পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড ১ নভেম্বর, অর্থাৎ রোববার গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ঢাকার শ্রম ভবনে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। শুক্রবার শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টা আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত এসেছে। মন্ত্রী শ্রমিকদের আন্দোলন বন্ধ করে কাজে ফিরতে অনুরোধ করেছেন। নতুন মজুরি কাঠামো ঠিক করার প্রক্রিয়া এই বোর্ডের মাধ্যমেই শুরু হবে।
পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের দাবি মেনে নিয়েছেন কারখানা মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারাও। মন্ত্রী জানান, বকেয়া বেতন নিয়ে এই নেতারা কারখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। যত দ্রুত সম্ভব সেই বকেয়া মেটানোর চেষ্টা হবে। প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় এসেছে। বৈঠকে শ্রম সচিব ও দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনে থাকার এখন আর কোনো কারণ নেই। ভাঙচুর বা কারখানা বন্ধ করারও প্রয়োজন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, এতে উৎপাদন ও পণ্য পাঠানো ব্যাহত হয়, ফলে মালিকদের জন্য বেতন দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বাইরের লোকজন কারখানায় ঢুকে শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রকৃত শ্রমিক ও বিক্ষোভকারীদের আলাদা করতে গণমাধ্যমকে ভিডিও ফুটেজ ব্যবহারের অনুরোধ জানান মন্ত্রী।
গত কয়েক দিন ধরে শ্রমিকদের বিক্ষোভে ঢাকা ও আশপাশের যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শনিবারও মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকেরা। এতে মিরপুরের চারটি এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। আশুলিয়াসহ কয়েকটি এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে। বিক্ষোভ চলাকালে পথচারী ও যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
শ্রম আইন অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি বোর্ডে সরকারের নিযুক্ত চেয়ারম্যান ও একজন স্বাধীন সদস্য থাকেন। সঙ্গে থাকেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের একজন করে প্রতিনিধি। শ্রমমন্ত্রী এর আগে বলেছিলেন, শ্রমিক প্রতিনিধির নাম পেলেই দুই দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হবে। বোর্ড গঠনের পর ন্যূনতম মজুরি কত ঠিক হবে এবং তা কবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছেন লাখ লাখ শ্রমিক ও মালিক।












