সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশা বা ই-রিকশা চালাতে এখন থেকে নিবন্ধন লাগবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬ জারি করেছে। গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এই বিধিমালা কার্যকর হয়েছে। এতে ই-রিকশা কোথায় চলবে, কারা চালাবেন এবং গাড়ি কেমন হবে, তার নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ বছরের আগস্টেই ঢাকার প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিষিদ্ধের পরিকল্পনার কথা শোনা গিয়েছিল।
বিধিমালা অনুযায়ী জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ই-রিকশা চলতে পারবে না। প্রধান বাসরুটেও এর চলাচল নিষিদ্ধ। কর্তৃপক্ষ আলাদা করে যেসব সড়ক নিষিদ্ধ করবে, সেখানেও ই-রিকশা নামানো যাবে না। অর্থাৎ নিবন্ধন পেলেই যেকোনো রাস্তায় চলার সুযোগ মিলছে না। কোন সড়কে চলবে, তা ঠিক করে দেবে কর্তৃপক্ষ।
ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী রুট, এলাকা ও গাড়ির সংখ্যা ঠিক করবে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ। তারা যৌথভাবে প্রতিটি এলাকার জন্য আলাদা রংও নির্ধারণ করবে। একটি এলাকার জন্য অনুমোদিত ই-রিকশা অন্য এলাকায় ঢুকতে পারবে না। এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত রিকশা অন্য সিটি করপোরেশনে চলতে পারবে না। মোট কতগুলো ই-রিকশা চলবে, তা ঠিক করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন। তবে এর জন্য সরকারের আগাম অনুমোদন নিতে হবে।
গাড়ির মান নিয়েও শর্ত আছে। সব ই-রিকশাকে বুয়েটের নির্ধারিত কারিগরি ও নিরাপত্তা মান মানতে হবে। এখন যেসব ই-রিকশা চলছে, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সেগুলোও অনুমোদন পেতে পারে। নিবন্ধনের পর একটি ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর চলতে পারবে, তারপর নিবন্ধন বাতিল হবে। অনিবন্ধিত বা নিষিদ্ধ সড়কে চললে আইনি ব্যবস্থার শরণাপন্ন হওয়ার কথা আছে।
চালক ও মালিকদের প্রথম কাজ হবে নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনে যোগাযোগ করা। আবেদনের বিস্তারিত প্রক্রিয়া সেখান থেকে জেনে নেওয়াই ভালো। যাত্রীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোন সড়কে ই-রিকশা চলতে পারবে, তা এখন নিয়মের আওতায় এসেছে। ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা কার্যকর হওয়ায় শহরের সড়কে বিশৃঙ্খলা কমবে কি না, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে এর প্রয়োগের ওপর।












