বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) রবি ও বাংলালিংকের গ্রাহকদের জন্য মোবাইল ব্যালান্স দিয়ে কেনাকাটার সীমা ১৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে। নতুন সীমায় একজন গ্রাহক মাসে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা এবং বছরে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত কিনতে পারবেন। আগে এই সীমা ছিল মাসে ২,০০০ টাকা আর বছরে ২০,০০০ টাকা, যা বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছরের ডিসেম্বরে সাময়িকভাবে ঠিক করেছিল।
অনুমোদনটি ছয় মাসের জন্য, আর এর গণনা শুরু হয়েছে ২০ জুলাই ২০২৬ থেকে। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত পরে এলেও তা পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর ধরা হবে। রবি ও বাংলালিংক আবেদন করেছিল ২৫ আগস্ট, আর বিটিআরসি শর্ত জানিয়ে চিঠি পাঠায় ১৩ সেপ্টেম্বর। গ্রামীণফোন আগেই এই উঁচু সীমার অনুমোদন পেয়েছিল। কমিশন বলছে, বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। উঁচু সীমা একটি অপারেটরের হাতেই থাকলে বড় অপারেটর অন্যায্য সুবিধা পেত।
এ ব্যবস্থার নাম ডাইরেক্ট অপারেটর বিলিং। এতে গ্রাহক কোনো পণ্য বা সেবা কিনলে দাম সরাসরি মোবাইল ব্যালান্স থেকে কেটে নেওয়া হয়, কার্ড বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের দরকার পড়ে না। ২০১৮ সালে চালুর সময় সীমা ছিল মাসে ৬০০ টাকা আর বছরে ৩,০০০ টাকা। নতুন সীমায় মোবাইল ব্যালান্স দিয়ে কেনাকাটা অনেক বড় পরিসরে করা সম্ভব হবে। ডিজিটাল পণ্য ও সেবার পাশাপাশি স্মার্টফোন, সিমভিত্তিক মডেম ও রাউটারও কেনা যাবে, একবারে পুরো দাম দিয়ে অথবা কিস্তিতে।
তবে সব কিছু এই পথে কেনা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগ অ্যাপ ও গেমের ভার্চুয়াল মুদ্রা, যেমন কয়েন, পয়েন্ট, ক্রেডিট, কুপন, ডায়মন্ড ও জেম কেনা নিষিদ্ধ। যেসব অ্যাপ জনসাধারণের কাছ থেকে বিনিয়োগ সংগ্রহ করে, ঋণ দেয়, অর্থ জমা রাখে বা আর্থিক লেনদেনের সুবিধা দেয়, সেগুলোতেও মোবাইল ব্যালান্স ব্যবহার করা যাবে না। জুয়া, ক্যাসিনো, লটারি, ক্রিপ্টোকারেন্সি, বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন, শেয়ারবাজারে লেনদেন এবং মাল্টি-লেভেল মার্কেটিংও বাদ। বিটিআরসির বক্তব্য, সীমা বাড়ার মানে এই নয় যে গ্রাহকেরা মোবাইল ব্যালান্সকে যথেচ্ছ ডিজিটাল টাকার মতো ব্যবহার করতে পারবেন।
অপারেটরদের জন্যও কড়া শর্ত আছে। গ্রাহকের পরিচয় যাচাই বা কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে হবে। গ্রাহক যা কিনছেন তা যেন সত্যিই পান, সেটা নিশ্চিত করতে হবে এবং ফেরত ও অর্থ ফেরতের নিয়ম রাখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যবস্থা তদারক করবে। যাঁদের কার্ড বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, তাঁদের জন্য মোবাইল ব্যালান্স দিয়ে কেনাকাটা একটি সহজ পথ হতে পারে। তবে অনুমোদন ছয় মাসের, তাই মেয়াদ শেষে সীমা কী থাকবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কোনো কিছু কেনার আগে গ্রাহকদের উচিত অপারেটরের শর্ত ও ফেরতের নিয়ম দেখে নেওয়া।












