জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে কার্যক্রম স্থগিত করেছে বিশ্বভ্রমণে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের আবাসিক প্রমোদতরী ‘দ্য ওডিসি’। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের প্রভাবে জাহাজটির জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কম্বোডিয়ায় আটকে পড়েছেন এর ২০৩ জন যাত্রী। সমুদ্রে বসবাসের সুযোগ নিয়ে তিন বছরের বিশ্বভ্রমণে বের হওয়া এসব যাত্রীর জন্য জাহাজটি ছিল ভাসমান আবাসস্থল।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিলা ভি রেসিডেন্সেস পরিচালিত জাহাজটি দুই বছর আগে যাত্রা শুরু করে। সাত মহাদেশ ঘুরে সমুদ্রে বসবাসের অভিজ্ঞতা দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের লক্ষ্য। কিন্তু জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত যাত্রা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
কেবিনপ্রতি জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আগে প্রতিটি কেবিনের জন্য মাসিক জ্বালানি ব্যয় গড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলার ছিল। এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে সম্প্রতি সেই ব্যয় বেড়ে আনুমানিক ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার ডলারে পৌঁছেছে।
ব্যয় সামাল দিতে জাহাজের গতি কমানো এবং বিভিন্ন বন্দরে অবস্থানের সময় বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য এসব ব্যবস্থা যথেষ্ট হয়নি।
এক বিবৃতিতে ভিলা ভি রেসিডেন্সেস জানিয়েছে, এভাবে পরিচালনাগত লোকসান বহন করে যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। জ্বালানির বাড়তি ব্যয়ের পুরোটা যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও বাস্তবসম্মত বিকল্প নয় বলে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এখন যাত্রী, জাহাজের কর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কার্যক্রম পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
কম্বোডিয়ার বন্দরে থেমে আছে জাহাজ
সিহানুকভিল স্বায়ত্তশাসিত বন্দরের গত সপ্তাহের এক বিবৃতি অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর পাঁচ দিনের অবস্থানের জন্য বন্দরে পৌঁছায় দ্য ওডিসি। সেখান থেকে ভিয়েতনামে যাওয়ার কথা থাকলেও বুধবার পর্যন্ত জাহাজটি কম্বোডিয়ার বন্দরেই ছিল।
জাহাজটিতে ১৫টি দেশের ২০৩ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এ ছাড়া ছিলেন ১৫৬ জন কর্মী। জাহাজটিতে সর্বোচ্চ ৬৫০ জন বাসিন্দার থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
যাত্রীদের জাহাজ ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। তবে কর্মীদের পরবর্তী অবস্থা কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও অনিশ্চয়তা
দ্য ওডিসির ভ্রমণসূচি ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। অর্থাৎ, জ্বালানি ব্যয়ের চাপে কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক বিশ্বভ্রমণের পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ভিলা ভি রেসিডেন্সেস ২০২৯ সালের শুরুতে দ্বিতীয় একটি আবাসিক প্রমোদতরী চালুর পরিকল্পনাও করেছিল। তবে দ্য ওডিসির কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতীয় জাহাজের পরিকল্পনা বহাল থাকবে কি না, তা জানায়নি।
জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি সমুদ্রভ্রমণ ও আবাসিক প্রমোদতরীর ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে, দ্য ওডিসির পরিস্থিতি তার একটি বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং যাত্রীদের আবাসনের ব্যবস্থা কীভাবে করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।












