ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে একই দিনে দুবার টাইব্রেকারে জিতে শেষ আটে উঠেছে বাংলাদেশ। আজারবাইজানে চলা এই টুর্নামেন্টে বুধবার প্রথমে সেশেলসকে এবং পরে সিঙ্গাপুরকে হারিয়েছে লাল-সবুজের কিশোররা। দুই ম্যাচেই নির্ধারিত সময়ে ফল মেলেনি, শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশ পেনাল্টি শুটআউটে। ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের এই প্রথম আসরে নকআউট পর্বের এমন দিন দেশের ফুটবলের জন্য বড় প্রাপ্তি।
সেশেলসের বিপক্ষে ম্যাচে আগে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ মিনিট পাঁচেক আগে সমতা ফেরায় সেশেলস। এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে ৪-২ ব্যবধানে জেতে বাংলাদেশ। এই জয়ের নায়ক গোলরক্ষক শ্রীনাথ হালদার। তিনি টাইব্রেকারে সেশেলসের দুটি শট রুখে দেন। কিশোর বয়সে এমন চাপের মুখে স্নায়ু ধরে রাখা সহজ কাজ নয়, আর সেটাই করে দেখিয়েছেন তিনি।
একই দিনে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল সিঙ্গাপুর। ম্যাচের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের। ১২ মিনিটে নাইমুর রহমান রতনের গোলে এগিয়ে যায় দল, প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে। ৩৬ মিনিটে রতন হলুদ কার্ড দেখেন। দ্বিতীয়ার্ধে সিঙ্গাপুর সমতা ফেরালে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হয়। এরপর আর কোনো দল এগোতে পারেনি।
পেনাল্টি শুটআউটে প্রথম শটটি মিস করে বাংলাদেশ, আর সিঙ্গাপুর এগিয়ে যায়। তবে পরের শটগুলো কাজে লাগিয়ে ফিরে আসে বাংলাদেশ, এক পর্যায়ে সিঙ্গাপুর একটি শট নষ্ট করে। অধিনায়ক ফাহিম হাসান পঞ্চম শটে জাল খুঁজে নিলে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর পরীক্ষায় উতরে যায় বাংলাদেশ।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের পথ সহজ ছিল না। পাঁচ ম্যাচে দলটির এক জয়, দুই ড্র ও দুই হার। ওয়েলসের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল দলটি। ছয় দলের গ্রুপে পঞ্চম স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করেও নকআউটে জায়গা করে নেওয়াটা তাই বাড়তি আনন্দের। গ্রুপের ফল দেখে হতাশ না হয়ে দলটি যে লড়াই চালিয়ে গেছে, সেটাই এখন তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশের জন্য এই সাফল্যের গুরুত্ব অনেক। বয়সভিত্তিক বিশ্বমঞ্চে খেলতে পারা মানে কিশোর ফুটবলাররা বিশ্বের নানা দেশের সমবয়সীদের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা পাচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য কাজে লাগতে পারে। দেশের ফুটবলপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন কোয়ার্টার ফাইনালের দিকে। ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে এই কিশোররা আর কত দূর যেতে পারে, তা দেখার অপেক্ষায় থাকবে পুরো দেশ।
একদিনে দুই ম্যাচ খেলে দুটোতেই টাইব্রেকারে জেতা শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে কঠিন কাজ। ১৫ বছরের নিচের ফুটবলারদের জন্য এটি বড় পরীক্ষা ছিল। এই দলটি দেখিয়েছে যে ধৈর্য, দলবদ্ধতা আর আত্মবিশ্বাস থাকলে বড় মঞ্চেও লড়াই করা যায়। পরের ম্যাচের সূচি ও প্রতিপক্ষ ফিফার ঘোষিত তালিকায় দেখে নেওয়া যাবে।
ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ এবারই প্রথম আয়োজিত হচ্ছে। প্রথম আসরেই নকআউট পর্বে ওঠা তাই বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে নাম লেখানোর মতো ঘটনা। এই কিশোরদের পরিশ্রম ও লড়াইয়ের মনোভাবই দেশের ফুটবলকে নতুন আশা দিয়েছে।
গ্রুপ পর্বে ড্র, হার আর একটি জয়ের পথ পেরিয়ে দলটি এখন শেষ আটে। এই কিশোরদের লড়াইয়ের মনোভাব দেশের ফুটবলপ্রেমীদের নতুন করে আশা দিচ্ছে। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে।












