খুলনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পৃথক তিনটি এলাকায় তিনজনকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের দুই সাবেক নেতা রয়েছেন। অপরজন জাপান টোব্যাকো কোম্পানির কর্মী, যাঁকে গুলি করে তাঁর ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। একের পর এক গুলির ঘটনায় নগরী ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বটিয়াঘাটা উপজেলার চক্রখালী বাজারে যুবদলের সাবেক নেতা অহিদুল ইসলাম বাদলকে গুলি করা হয়। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে একই উপজেলার বড় কড়িয়ায় গুলিবিদ্ধ হন ছাত্রদলের সাবেক নেতা সোহেল শেখ। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে খুলনা নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় গুলি করা হয় জাপান টোব্যাকোর কর্মী সালমান হাওলাদারকে।
যুবদল নেতাকে কাছ থেকে গুলি
প্রত্যক্ষদর্শী ও যুবদলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষে গ্রামে ফিরছিলেন অহিদুল ইসলাম বাদল। জলমা ইউনিয়নের চক্রখালী বাজারে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বাদল জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থীও ছিলেন। তাঁর বাড়ি বটিয়াঘাটা উপজেলার তেঁতুলতলা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম আলতাফ হাওলাদার।
ছাত্রদলের সাবেক নেতার অবস্থা গুরুতর
এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে বটিয়াঘাটার বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেলে বসে ছিলেন আমিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেল শেখ। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
গুলিতে তাঁর ডান হাত ও পেটের ডান পাশে গুরুতর জখম হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। সোহেল বড় কড়িয়া গ্রামের গনি শেখের ছেলে।
খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখান থেকে গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
গুলি করে ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনতাই
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর সড়কে গুলিবিদ্ধ হন সালমান হাওলাদার। তাঁর সহকর্মীদের ভাষ্য, কোম্পানির কার্যালয় থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে ওঠার সময় দুটি মোটরসাইকেলে আসা চারজন দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তাঁর পেটের ডান পাশে গুলি লাগে। পরে তাঁর ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
২৩ বছর বয়সী সালমান জাপান টোব্যাকো কোম্পানিতে অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করেন। তাঁর বাসা নিরালা আবাসিক এলাকার সবুজবাগে।
সহকর্মীরা জানান, সাধারণত প্রতিদিন ওই সময়ে কর্মীরা টাকার ব্যাগ নিয়ে ব্যাংকে যেতেন। তবে মঙ্গলবার সালমান টাকার ব্যাগের পরিবর্তে ল্যাপটপ নিয়ে বের হয়েছিলেন। দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়।
খুলনা থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পাঁচ দিনে গুলিতে নিহত দুই, আহত ছয়
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনে খুলনায় গুলিতে দুজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১০ মাসে জেলায় গুলি, কুপিয়ে বা অন্য উপায়ে ৭১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬৯টি।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরোধের মতো বিষয় কাজ করেছে। তবে সর্বশেষ তিনটি গুলির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা যায়নি।
খুলনায় ২৪ ঘণ্টায় তিনজনকে গুলি করার ঘটনায় নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলার কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার এখন পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।












