এইচএসসির ফল প্রকাশ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো একটি বিজ্ঞপ্তিকে ভুয়া বলে জানিয়েছে ইন্টার বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। ওই বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২৯ অক্টোবর সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে। কমিটি বলছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত শিক্ষা বোর্ডগুলো নেয়নি। ফলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এই তথ্যের ওপর ভরসা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এইচএসসির ফল প্রকাশ কবে হবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বিষয়টি স্পষ্ট করে। বিজ্ঞপ্তিতে সই করেছেন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু। তিনি ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকও। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিজ্ঞপ্তিকে তাঁরা বর্ণনা করেছেন “সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” হিসেবে। বোর্ডগুলোর সঙ্গে ওই বিজ্ঞপ্তির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও জানানো হয়েছে।
কমিটি আরও জানিয়েছে, পরীক্ষা ও ফল নিয়ে সব সিদ্ধান্ত, বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনা প্রকাশ করা হয় নির্দিষ্ট কয়েকটি মাধ্যমে। সেগুলো হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়, আন্তবোর্ড সমন্বয় কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ। পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও কেন্দ্রসচিবসহ সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা শেয়ার করবেন না। গুজব আর বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি অনেক সময় দেখতে সরকারি চিঠির মতোই লাগে। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল আর নকল আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই চিঠির ভাষা বা সিল দেখে নয়, কোন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সেটি দেখেই যাচাই করা উচিত। পরীক্ষার্থীরা চাইলে নিজের শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কাছ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিতে পারেন।
এখন পর্যন্ত ফলের আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা হয়নি। সম্ভাব্য সময় নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও বোর্ডগুলো চূড়ান্ত দিন জানায়নি। অর্থাৎ ২৯ অক্টোবরের বার্তাটি যেমন ভিত্তিহীন, তেমনি অন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন নিয়ে ছড়ানো তথ্যও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে নিশ্চিত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এইচএসসির ফল প্রকাশ নিয়ে কোনো বার্তা পেলে আগে দেখে নিন, একই কথা ওপরের অফিশিয়াল মাধ্যমগুলোতে আছে কি না।
এমন গুজব সাধারণত ফলের অপেক্ষার সময়ই বেশি ছড়ায়। লাখ লাখ পরীক্ষার্থী আর তাদের পরিবার তখন ফলের দিন জানতে উদগ্রীব থাকে। সেই আগ্রহের সুযোগ নিয়ে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি, অচেনা লিংক বা ফল জানানোর নামে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। তাই কোনো পোস্টের সূত্র অজানা হলে সেটি শেয়ার না করাই নিরাপদ, আর অচেনা লিংকে ঢুকে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়াও এড়িয়ে চলা উচিত।
বাংলাদেশের পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য এই সতর্কতার গুরুত্ব আছে। ফলের তারিখ নিয়ে ভুল ধারণা থাকলে কেউ ভুল সময়ে কেন্দ্রে বা শিক্ষা বোর্ডে ছুটতে পারেন, আবার ভর্তি প্রস্তুতির পরিকল্পনাও এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। বোর্ডগুলো ফল প্রকাশের দিন চূড়ান্ত করলে অফিশিয়াল মাধ্যমেই তা জানাবে। ততদিন ধৈর্য ধরে সেই ঘোষণার অপেক্ষা করাই সবচেয়ে ভালো পথ।












