হ্যালোইন এলেই শিশুদের হাতে জমে ওঠে নানা রঙের চকলেট, ক্যান্ডি ও মিষ্টির পাহাড়। এ সময় শিশুদের মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে অনেক অভিভাবক নানা কৌশল নেন। কেউ নির্দিষ্ট পরিমাণ মিষ্টি খেতে দেন। কেউ ‘সুইচ উইচ’ বা ক্যান্ডি পরীর ধারণা ব্যবহার করেন, অর্থাৎ মিষ্টির বিনিময়ে খেলনা বা টাকা দেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক মা তাঁর তিন সন্তানকে হ্যালোইনের রাতে যত খুশি মিষ্টি খাওয়ার স্বাধীনতা দেন। উৎসব শেষ হওয়ার পরও সন্তানদের কাছ থেকে ক্যান্ডি কেড়ে নেন না তিনি।
টিফানি নিসলানিক মনে করেন, শিশুদের শুধু নিষেধ না করে খাবার সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, চিনি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, এ কথা সত্য। তবে বিশেষ উৎসবে একটু বেশি মিষ্টি খাওয়ার মধ্যেও শেখার বিষয় আছে।
প্রথমবার বড় সন্তানকে একের পর এক ক্যান্ডির মোড়ক খুলতে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, সিদ্ধান্তটি ভুল হচ্ছে কি না। পরে তিনি বুঝতে পারেন, এই অভিজ্ঞতা সন্তানদের খাবার সম্পর্কে ভারসাম্যপূর্ণ ধারণা গড়তে সাহায্য করছে।
নিষেধের বদলে খাবারের ভারসাম্য শেখানো
টিফানির পরিবারে দৈনন্দিন খাবারের নিয়ম বেশ গোছানো। সাধারণত সন্তানেরা দিনে দুটি মিষ্টিজাতীয় খাবার বেছে নিতে পারে। পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন, ফল, শাকসবজি ও পূর্ণ শস্য রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।
শিশুরা চাইলে আইসক্রিমের দোকানে গিয়ে কিছু খেতে পারে। চিকিৎসকের কাছ থেকে পাওয়া ললিপপও তাদের পছন্দের তালিকায় থাকতে পারে। শর্ত একটাই: দিনের খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
হ্যালোইনের রাতে নিয়ম কিছুটা আলাদা। ট্রিক-অর-ট্রিটিংয়ে যাওয়ার আগে সন্তানদের ভালোভাবে রাতের খাবার খেতে হয়। এরপর তারা ইচ্ছামতো ক্যান্ডি খেতে পারে। কতগুলো খাওয়া যাবে, তার কোনো সীমা বেঁধে দেন না মা।
তাঁর বিশ্বাস, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নিজের শরীরের সংকেত বোঝা শেখানো জরুরি। বাবা-মা সব সময় পরিমাণ ঠিক করে দিলে বড় হয়ে ক্ষুধা, তৃপ্তি বা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রভাব বোঝার দক্ষতা তৈরি নাও হতে পারে। তাই শিশুদের মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস নিজের বোধ থেকে গড়ে উঠুক, এটাই তিনি চান।
ক্যান্ডি জমিয়ে রাখার অভ্যাসও নেই
পরবর্তী গ্রীষ্ম পর্যন্ত যেসব ক্যান্ডি খাওয়া হয় না, সেগুলো ফেলে দেওয়া হয়। টিফানির অভিজ্ঞতায়, বাড়িতে মিষ্টি নিষিদ্ধ না থাকায় সন্তানদের মধ্যে ক্যান্ডি জমিয়ে রাখার প্রবণতা কম।
তারা সাধারণত নিজেদের পছন্দের মিষ্টিই খায়। যেগুলো ভালো লাগে না, সেগুলো ভাইবোন বা বাবা-মাকে দিয়ে দেয়। পরিবারের কেউ পছন্দ করে না, এমন ক্যান্ডি আগেভাগেই ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেয়।
এতে শিশুরা খাবার বেছে নিতে শেখে, অপছন্দের খাবার জমিয়ে রাখার অভ্যাসও গড়ে ওঠে না। টিফানি নিজেও হ্যালোইনের ক্যান্ডি উপভোগ করেন। আলমন্ড জয় নামের চকলেট তাঁর বিশেষ পছন্দ।
অতিরিক্ত মিষ্টি খেয়ে শেখা শিক্ষা
ইচ্ছামতো ক্যান্ডি খেতে দেওয়ার কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতাও আছে। একবার ছয় বছর বয়সী সন্তান অতিরিক্ত টক্সিক ওয়েস্ট ক্যান্ডি খেয়ে উজ্জ্বল নীল রঙের বমি করেছিল। আরেক রাতে ১০ বছর বয়সী সন্তান পেটব্যথায় বারবার ঘুম থেকে জেগে উঠেছিল।
টিফানির ভাষ্য অনুযায়ী, এমন অভিজ্ঞতার পর কেউ একই ভুল দ্বিতীয়বার করেনি। ধীরে ধীরে তারা বুঝেছে, কতটা মিষ্টি খেলে শরীর ভালো থাকে আর কখন বেশি খাওয়া অস্বস্তির কারণ হয়।
টিফানি একে খাবারের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে ওঠার লক্ষণ মনে করেন। নিজের শৈশবে তিনি এমন শিক্ষা পাননি। তাই সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই শরীরের প্রয়োজন ও সীমা বুঝতে শেখাতে চান।
খাবারের বাইরেও কাজে আসবে এই শিক্ষা
টিফানির কাছে বিষয়টি শুধু মিষ্টি খাওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। তিনি চান, সন্তানরা বড় হয়ে জীবনের অন্য ক্ষেত্রেও শরীরের সংকেত বুঝুক। বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে গেলে কিংবা খেলাধুলা ও ব্যায়ামের সময় নিজের সক্ষমতার সীমা বুঝতে এটি কাজে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
মানবদেহ নানা সংকেতে জানিয়ে দেয় কখন বিশ্রাম দরকার, কখন কিছু বেশি হয়ে যাচ্ছে। সেই সংকেত চেনা একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা। টিফানির মতে, হ্যালোইনের রাতে একটু বেশি ক্যান্ডি খাওয়া শিশুদের জন্য সীমা বোঝার তুলনামূলক কম ঝুঁকির সুযোগ হতে পারে।
তবে এই পারিবারিক অভিজ্ঞতা সব শিশুর জন্য একই নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ নয়। অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে। শিশুদের বয়স, স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস বিবেচনায় রেখে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি। শিশুদের মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে শুধু নিষেধ নয়, সঠিক ধারণা ও পরিমিতিবোধও শেখানো দরকার।












