খাদ্য এখন আর শুধু কৃষি উৎপাদন কিংবা মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের বিষয় নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, পানির সংকট, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, অভিবাসন ও শান্তি—বিশ্বের বহু গুরুত্বপূর্ণ সংকটের সঙ্গে খাদ্যব্যবস্থা সরাসরি যুক্ত। ফলে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নটি এখন বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে উঠেছে।
২০২৬ সালের বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আজই উদ্ভাবন, আগামীকাল পুষ্টি’ এই বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করে প্রত্যেক মানুষের কাছে পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দিতে হলে নতুন প্রযুক্তি ও কার্যকর সমাধানের ব্যবহার বাড়াতে হবে। তবে উদ্ভাবনের গুরুত্ব শুধু নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারে সীমাবদ্ধ নয়। সেই প্রযুক্তি কত দ্রুত মানুষের কাজে লাগানো যায়, কতটা বিস্তৃত পরিসরে তার সুফল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব এবং সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী কতটা উপকৃত হয়—সেটিই হবে আসল বিবেচনা।
বিশ্বের কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা একই সঙ্গে নানা চাপের মুখে রয়েছে। এল নিনোর মতো জলবায়ুগত প্রভাব থেকে শুরু করে খরা, বন্যা ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা কৃষি উৎপাদনকে অনিশ্চিত করে তুলছে। সংঘাত ব্যাহত করছে উৎপাদন ও বাণিজ্য। হরমুজ প্রণালি ও কৃষ্ণসাগর ঘিরে সংকট দেখিয়েছে, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা কীভাবে খাদ্য ও জ্বালানির বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পানির ক্রমবর্ধমান সংকট, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া। ক্ষুধা এখনো ব্যাপক, আর অপুষ্টিও নানা রূপে টিকে আছে।
এই সংকটগুলোর সমাধানে জ্ঞান, প্রযুক্তি কিংবা সম্পদের অভাবই প্রধান বাধা নয়। বড় প্রশ্ন হলো, বিদ্যমান সক্ষমতাকে প্রয়োজনীয় গতি ও পরিসরে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করা যাচ্ছে কি না।
আট দশকের বেশি সময় ধরে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণ, নির্ভরযোগ্য জ্ঞান তৈরি এবং দেশগুলোকে খাদ্যনিরাপত্তা অর্জনে সহায়তা করার মধ্য দিয়ে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। খাদ্যনিরাপত্তা যে একটি মৌলিক মানবাধিকার, সেই স্বীকৃতিকে বাস্তবে কার্যকর করতেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এফএওর ভূমিকা আরও বিস্তৃত হওয়া দরকার। শুধু সংকট মোকাবিলায় সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে নয়, বরং কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় পরিমাপযোগ্য পরিবর্তন আনতে সক্ষম একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য বাস্তবায়নের জন্য এটাই সংস্থাটির সামনে প্রধান দায়িত্ব।
সংকট মোকাবিলার চেয়ে প্রতিরোধে গুরুত্ব
দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তা করা এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া জীবিকা পুনর্গঠনে সাহায্য করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিজ্ঞতা বেড়েছে। কিন্তু এই সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় পদক্ষেপ নেওয়া হয় তখনই, যখন কৃষকের জীবিকা বিপর্যস্ত, উৎপাদনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী গভীর সংকটে পড়ে।
প্রযুক্তির অগ্রগতি এখন এই চিত্র বদলানোর সুযোগ তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপগ্রহচিত্র, পূর্বাভাসভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং উন্নত জলবায়ু পূর্বাভাসের মাধ্যমে কয়েক মাস আগেই খরা, বন্যা, ফসলের রোগবালাই কিংবা অন্যান্য বিপদের লক্ষণ শনাক্ত করা সম্ভব। এসব তথ্য কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে বিপর্যয়ের পর ক্ষতি সামাল দেওয়ার পরিবর্তে আগেই ঝুঁকি কমানো যাবে।
এই পরিবর্তনের তাৎপর্য শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানবিকও। কৃষকের জমি, ফসল ও আয়ের উৎস রক্ষা করা গেলে দুর্যোগের পর দীর্ঘ পুনর্বাসনের প্রয়োজন কমে। একই সঙ্গে খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন এবং স্থানীয় অর্থনীতির ক্ষতিও সীমিত রাখা সম্ভব হয়। আগাম পদক্ষেপে বিনিয়োগের ফলে পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে একাধিক গুণ বেশি অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যেতে পারে—এমন প্রমাণও রয়েছে।
এফএওর উচিত এই আগাম প্রস্তুতিনির্ভর ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। দুর্যোগের পর সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা বজায় রেখেই সংকটের পূর্বাভাস, ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপকে সংস্থাটির কাজের কেন্দ্রে আনতে হবে।
আন্তর্জাতিক সংস্থায় কম আমলাতন্ত্র, বেশি কার্যকর উদ্যোগ
প্রযুক্তি ও তথ্যের উন্নতি একা যথেষ্ট নয়। সেগুলো ব্যবহার করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করার মতো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও প্রয়োজন। খরার মুখে পড়া একজন কৃষকের পক্ষে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে জরুরি পরিস্থিতিতে থাকা কোনো সরকারের পক্ষেও জটিল অনুমোদনব্যবস্থার স্তর পেরিয়ে দ্রুত সহায়তা পাওয়া কঠিন হতে পারে।

ভবিষ্যতের এফএওকে তাই বৈশ্বিক জ্ঞান ও স্থানীয় বাস্তবতার মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি কৃষক, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জীবনে দৃশ্যমান উন্নতি আনতে হবে। এর জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি।
ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে পারে এবং সীমিত সম্পদকে সরাসরি কাজের জন্য ব্যবহার করার সুযোগ বাড়াতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্দেশ্য কেবল ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করা নয়; এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে হবে।
জাতিসংঘের সংস্কার নিয়েও একই যুক্তি প্রযোজ্য। ভবিষ্যতের কার্যকর বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানকে শুধু বড় সদর দপ্তর কিংবা বিস্তৃত মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি দিয়ে মূল্যায়ন করা যাবে না। বরং বৈশ্বিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কত দ্রুত স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তব সুফলে রূপান্তর করা যাচ্ছে, সেটিই হবে তাদের কার্যকারিতার প্রধান মানদণ্ড।
দক্ষ জনবল ও নারীর নেতৃত্ব অপরিহার্য
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কেন্দ্রে থাকতে হবে মানুষকে। এফএওর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ তার কর্মীরা। কোনো সংস্থা নিজের কাজের ধরন বদলাতে চাইলে তাকে জনবলের দক্ষতা, নতুন ধারণা এবং নেতৃত্বের বিকাশে বিনিয়োগ করতে হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যবিজ্ঞান ও জটিল ব্যবস্থার পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণে দক্ষ তরুণ পেশাজীবীরা উন্নয়নের বহুমাত্রিক সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। তাই নতুন প্রজন্মের দক্ষতাকে কাজে লাগানো এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়ানো দরকার।
একইভাবে কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় নারীর ভূমিকা আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও খাদ্য সরবরাহের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও জমির মালিকানা, অর্থায়ন, প্রযুক্তি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁরা এখনো নানা বাধার মুখোমুখি হন।
এই বৈষম্য দূর করা শুধু ন্যায্যতার প্রশ্ন নয়। নারীর সম্পদ ও সুযোগের ওপর প্রবেশাধিকার বাড়লে উৎপাদনশীলতা, খাদ্যনিরাপত্তা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাও শক্তিশালী হতে পারে। ফলে নারী নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণকে উন্নয়ননীতির প্রান্তিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি খাদ্যব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার অংশ।

কম সম্পদে বেশি উৎপাদন, কিন্তু সুফল পৌঁছাতে হবে সবার কাছে
ভবিষ্যতের কৃষি উন্নয়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানো এবং সেই উৎপাদনের সুফল আরও ন্যায়সংগতভাবে বণ্টন করা। জলবায়ু সহনশীল কৃষি, টেকসই পশুপালন, উন্নত সেচব্যবস্থা, জীবপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল পরামর্শসেবা এবং সমুদ্রসম্পদভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়ন এ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
তবে প্রযুক্তির ব্যবহারকে জলবায়ু অভিযোজনের বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। কৃষি উন্নয়নের প্রতিটি পর্যায়ে বিবেচনা করতে হবে, পরিবর্তিত তাপমাত্রা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, পানির স্বল্পতা এবং অন্যান্য পরিবেশগত চাপের সঙ্গে উৎপাদনব্যবস্থা কীভাবে খাপ খাইয়ে নেবে।
এ ক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগ প্রয়োজন ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ, পার্বত্য অঞ্চল, শুষ্ক ও অর্ধশুষ্ক এলাকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাবের মুখে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রতি। এসব অঞ্চলের দুর্বলতা শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়। তাদের কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা বিপর্যস্ত হলে বৃহত্তর সরবরাহব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই তাদের সহনশীলতা বাড়ানো বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করারই অংশ।
একই সঙ্গে উদ্ভাবনের সুফল যেন কেবল সম্পদশালী দেশ, বড় কৃষি প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা উৎপাদকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রযুক্তি যদি বিদ্যমান বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দেয়, তবে তার উন্নয়নমূলক সম্ভাবনা পূর্ণতা পাবে না। বরং ক্ষুদ্র কৃষক ও ঝুঁকিতে থাকা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং কার্যকর সমাধান পৌঁছে দেওয়াই হবে এফএওর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
এ জন্য উদ্ভাবনকে এমন একটি বৈশ্বিক জনকল্যাণমূলক সম্পদে রূপ দিতে হবে, যার সুফল বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি তার ব্যবহারযোগ্যতা, ব্যয়, প্রাপ্যতা এবং স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সাফল্যের মাপকাঠি হবে বাস্তব পরিবর্তন
খাদ্যনিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার—দুটিই প্রয়োজন। কিন্তু এগুলোর কোনোটিই নিজের মধ্যে চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। শেষ পর্যন্ত বিচার করতে হবে, এসব উদ্যোগ মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন আনছে।
ক্ষুধা কমছে কি না, কৃষকের জীবিকা আগের তুলনায় বেশি সুরক্ষিত হচ্ছে কি না, জলবায়ুগত বিপর্যয় মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ছে কি না এবং পুষ্টিকর খাবার আরও বেশি মানুষের নাগালে আসছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরেই এফএওর কাজের কার্যকারিতা প্রতিফলিত হওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করবে তার ঘোষিত লক্ষ্য ও বাস্তব ফলাফলের মধ্যকার ব্যবধান কতটা কমানো যাচ্ছে, তার ওপর।
বিশ্ব খাদ্য দিবসের বার্তাও তাই প্রযুক্তির উদযাপনে সীমাবদ্ধ নয়। উদ্ভাবনের মূল্য তখনই, যখন তা মানুষের জীবন উন্নত করে, সমাজের সংকট মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়ায় এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে।
বিশ্বের আরেকটি দশক যদি স্থায়ী সংকট সামাল দিতেই ব্যয় হয়, তবে খাদ্যনিরাপত্তার কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। এখন প্রয়োজন এমন একটি সময়পর্ব, যেখানে সংকটের পূর্বাভাস ও প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, প্রযুক্তির সুফল বাস্তব কাজে লাগানো হবে এবং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যাদের, তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে।
আজ উদ্ভাবন করে আগামীকালকে পুষ্ট করা বলতে এটাই বোঝায়। ভবিষ্যতের কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার জন্য এমন দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য। আর সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে এফএওকে কেবল জ্ঞান ও নীতির উৎস হিসেবে নয়, বাস্তব পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম একটি কার্যকর বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে হবে।
লেখক: মাউরিজিও মার্তিনা, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) উপমহাপরিচালক।












