মিরপুরে প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন শনিবার জয়ের জন্য ১৭০ রান দরকার ছিল সফরকারীদের। তারা ৩৫.১ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে সেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। এই জয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের হার ঘরের মাঠে দলের জন্য বড় ধাক্কা। সিরিজের পরের টেস্ট হবে সিলেটে।
ম্যাচ শুরু হয়েছিল বুধবার। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২০৭ রান, তখন শাদমান ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ৯৬ রানে। পরে তিনি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, তাঁর রান দাঁড়ায় ১০৫। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ থামে ২৭২ রানে। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করে ২৪৫ রান, ফলে ২৭ রানের লিড পায় স্বাগতিকেরা। প্রথম ইনিংস শেষে ম্যাচে তাই এগিয়ে ছিল বাংলাদেশই। কিন্তু সেই সুবিধা দ্বিতীয় ইনিংসে ধরে রাখা যায়নি।
মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের হারের মূল কারণ দ্বিতীয় ইনিংসের ধস। প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১৩০ রান কম করে ৪৮.৪ ওভারে ১৪২ রানে গুটিয়ে যায় দলটি। ২৭ রানের লিড আর দ্বিতীয় ইনিংসের ১৪২ রান মিলিয়ে মোট লিড দাঁড়ায় ১৬৯। তাই জিততে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার হয় ১৭০ রান। ধসের মূল কারিগর ছিলেন রোস্টন চেজ। তিনি ৩৬ রানে ৫ উইকেট নেন। নাঈম হাসান ৫২ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন, যা ওই ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। অন্য ব্যাটারদের কাছ থেকে তেমন সহায়তা মেলেনি।
১৭০ রানের লক্ষ্যে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খুব বেগ পেতে হয়নি। ব্র্যান্ডন কিং ৮১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। জন ক্যাম্পবেল করেন ৪৯ রান আর কাভেম হজ অপরাজিত থাকেন ৩১ রানে। দুটি উইকেট ছাড়া আর কোনো সাফল্য পাননি বাংলাদেশের বোলাররা। লক্ষ্য ছোট ছিল বলে সফরকারীরা মাত্র ৩৫.১ ওভারেই ম্যাচ শেষ করে দেয়। ফলে চতুর্থ দিনেই ফল নির্ধারণ হয়ে যায়।
এখন নজর সিলেটের দ্বিতীয় টেস্টে। সেখানে সিরিজে ফিরতে হলে ব্যাটিংয়ে বড় উন্নতি দরকার হবে বাংলাদেশের। মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের হারের পেছনে দ্বিতীয় ইনিংসের এই ব্যর্থতাই সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম ইনিংসে লিড পেয়েও ১৪২ রানে অলআউট হওয়ার পর ম্যাচ ধরে রাখা কঠিন ছিল। তবে সিরিজ এখনো শেষ হয়নি, আর সেটাই ভক্তদের আশার জায়গা। শাদমানের সেঞ্চুরি আর নাঈমের লড়াই দ্বিতীয় টেস্টে দলের ভরসা হতে পারে।












