ইসরায়েলের নির্বাচন শেষ হলেও ক্ষমতার লড়াই শেষ হয়নি। ফল প্রকাশের পর সরকার গঠন নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট, কেউই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। ফলে ইসরায়েলের সরকার গঠন নির্ভর করছে দলগুলোর সমঝোতা ও দর-কষাকষির ওপর।
১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন লাগে। প্রাথমিক হিসাবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন চারটি বিরোধী তালিকা মিলে পেয়েছে ৪৮টি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর উত্থান। দলগুলো মিলে ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে, যা আগের পার্লামেন্টের ১০টি আসনের প্রায় দ্বিগুণ। এই ১৯টি আসন বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হলে মোট আসন দাঁড়ায় ৬৭। সংখ্যার হিসাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের আছে।
কিন্তু আরব দলগুলোর সঙ্গে কী ধরনের সমঝোতা হবে, তা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যেই মতভেদ আছে। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব থাকলেও সরকার গঠন সহজ নয়।
কার জয়, কার পরাজয়?
নির্বাচনের পর নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট, দুজনই নিজেদের বিজয়ী বলে দাবি করেছেন। নেতানিয়াহুর দল লিকুদ এখনো পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় একক দল। তবে ২০২২ সালের নির্বাচনে পাওয়া ৩২টি আসনের তুলনায় এবার তাদের আসন কমার পূর্বাভাস মিলেছে। পুরো জোটের আসনও আগের ৬৪ থেকে কমে ৫৩-তে নেমেছে।
নির্বাচনের রাতে নেতানিয়াহু দাবি করেন, লিকুদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কেউ নেই। তাঁর ভাষ্য, জায়নবাদী ভোটারদের মধ্যে ডানপন্থীদের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তবে সংসদের হিসাবে তাঁর জোট ৬১ আসন থেকে আটটি আসন পিছিয়ে।
আইজেনকোট বলেছেন, ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান চান। ভোটের আগে প্রকাশিত কয়েকটি বুথফেরত জরিপে দুই শিবিরের কাছাকাছি অবস্থানের ইঙ্গিত ছিল। তবে গণনা এগোতে এগোতে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে যায়।
বাস্তবতা হলো, নেতানিয়াহু সবচেয়ে বড় দল ও জোটের নেতৃত্ব দিলেও বর্তমান শরিকদের নিয়ে সরকার গঠন করতে পারছেন না। আইজেনকোটের সামনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু সেই সংখ্যাকে কার্যকর রাজনৈতিক সমর্থনে রূপ দেওয়াই তাঁর বড় চ্যালেঞ্জ।
বিরোধী শিবিরে ঐক্যের অভাব
আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ৪৮টি আসন চারটি আলাদা তালিকার। তাঁর ইয়াশার তালিকা পেয়েছে ২১টি আসন। নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের টুগেদার তালিকা পেয়েছে ১২টি। ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস পেয়েছে আটটি এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু পেয়েছে সাতটি।
ভোটের আগে এসব দল কয়েক মাস আসন সমঝোতা ও নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছে। তবু তারা এখনো আলাদা সংগঠন। প্রত্যেকের নিজস্ব রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ও নীতিগত অবস্থান আছে।
নেতানিয়াহুকে সরানোর প্রশ্নে তাদের মধ্যে ঐকমত্য আছে। কিন্তু ভবিষ্যৎ সরকার কেমন হবে, কোন দল কী দায়িত্ব পাবে, গুরুত্বপূর্ণ নীতিতে কী সিদ্ধান্ত হবে, এসব প্রশ্নে একমত হওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর বেনি গান্তজের সঙ্গে যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। ২০২৪ সালের জুনে তিনি সেই সরকার ছাড়েন। নিরাপত্তা ও সামরিক অভিজ্ঞতার কারণে মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্য। তবে বিরোধী জোটের অন্য দলগুলোর ওপর তাঁর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই।
তাই সরকার গঠনের জন্য বিরোধীদের আগে নিজেদের মধ্যে অভিন্ন অবস্থান তৈরি করতে হবে। এরপর আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সরকার গঠনে আরব দলগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসন বৃদ্ধি। জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম মিলে ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে জয়েন্ট লিস্টের আসন ১২টি এবং রা’আমের সাতটি। এই ফল দেশটির রাজনীতিতে আরব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি দল দুটিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার পক্ষে ভোট দিয়েছিল। ২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। এরপর নির্বাচনে অংশ নিয়ে দল দুটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়।
নেতানিয়াহু বারবার বলেছেন, আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে তিনি সরকার গঠন করতে চান না। আইজেনকোটও প্রচারে জায়নবাদী সরকার গঠনের কথা বলেছেন এবং রা’আমকে জোটে নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তবে বিরোধী নেতা ইয়ার গোলান নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার পক্ষে।
আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়েন্ট লিস্টের প্রধান ইউসেফ জাবারিন বলেছেন, ইসরায়েলের জনগণ নতুন নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দিয়েছে। নেতানিয়াহুর সরকারের বিকল্প গড়তে চাইলে অন্য দলগুলোকে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তাঁর ভাষায়, সামনে দুটি পথ আছে। একটি হলো বর্ণবাদ, বৈষম্য ও আধিপত্যের রাজনীতি চালিয়ে যাওয়া। অন্যটি ইহুদি ও আরবদের মধ্যে প্রকৃত অংশীদারত্ব গড়া।
আরব দলগুলো সরাসরি সরকারে না গিয়েও বিরোধী জোটকে সমর্থন দিতে পারে। জয়েন্ট লিস্ট জানিয়েছে, প্রয়োজনে তারা সরকারের বাইরে থেকে বিকল্প সরকারকে সমর্থন দিতে পারে। সংসদে আস্থা ভোটে সমর্থন দেওয়া আর মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়ে নীতির দায় নেওয়া এক বিষয় নয়। সরকার গঠনের আলোচনায় এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা কতটা?
নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহুর লিকুদ বিষয়টিকে ডানপন্থা আর ফিলিস্তিনের লড়াই হিসেবে তুলে ধরেছিল। তাদের দাবি ছিল, প্রতিদ্বন্দ্বীরা ক্ষমতায় এলে আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করবে এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নেবে।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরায়েলের রাজনীতিতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা আগেই অনেক সংকুচিত হয়েছে। মূলধারার অধিকাংশ ইহুদি দল বসতি সম্প্রসারণ মেনে নিয়েছে। তারা ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে।
নেতানিয়াহুর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত আইজেনকোটও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিরোধী। আগস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর নেতৃত্বে সরকার হলেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। বিশ্লেষকদের ধারণা, কম কট্টরপন্থী সরকার হলেও এই সম্ভাবনা বাড়বে না। তবে ধর্মীয় উগ্র বক্তব্যের প্রভাব কমানো, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ এবং গাজায় বিলম্বিত যুদ্ধবিরতি কার্যকরে কিছু অগ্রগতি হতে পারে।
সরকার গঠনে ট্রাম্পের ভূমিকা
ইসরায়েলের সরকার গঠনের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ শরিকদের মধ্যে আছেন কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচ। গাজা, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার বিষয়ে তাঁদের অবস্থান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, তিনি বেন-গভির এবং সম্ভব হলে স্মোটরিচকে বাদ দিয়ে সরকার গঠনের পক্ষে থাকতে পারেন। তবে ট্রাম্প নিজে প্রকাশ্যে এমন অবস্থান জানাননি।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলের সরকার গঠনে হস্তক্ষেপ করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন এখনো নেয়নি। ঐক্য সরকার গঠনে চাপ দেওয়ার খবরকে তিনি ভিত্তিহীন ও আগাম বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্প নিজে বলেছেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ঐক্য সরকার গঠনে সহায়তার বিষয়টি তিনি এখনো ভাবেননি, তবে বিবেচনা করবেন।
নেতানিয়াহু কট্টর ডানপন্থী শরিকদের আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি তাঁদের ছেড়ে যাবেন না। কিন্তু তাঁদের নিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন। আবার তাঁদের বাদ দিলে নিজের সমর্থক ও গুরুত্বপূর্ণ শরিকদের হারানোর ঝুঁকি আছে।
এ অবস্থায় তিনি বিরোধী শিবির থেকে কোনো সংসদ সদস্যকে নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করতে পারেন। তবে বিরোধী নেতারা তাঁর নেতৃত্বে আরেকটি সরকার ঠেকানোর অঙ্গীকার করেছেন। ফলে সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্য সরকারও সহজ নয়।
আইজেনকোট নেতানিয়াহুর অধীনে সরকারে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ভাগাভাগির প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে ভবিষ্যতে ঐক্য সরকারের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা আছে। তবে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার প্রমাণ নেই।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
ইসরায়েলের নির্বাচন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন সরকারের নীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। নেতানিয়াহু প্রচারে বর্তমান সময়কে ইরানের হুমকি দূর করার ঐতিহাসিক সুযোগ বলেছেন। ট্রাম্পের সহযোগিতায় এই লক্ষ্য অর্জনের কথাও তিনি বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা আছে। তাই আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রস্তুত থাকা উচিত। তবে ইরান নিয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা সংকট ইসরায়েলি দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। আবার অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও বাড়িয়েও দিতে পারে। তাই এই সংকটের কারণে ঐক্য সরকার হবে, এমন ধারণা করার সুযোগ নেই।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কেও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা সীমিত। বিশ্লেষক বেথ ওপেনহেইম বলেছেন, আইজেনকোটের নেতৃত্বে সরকার হলেও পরিবর্তন মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। কারণ ৭ অক্টোবরের হামলার পর নেতানিয়াহু সরকারের নিরাপত্তানীতির মূল ধারণা প্রায় সব ইহুদি দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। সেই ধারণা হলো, সম্ভাব্য হুমকি আগেভাগে মোকাবিলা করা এবং প্রতিবেশী অঞ্চলে নিরাপত্তা বলয় ধরে রাখা।
তবে কম কট্টরপন্থী সরকার পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও গাজায় যুদ্ধবিরতি এগিয়ে নিতে কিছুটা সহায়ক হতে পারে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও মিসরের সঙ্গে ইসরায়েলের গোপন যোগাযোগ প্রকাশ্যে আনার পরিবেশও তৈরি হতে পারে।
লেবাননের কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আলোচনায় আইজেনকোট তুলনামূলক সহজ অংশীদার হতে পারেন। তবে তাঁর সামরিক অতীত ও দাহিয়েহ মতবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও আলোচনায় আছে। সাবেক ইসরায়েলি সংসদ সদস্য ও চ্যাথাম হাউসের সহযোগী গবেষক কেসেনিয়া স্বেতলোভা সিরিয়ার সঙ্গে চুক্তি ও নিরাপত্তা সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছেন। তবে তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে।
নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ
ভোট গণনার সময় লিকুদ আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, ঘুষ, ভয়ভীতি, জাল নথি ও ব্যালট কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচন প্রভাবিত করা হয়েছে।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, এসব অভিযোগের পক্ষে তদন্ত বা গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটিও পরিকল্পিত কারচুপির প্রমাণ পায়নি। কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগ অবশ্য যাচাই করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোআম সোলবার্গ বিদেশি অর্থায়ন ও কথিত নির্বাচনী ঘুষের মাধ্যমে অনুচিত প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনিকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।
তাঁর চিঠিতে ইসরায়েলের স্বার্থবিরোধী বিদেশি পক্ষের অর্থায়ন নিয়ে গুরুতর সন্দেহের কথা আছে, তবে কোনো দেশ বা সংগঠনের নাম নেই। তিনি স্বীকার করেছেন, এসব সন্দেহের সত্যতা নিশ্চিত করার মতো তথ্য তাঁর কাছে নেই। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
সরকার গঠনের পরবর্তী ধাপ কী?
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশের কথা। এরপর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে তিনি এমন একজন সংসদ সদস্যকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, যাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
প্রথম দফায় দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তি সরকার গঠনে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। তিনি ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো সংসদ সদস্যকে সুযোগ দিতে পারবেন। সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের পথে যেতে হতে পারে। তত দিন নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তও সহজ হবে না। লিকুদ সবচেয়ে বড় দল হওয়ায় সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর দাবি শক্তিশালী। তবে সবচেয়ে বড় দলের নেতাকেই দায়িত্ব দিতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা প্রেসিডেন্টের নেই। মূল বিবেচ্য হবে, কার পক্ষে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সমর্থন দিলে আইজেনকোট বেশি সংসদ সদস্যের সুপারিশ পেতে পারেন। কিন্তু তাতেও বিরোধী দলগুলোর নীতিগত মতপার্থক্য দূর হবে না।
সব মিলিয়ে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইসরায়েল নতুন রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে। আরব দলগুলোর সাফল্য ইসরায়েলের সরকার গঠনের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। তাদের সমর্থন নিয়ে বিরোধীরা কতটা ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, নেতানিয়াহু কট্টর ডানপন্থী শরিকদের নিয়ে কত দূর এগোন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী হয়, এসব প্রশ্নের উত্তরই ঠিক করবে ইসরায়েলের পরবর্তী রাজনৈতিক অধ্যায়।












