মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩ উইকেটে ২০৭ রান তুলেছে বাংলাদেশ। দিনের নায়ক ওপেনার সাদমান ইসলাম, যিনি ৯৬ রানে অপরাজিত আছেন। আলোকস্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মাত্র ৪ রানের জন্য প্রথম দিনেই সেঞ্চুরি ছোঁয়া হয়নি তাঁর। দিন শেষে তাঁর সঙ্গী লিটন দাস ৭ রানে অপরাজিত। বুধবার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে দুই দলের এই সিরিজের প্রথম টেস্ট।
সকালে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম ঘণ্টাতেই ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান। জেইডেন সিলসের বলে স্লিপে জাস্টিন গ্রিভসের হাতে ধরা পড়েন তিনি। এরপর সাদমান উইকেটে থিতু হন এবং ধৈর্য নিয়ে ইনিংস গড়তে থাকেন। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৯৬। দ্বিতীয় সেশনেও সাদমান এক প্রান্ত আগলে রাখেন। দিনের শুরুতে উইকেট হারানোর পর চাপ সামলানোই ছিল বড় কাজ। সাদমান সেই কাজটি করেছেন ঠান্ডা মাথায়। অন্য প্রান্তে উইকেট পড়লেও তিনি নিজের খেলায় অটল ছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে এমন ধৈর্যই বড় ইনিংসের ভিত গড়ে।
এই টেস্টের আগে বড় খারাপ খবর ছিল মুশফিকুর রহিমের চোট। মঙ্গলবার সকালের অনুশীলনে ডান হাতের তর্জনীতে চোট পান অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত তাঁকে একাদশের বাইরে রাখা হয়। তাঁর জায়গায় খেলছেন তাওহীদ হৃদয়। একাদশে আছেন লিটন দাসও। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রস্টন চেজ। মুশফিকের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটার না থাকায় অনেকে ব্যাটিং নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। প্রথম দিনের পারফরম্যান্স সেই চিন্তা অনেকটাই কমিয়েছে। তবে চোট সারিয়ে মুশফিক কবে ফিরবেন, সেদিকেও নজর থাকবে টিম ম্যানেজমেন্টের।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এই সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের মাঠে টেস্ট জেতার সুযোগ কাজে লাগাতে চায় দল। মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন সেই লক্ষ্যে একটি শক্ত ভিত তৈরি করেছে। টেস্টে প্রথম ইনিংসে বড় রান করতে পারলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বাড়ানো যায়। মিরপুরের উইকেটে সাধারণত খেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্পিনারদের সুবিধা বাড়ে। তাই প্রথম ইনিংসের রানই পরের দিনগুলোতে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। সমর্থকেরাও চাইছেন, ব্যাটাররা যেন ভালো শুরুটাকে আরও লম্বা করেন। সাদমানের ধৈর্যশীল ব্যাটিং সেই আশাই জাগিয়েছে। তবে টেস্টে প্রথম দিনের রান কেবল শুরু। আসল পরীক্ষা চলে পাঁচ দিন ধরে, প্রতিটি সেশনে। এক সেশনের ভুলে পুরো দিনের পরিশ্রম নষ্ট হতে পারে।
দ্বিতীয় দিনে সবার চোখ থাকবে সাদমানের সেঞ্চুরির দিকে। মাত্র ৪ রান দূরে থেকে রাত কাটাতে হচ্ছে তাঁকে। লিটনের সঙ্গে তাঁর জুটি কত দূর যায়, তার ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশের ইনিংসের আকার। সকালের প্রথম সেশনে নতুন উদ্যম নিয়ে আসবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা। সেই সেশন নিরাপদে পার করতে পারলে বড় সংগ্রহের পথ খুলবে। আলোর সমস্যা নিয়েও ভাবতে হবে দুই দলকে, কারণ শীতের শুরুতে বিকেলে আলো দ্রুত কমে আসে। মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন যে আশার শুরু দিয়েছে, দ্বিতীয় দিনে তা ধরে রাখাই এখন বাংলাদেশের কাজ।












