যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দেশটির তরুণ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ নিজেদের বিনিয়োগের কৌশল নতুন করে সাজাচ্ছেন। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তন এবং এআই খাতের শেয়ার নিয়ে উদ্বেগের কারণে তাঁরা পোর্টফোলিওতে পরিবর্তন আনছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জেন-জি বিনিয়োগ নিয়ে এই প্রবণতা এখন বাজারের নজরে।
২২ বছর বয়সী ব্র্যান্ডন গাও যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের প্রকৌশলের শিক্ষার্থী ও বিনিয়োগকারী। মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় তিনি নগদ অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে রেখেছেন। একই সঙ্গে এআই নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার ওপর বেশি নির্ভরশীল ছোট ও নতুন কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করছেন। তাঁর আশঙ্কা, নির্বাচনের আগে অনিশ্চয়তা বাড়লে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি চাপে পড়তে পারে।
বড় প্রযুক্তি কোম্পানিতে আস্থা
কিছু শেয়ার বিক্রি করলেও গাও বড় ও প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আস্থা হারাননি। মাইক্রোসফট, গুগল, এনভিডিয়া ও অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানে তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এসব কোম্পানিতে অবস্থান আরও কিছুটা বাড়িয়েছেন। তাঁর যুক্তি, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ভিত্তি তুলনামূলক শক্তিশালী।
গাওয়ের পোর্টফোলিওতে ক্রিপ্টোকারেন্সি, সোনা ও রুপা মিলিয়ে প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ রয়েছে। বিনিময়-বাণিজ্য তহবিল বা ইটিএফের অংশ প্রায় ৩০ শতাংশ, আর বাকি প্রায় ৬০ শতাংশ বিভিন্ন কোম্পানির পৃথক শেয়ারে। তবে নির্বাচনের আশঙ্কায় তিনি অবসরকালীন সঞ্চয়ে কোনো পরিবর্তন আনেননি।
তিন-চতুর্থাংশ বিনিয়োগকারী পরিবর্তন এনেছেন
ন্যাশনওয়াইড রিটায়ারমেন্ট ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল বিবেচনায় জেন-জির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বিনিয়োগকারী অবসরকালীন সঞ্চয় বা বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে পরিবর্তন এনেছেন। বেবি বুমার প্রজন্মের মধ্যে এমন পরিবর্তন এনেছেন মাত্র ১৭ শতাংশ। জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের দুই হাজারের বেশি বিনিয়োগকারীর মতামত নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জেন-জি বিনিয়োগকারীরা তাই রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে তুলনামূলক বেশি সক্রিয়।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই গুরুত্বপূর্ণ
উইসকনসিনভিত্তিক আর্থিক পরিকল্পনাবিদ ও ক্যাপিটাল গ্রুপের ব্যক্তিগত সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা টাইলার ম্যাককনভিল বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় কোন তথ্য সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ, তা নির্ধারণ করাই বিনিয়োগকারীদের বড় চ্যালেঞ্জ। করনীতি, বাণিজ্যনীতি ও প্রযুক্তি খাতের বিধিনিষেধ ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি, সুদের হার ও কোম্পানিগুলোর আয়ও শেয়ারবাজারের গতিপথ ঠিক করে।
ম্যাককনভিলের মতে, স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক উদ্বেগের ভিত্তিতে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম বড় ঝুঁকি। তাই রাজনৈতিক শিরোনাম দেখে তাড়াহুড়ো না করে বিনিয়োগের উদ্দেশ্য, সময়সীমা ও ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য বিবেচনা করা জরুরি। বিনিয়োগ ছড়িয়ে রাখলে ঝুঁকি কমে, তবে বাজারের সামগ্রিক পতনের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না।












