ৯ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ডলারের শেয়ার কিনেছেন। গত পাঁচটি লেনদেন দিবসের মধ্যে তিন দিন তাঁরা নিট ক্রেতা ছিলেন।
যেসব কোম্পানির শেয়ারে নজর
বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে কয়েকটি বড় কোম্পানির আর্থিক ফলাফল ও ব্যবসায়িক পূর্বাভাস।
তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনফোসিস উত্তর আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ বাজারে দুর্বলতা বাড়ায় বার্ষিক রাজস্ব বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসার প্রচলিত তথ্যপ্রযুক্তি সেবা খাতের ব্যবসায়িক মডেলে কীভাবে প্রভাব ফেলছে, এই পূর্বাভাস তা সামনে এনেছে।
অন্যদিকে কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি এবং অনাদায়ী ঋণের বিপরীতে কম সংস্থান রাখার কারণে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ত্রৈমাসিক মুনাফা করেছে। ওষুধ উৎপাদনকারী ড. রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো মুনাফা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ধীরগতির প্রভাব দেশীয় চাহিদা কিছুটা সামাল দিয়েছে।
তেলের দাম, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং ফেডের সিদ্ধান্ত—এই তিনটি বিষয় ভারতের শেয়ারবাজারের স্বল্পমেয়াদি গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বড় কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফলও বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।












