ফ্যাশন দুনিয়ায় হ্যালোইন শুধু ভৌতিক সাজ কিংবা মজার পোশাক পরার উৎসব নয়। এটি সৃজনশীলতা, কল্পনা ও ব্যক্তিগত রুচি প্রকাশেরও এক বিশেষ উপলক্ষ। পোশাকের জগতে এমন অনেক ডিজাইনার ও ফ্যাশনপ্রেমী রয়েছেন, যাঁরা বছরের এই সময়টির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। কারও কাছে হ্যালোইন শৈশবের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। আবার কারও কাছে এটি প্রচলিত ফ্যাশনের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন কিছু করার সুযোগ। ফ্যাশন দুনিয়ার সেরা হ্যালোইন সাজ তাই প্রায়ই তৈরি হয় সবচেয়ে ব্যক্তিগত ভাবনা থেকে।
ফ্যাশনের ইতিহাসেও হ্যালোইনের প্রভাব কম নয়। থিয়েরি মুগলারের ১৯৯৭ সালের বসন্তকালীন সংগ্রহে দেখা গিয়েছিল কল্পনাপ্রসূত পোকামাকড়ের আদলে তৈরি পোশাক। আলেকজান্ডার ম্যাককুইনের ২০০৭ সালের শরৎকালীন সংগ্রহে ছিল সালেমের ডাইনি-সংক্রান্ত ইতিহাসের অনুপ্রেরণা। অন্যদিকে মিউচিয়া প্রাডার ২০১৯ সালের শরৎকালীন পোশাকে উঠে এসেছিল ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের মতো ভৌতিক চরিত্রের ছাপ। এসব উদাহরণ বলে দেয়, অক্টোবরের শেষ দিন আসার আগেই ফ্যাশনজগতে হ্যালোইনের আবহ তৈরি হতে শুরু করে।
তবে পোশাক বেছে নেওয়ার পাশাপাশি কোথায় সেই সাজে হাজির হওয়া হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। নব্বইয়ের দশকে নাওমি ক্যাম্পবেল ও কেট মসের আয়োজন করা হ্যালোইন পার্টিগুলো ছিল ফ্যাশন দুনিয়ার আলোচিত অনুষ্ঠানগুলোর অন্যতম। ডিজাইনার আনা সুইয়ের স্মৃতিতে সেই সময়ের আয়োজন এখনো উজ্জ্বল। তিনি একবার হংকংয়ের চলচ্চিত্রজগতের নতুন ধারার অনুপ্রেরণায় ‘দ্য ব্রাইড উইথ হোয়াইট হেয়ার’ ছবির চরিত্রের আদলে সেজেছিলেন। তাঁর সেই সাজের ছবি তুলেছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা সোফিয়া কপোলা।
পরবর্তী সময়ে অ্যালিসন সারোফিম ও স্টুয়ার্ট পারের জমকালো হ্যালোইন আয়োজনেও অতিথিদের জন্য থাকত নানা সৃজনশীল বিষয়ভিত্তিক সাজের চ্যালেঞ্জ। ইতালীয় ভবিষ্যতবাদী শিল্পধারা থেকে শুরু করে বিচিত্র শৈল্পিক ধারণা, এসব আয়োজনের প্রতিটি বিষয়ই অতিথিদের নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করত। বর্তমানে আইভি গেটির হ্যালোইন পার্টিগুলো সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।
এবারের হ্যালোইনকে সামনে রেখে ফ্যাশন ডিজাইনার ও তাঁদের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, তাঁদের জীবনের ফ্যাশন দুনিয়ার সেরা হ্যালোইন সাজ কোনটি। তাঁদের অনেকেরই পছন্দের পোশাক তৈরি হয়েছিল পেশাগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বহু আগে। আবার কারও কাছে সাম্প্রতিক কোনো আয়োজনের সাজই সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে আছে।
আনা সুইয়ের সাদা চুলের রহস্যময়ী কনে
ডিজাইনার আনা সুইয়ের অন্যতম প্রিয় হ্যালোইন সাজ ছিল ‘দ্য ব্রাইড উইথ হোয়াইট হেয়ার’ চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত একটি চরিত্র। ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন লেসলি চিয়াং ও ব্রিজিত লিন। হংকংয়ের চলচ্চিত্রজগতে তখন নতুন ধারার নির্মাতারা একের পর এক ব্যতিক্রমী সিনেমা তৈরি করছিলেন। সেই পরিবেশও সুইকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
নব্বইয়ের দশকে নাওমি ক্যাম্পবেল ও কেট মসের হ্যালোইন পার্টির কথা স্মরণ করে তিনি জানান, সে সময়ের আয়োজনগুলো ছিল অসাধারণ। তাঁর সেই বিশেষ সাজের ছবিটি তুলেছিলেন সোফিয়া কপোলা। পোশাক, চলচ্চিত্র ও শিল্পের সম্মিলনে তৈরি হয়েছিল স্মরণীয় এক মুহূর্ত।
জর্ডান রথের সাজে বার্নিসের স্মৃতি
থিয়েটার প্রযোজক জর্ডান রথের সবচেয়ে প্রিয় হ্যালোইন সাজটি ছিল গত বছরের। বেট মিডলারের ‘হুলাউইন’ অনুষ্ঠানে তিনি পোশাক প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সে বছরের বিষয় ছিল নিউইয়র্ক শহর। সেই ভাবনার সঙ্গে মিলিয়ে তিনি সেজেছিলেন ‘আরআইপি বার্নিস’ হিসেবে।
বার্নিস ছিল নিউইয়র্কের ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে পরিচিত একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্ট স্টোর। রথের সাজটি ছিল প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি সৃজনশীল উপায়। পাশাপাশি তিনি স্মরণ করেন কিংবদন্তি প্রদর্শনী পরিকল্পনাকারী সাইমন ডুনান এবং তাঁর অসাধারণ দোকানের জানালার সাজসজ্জাকে। তাঁর এই পোশাক তৈরিতে কাজ করেছিলেন শিল্পী মেশিন ড্যাজল।
ভেরা ওয়াংয়ের চেরের প্রতি শ্রদ্ধা
বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার ভেরা ওয়াংয়ের পছন্দের সাজটি ছিল সংগীতশিল্পী চেরের অনুকরণে তৈরি। হ্যালোইনের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এতটাই গভীর যে মহামারির সময়েও তিনি উৎসবটি উদ্যাপন করতে চেয়েছিলেন।
চেরের প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও সাহসের প্রতি দীর্ঘদিনের মুগ্ধতা থেকেই এই সাজের পরিকল্পনা করেন ওয়াং। তাঁর কাছে এটি কেবল একজন তারকার পোশাক নকল করা নয়। এটি এমন একজন শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো, যাঁর ব্যক্তিত্ব ও কাজ তাঁকে বরাবর অনুপ্রাণিত করেছে।
ছোট্ট ওয়েস গর্ডনের ভয়ংকর চিতাবাঘ
ক্যারোলিনা হেরেরার সৃজনশীল পরিচালক ওয়েস গর্ডনের প্রিয় হ্যালোইন স্মৃতিটি তাঁর শৈশবের। মাত্র দুই বা তিন বছর বয়সে তাঁকে চিতাবাঘের সাজে দেখা গিয়েছিল। ছোট্ট ওয়েসের কাছে সাজটি ছিল ভীষণ আনন্দের। বিশেষ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টি সংগ্রহের ঐতিহ্যবাহী হ্যালোইন আয়োজন উপভোগ করতেন তিনি।
ছবিতে তাঁর পোশাকটি যেমন মজার, তেমনি শৈশবের কল্পনাপ্রবণ জগতেরও পরিচয় বহন করে। বড় হয়ে ফ্যাশনজগতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও সেই স্মৃতি তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে আছে।
বাশেভা হে ও ‘রোজমেরিজ বেবি’র রহস্য
ফ্যাশন ডিজাইনার বাশেভা হের সবচেয়ে প্রিয় হ্যালোইন সাজ ২০২৩ সালের। তিনি সেজেছিলেন ‘রোজমেরিজ বেবি’ চলচ্চিত্রের মিয়া ফ্যারোর চরিত্রের অনুপ্রেরণায়। সাজটিকে আরও নাটকীয় করে তুলতে তিনি একটি শিশুর গাড়ি সঙ্গে নিয়েছিলেন, যেটি থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল।
নিউইয়র্কের ডাকোটা ভবনের সামনে এই সাজে ঘুরে বেড়ান তিনি। পোশাকে ছিল গ্রামীণ আবহ, আর শিশুর গাড়িটি পুরো আয়োজনে রহস্যময় ও ভৌতিক মাত্রা যোগ করেছিল। বাশেভার ভাষায়, এটি ছিল দুষ্টু আত্মার শিশুকে ঘিরে তৈরি এক অভিনব কল্পনা। পুরো আয়োজনটি তাঁর কাছে ছিল অত্যন্ত আনন্দের।
জুজু ফেরেন্তিনোর তুষারপেঁচার সাজ
ফ্যাশনজগতের আরেক পরিচিত মুখ জুজু ফেরেন্তিনোর প্রিয় হ্যালোইন সাজটি তৈরি হয়েছিল তাঁর শৈশবে, আনুমানিক ১৯৯৯ সালে। তখন উত্তর মেরুর প্রাণীদের প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ ছিল। তুষারপেঁচা, তুষারচিতাবাঘ ও মেরুভালুকের মতো প্রাণী তাঁকে মুগ্ধ করত।
তাঁর মা মেয়ের সেই কল্পনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলেন। তুষারপেঁচার পোশাকটি তিনি সম্পূর্ণ হাতে সেলাই করে তৈরি করেছিলেন। এতে ব্যবহার করা হয়েছিল রেশম, পালক ও ঝলমলে পাথর। ফলে সাধারণ একটি শিশুর পোশাকও হয়ে উঠেছিল অনেকটা উচ্চ ফ্যাশনের নকশার মতো।
জুজুর মতে, পোশাকটি ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি জমকালো। তবে পেছনে তাকালে তিনি বুঝতে পারেন, নিজের কল্পনাশক্তির বড় একটি অংশ মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছেন।
মেরি-কেট ও অ্যাশলি ওলসেনের অনুকরণে ট্যানার রিচি ও ফ্লেচার ক্যাসেল
ফ্যাশন ডিজাইনার ট্যানার রিচি ও ফ্লেচার ক্যাসেলের প্রিয় সাজটি ছিল ২০২১ সালের। তাঁরা সেজেছিলেন যমজ তারকা মেরি-কেট ও অ্যাশলি ওলসেনের অনুকরণে।
সাধারণত তাঁরা হ্যালোইনে খুব বেশি সাজগোজ করেন না। কিন্তু দুই জুটির মধ্যে মিল খুঁজে পেয়ে এই সাজ তাঁদের কাছে বিশেষ হয়ে ওঠে। পুরোনো পোশাকের দোকান থেকে সংগ্রহ করা পোশাকের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত করেছিলেন দ্য রো ব্র্যান্ডের সানগ্লাস। সাজটি ছিল একই সঙ্গে সহজ, পরিচিত এবং ফ্যাশনসচেতন।
লিন ইয়েগারের বিশের দশকের ফ্ল্যাপার সাজ
ফ্যাশন লেখক লিন ইয়েগার বেছে নিয়েছিলেন ১৯২০-এর দশকের ফ্ল্যাপার নারীদের পোশাক। সে সময়ের ফ্যাশন অনুসরণ করে পোশাক থেকে শুরু করে জুতা পর্যন্ত সবকিছুই তিনি পুরোনো সংগ্রহ থেকে বেছে নিয়েছিলেন।
নিউইয়র্কের ম্যাডিসন অ্যাভিনিউয়ে ল্যানভিনের দোকানে আয়োজিত হ্যালোইন পার্টিতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর সাজটি দৈনন্দিন পোশাকের সঙ্গে খুব বেশি আলাদা নয়। অনেক অতিথিই বুঝতে পারেননি যে তিনি আসলে উৎসবের জন্য বিশেষভাবে সেজেছেন। এই ঘটনাই তাঁর সাজটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
ফার্নান্দো গার্সিয়ার প্রিয় নিনজা টার্টল
ডিজাইনার ফার্নান্দো গার্সিয়ার পছন্দের হ্যালোইন চরিত্র ছিল নিনজা টার্টলসের ডোনাটেলো। এই চরিত্রটি বেছে নেওয়ার পেছনে তাঁর বিশেষ কোনো জটিল ব্যাখ্যা নেই। ডোনাটেলোর আত্মিক দৃঢ়তা এবং তার হাতে থাকা অস্ত্রই তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল।
শৈশবের জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্রকে ঘিরে তৈরি এই সাজ দেখায়, হ্যালোইনের আনন্দের জন্য সব সময় ব্যয়বহুল বা জটিল পোশাকের প্রয়োজন হয় না। কখনো কখনো প্রিয় কোনো চরিত্রের প্রতি ভালোবাসাই সাজকে বিশেষ করে তোলে।
কন্টেসা মিলসের ব্লুবেরি রূপে ভেরুকা সল্ট
‘চার্লি অ্যান্ড দ্য চকোলেট ফ্যাক্টরি’ চলচ্চিত্রের ভেরুকা সল্ট চরিত্রকে নিজের মতো করে উপস্থাপন করেছিলেন কন্টেসা মিলস। তাঁর সাজের বিশেষত্ব ছিল ব্লুবেরির রূপে ভেরুকাকে কল্পনা করা এবং পরে সেই ফলের রস বের করে নেওয়ার দৃশ্যকে পোশাকে ফুটিয়ে তোলা।
মিলসের পছন্দ এমন পোশাক, যা একই সঙ্গে হাস্যরসাত্মক ও আকর্ষণীয়। তাই অস্বাভাবিক আকৃতির ফুলিয়ে তোলা পোশাকের সঙ্গে তিনি যুক্ত করেছিলেন গলার বো, পূর্ণাঙ্গ মেকআপ এবং লুবুতাঁর জুতা। অদ্ভুত ধারণাকে ফ্যাশনসচেতন উপস্থাপনার সঙ্গে মিলিয়ে সাজটি হয়ে ওঠে তাঁর অন্যতম প্রিয় হ্যালোইন অভিজ্ঞতা।
গিগি বুরিসের মৌমাছি পালনকারীর সাজ
ফ্যাশন ডিজাইনার গিগি বুরিস প্রায় পাঁচ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে মৌমাছি পালনকারীর সাজে হ্যালোইন উদ্যাপন করেছিলেন। তাঁদের পোশাকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল হাতে তৈরি মৌমাছি। শেনিল সুতা ও টিউল কাপড় দিয়ে প্রতিটি মৌমাছি তৈরি করে ফরাসি জালের ওপর বসানো হয়েছিল।
এমনকি মধুর পাত্রের আদলে তৈরি অনুষঙ্গটিও ছিল বিশেষভাবে নকশা করা। মিলানিজ পদ্ধতিতে বোনা খড় দিয়ে তৈরি হয়েছিল সেটি। পুরো সাজে ছিল সূক্ষ্ম কারুকাজ ও শৈল্পিক পরিকল্পনা। বুরিসের কাছে এই আয়োজনের নান্দনিকতা সাম্প্রতিক থম ব্রাউনের ফ্যাশন প্রদর্শনীর কথাও মনে করিয়ে দেয়।
এলেনা ভেলেজের কুমড়োর সাজ
ডিজাইনার এলেনা ভেলেজের কাছে হ্যালোইন তাঁর সৃজনশীল জগতেরই একটি অংশ। তাঁর নিজের ব্র্যান্ডের কাজেও বিচিত্র, দুর্বোধ্য এবং কখনো কখনো অতিরিক্ত গম্ভীর শৈল্পিক ভাবনার ছাপ দেখা যায়। এ কারণে হ্যালোইন যেন তাঁর সৃজনশীলতার স্বাভাবিক সম্প্রসারণ।
কুমড়োর সাজে তোলা ছবিটিকে তিনি অতীতের অপেক্ষাকৃত হালকা সময়ের স্মারক হিসেবে দেখেন। তখন তাঁর সৃজনশীল পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিলেন তাঁর মা। ছবিটি তাই শুধু হ্যালোইনের স্মৃতি নয়, ব্যক্তিগত ও সৃজনশীল জীবনের একটি বিশেষ সময়ের কথাও মনে করিয়ে দেয়।
প্রেসলি ওল্ডহামের চিরচেনা কাউবয় সাজ
ডিজাইনার প্রেসলি ওল্ডহাম প্রতি বছর প্রায় একই কাউবয় পোশাকে হ্যালোইন উদ্যাপন করেন। তাঁর সাজে থাকে পুরোনো ঝালরযুক্ত চ্যাপস, মানানসই ভেস্ট এবং একটি বিশেষভাবে তৈরি অন্তর্বাস ও আঁটসাঁট পোশাক। এগুলো তৈরি করা হয়েছিল মরুভূমির দৃশ্য আঁকা একটি পুরোনো টেবিলক্লথ থেকে।
ওল্ডহামের মতে, সাজটি একই সঙ্গে ক্ল্যাসিক, পরতে সহজ এবং যথেষ্ট কার্যকর। প্রতি বছর একই পোশাক পরলেও এতে তাঁর আগ্রহ কমে না। অন্যদিকে তাঁর সঙ্গী টাইলার প্রতিবছরই পোশাক বদলান। কখনো তিনি ঘুমকাতুরে মানুষের সাজ নেন, আবার কখনো জলদস্যু বা নাবিকের মতো চরিত্রে হাজির হন। ফলে টাইলারের সাজ বদলালেও তাঁর সঙ্গী হিসেবে কাউবয় ওল্ডহাম প্রায় স্থির একটি উপস্থিতি হয়ে থাকেন।
ফ্যাশন দুনিয়ার সেরা হ্যালোইন সাজ দেখায়, উৎসবটির আকর্ষণ শুধু ভৌতিক মুখোশ বা অদ্ভুত পোশাকে সীমাবদ্ধ নয়। কখনো শৈশবের কল্পনা, কখনো চলচ্চিত্রের চরিত্র, কখনো পুরোনো ফ্যাশনের পুনর্নির্মাণ, আবার কখনো প্রিয় কোনো তারকার প্রতি শ্রদ্ধা, বিভিন্ন অনুপ্রেরণা থেকেই তৈরি হয় স্মরণীয় সাজ। আর সেখানেই হ্যালোইনের বিশেষত্ব: নিজের কল্পনাকে পোশাকের মাধ্যমে প্রকাশ করার স্বাধীনতা।












