পাকিস্তানে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ ও গুজবের মধ্যে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পেট্রোল কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পেট্রোলিয়াম ডিলাররা। তাঁদের সতর্কবার্তা, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কেনার প্রবণতা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, জ্বালানির ওপর আরোপিত লেভি কমানোর দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ও সরকারের আলোচনা এখনো সমাধানে পৌঁছায়নি।
শুক্রবার পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (পিপিডিএ) চেয়ারম্যান মালিক খুদা বখশ সাংবাদিকদের বলেন, সরকার, জ্বালানি শিল্প ও ভোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখতে কাজ করছে। তাঁর দাবি, দেশে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।
পেট্রোল-ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক, চাপে এলপিজি
মালিক খুদা বখশ জানান, পাকিস্তানের তেল শোধনাগারগুলো চালু রয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে। তাঁর মতে, সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জ্বালানির দাম একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।
তবে সম্প্রতি ইরান সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজার চাপে পড়েছে বলে জানান তিনি।
পিপিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, অতীতে পেট্রোল পাম্পে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় কোনো কোনো এলাকায় কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছিল। জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লে গ্রাহকদের অতিরিক্ত কেনাকাটা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
২০০১ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর সময়ও পাকিস্তানে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে গুজব ও আতঙ্ক ছড়িয়েছিল বলে স্মরণ করেন তিনি। তবে সে সময় পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ অব্যাহত ছিল বলে জানান মালিক খুদা বখশ। বর্তমান পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।
নভেম্বরে ডিজেলের চাহিদা ৭ লাখ ৫০ হাজার টন
জ্বালানি শিল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী, কৃষিকাজের মৌসুমি চাহিদার কারণে ২০২৬ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টন হতে পারে। দেশের মোট ডিজেল চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ স্থানীয় শোধনাগারগুলো থেকে সরবরাহ করা হয়। তবে এসব শোধনাগারে ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেলের বড় অংশই আমদানি করা।
নভেম্বরে পেট্রোলের চাহিদা প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার টন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির মোট পেট্রোল ব্যবহারের প্রায় ৩০ শতাংশ স্থানীয় উৎপাদন থেকে আসে।
জ্বালানি শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, উচ্চমূল্য এবং ভ্রমণের তুলনামূলক কম ব্যস্ত মৌসুমের কারণে আগামী মাসে জ্বালানির ব্যবহার সীমিত থাকতে পারে।
লেভি কমাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক চায় জামায়াত
জ্বালানির ওপর আরোপিত লেভি কমানোর দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ও সরকারের আলোচনা এখনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছায়নি। দলটি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে প্রস্তাবিত বৈঠকে জনগণের জন্য অতিরিক্ত স্বস্তির ব্যবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে। বৈঠকটি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আয়োজনের দাবি জানিয়েছে তারা।
পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবালের নেতৃত্বে সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা শেষে জামায়াতের উপপ্রধান লিয়াকত বালুচ সাংবাদিকদের বলেন, দলটি আলোচনা চালিয়ে যাবে, তবে প্রতিবাদের পথও ছাড়বে না।
অমীমাংসিত বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে রয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বিলাল আজহার কায়ানি, জামায়াতের ইসলামাবাদ শাখার আমির নাসরুল্লাহ রন্ধাওয়া এবং উপসচিব সৈয়দ ফরসাত শাহ। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।












