ভারতের দিল্লিতে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচিতে (এসআইআর) খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তবে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ২২ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৫৪টি। ভারতের নির্বাচন কমিশনের দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার দপ্তর শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি নতুন ভোটারদের আবেদনও এই সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত। এর আগে, খসড়া তালিকা প্রকাশের পূর্বে আরও ২ লাখ ১২ হাজার ৪০০টি ফরম-৬ আবেদন জমা পড়েছিল।
যাচাইয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে প্রায় ২৯ লাখ ৫০ হাজার নাম
নির্বাচনী কর্মকর্তার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৩ লাখ ভোটারের নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ২০০২ সালের মূল ভোটার তালিকার সঙ্গে যোগসূত্র না থাকা কিংবা তথ্যের যৌক্তিক অসংগতির কারণে তাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২৯ লাখ ৫০ হাজার জনের বিষয়ে যাচাই-সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তি হয়েছে।
কোনো ব্যক্তি তাঁদের অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে ফরম-৭ দিয়ে আপত্তি না জানালে বা নাম বাদ দেওয়ার আবেদন না করলে এই ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকায় থাকার কথা। আপত্তি জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করা হবে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ফরম-৬ আবেদন জমা পড়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৭০টি। এই সময়ের মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম ফেরাতে ও নতুন ভোটারদের নিবন্ধনে সহায়তা দিতে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ শিবিরও আয়োজন করা হয়েছে। দিল্লিতে প্রথম শিবিরটি বসে ২০ সেপ্টেম্বর। এরপর কর্তৃপক্ষ প্রায় ৮৯ হাজার শিবির আয়োজন করেছে বলে জানিয়েছে মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার দপ্তর।
পশ্চিম দিল্লিতে সবচেয়ে বেশি আবেদন
জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৩০ হাজার ৩৬১টি আবেদন জমা পড়েছে পশ্চিম দিল্লিতে। এরপর উত্তর-পশ্চিম দিল্লিতে ২৫ হাজার ৯২৫টি এবং পূর্ব দিল্লিতে ২৪ হাজার ২০০টি আবেদন এসেছে। দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লিতে আবেদন জমা পড়েছে ২৪ হাজার ১৫৩টি।
অন্যদিকে, নয়াদিল্লি জেলায় সবচেয়ে কম ৪ হাজার ৩৪১টি আবেদন জমা হয়েছে। পুরোনো দিল্লিতে ১০ হাজার ৬৬৮টি এবং মধ্য দিল্লিতে ১০ হাজার ৭৯৬টি আবেদন এসেছে।
অন্যান্য জেলার মধ্যে উত্তর দিল্লিতে ১৮ হাজার ৪৫১টি, উত্তর-বহির্ভাগে ১৭ হাজার ৯৯১টি, মধ্য-উত্তর দিল্লিতে ১৬ হাজার ৩১২টি, দক্ষিণ দিল্লিতে ২১ হাজার ৩২২টি, দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লিতে ২২ হাজার ৯৮টি এবং উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ২৪ হাজার ১৩৬টি আবেদন জমা পড়েছে।
আবেদন নিষ্পত্তির শেষ সময় ৩০ নভেম্বর
দিল্লিতে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচি শুরু হয় ৩০ জুন। তখন ভোটার তালিকায় ছিল প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ। ৩১ আগস্ট প্রকাশিত খসড়া তালিকা থেকে অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত ও দ্বৈত নিবন্ধনভুক্ত ভোটার—এই চার শ্রেণিতে প্রায় ৪৭ লাখ ৬০ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ফরম-৬, নাম বাদ দেওয়ার আপত্তিতে ফরম-৭ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধনে ফরম-৮ জমা দেওয়ার সুযোগ ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত থাকবে। যৌক্তিক অসংগতির কারণে চিহ্নিত তথ্যের বিষয়গুলোও এই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
সব দাবি ও আপত্তির আবেদন ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। এরপর ৪ ডিসেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে।
নাম বাদ পড়াদের তালিকায় ফেরানোর উদ্যোগ
নির্বাচন কর্মকর্তাদের একজন জানিয়েছেন, বিশেষ শিবির আয়োজনের পরও আবেদনসংখ্যা তুলনামূলক কম। তাঁর মতে, নতুন আবেদনকারীদের প্রায় অর্ধেকই প্রথমবারের ভোটার। তবে নাম বাদ পড়া ভোটারদের তালিকায় ফিরিয়ে আনতে মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
জেলাপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু ভোটার একাধিক পরিচয়পত্র থাকলে নিজেদের আদি এলাকার ভোটার তালিকায় নাম রাখতেই বেশি আগ্রহী। নয়াদিল্লির এক নির্বাচনী কর্মকর্তা জানান, সরকারি আবাসন ও প্রশাসনিক এলাকার অনেক বাসিন্দা অন্যত্র চলে যাওয়ায় তাঁদের নাম বাদ দিতে হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা লুটিয়েন্স দিল্লির ঠিকানা ছেড়ে গুরুগ্রাম বা নিজ এলাকায় চলে গেছেন। তাঁদের বর্তমান আবাসস্থলে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বুথপর্যায়ের কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খসড়া তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থা যাচাই করছেন। যোগ্য ব্যক্তিদের ফরম-৬ পূরণ করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ করে দেওয়াও এই উদ্যোগের লক্ষ্য।












