তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে কারখানার মালিকদের মধ্যে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর বর্তমান ও সাবেক নেতারা এবং কয়েকজন শীর্ষ উদ্যোক্তা। তবে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পোশাকশিল্পের শীর্ষ উদ্যোক্তা ও সংগঠনটির সাবেক নেতারা অংশ নেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি, কারখানা থেকে বেরিয়ে আসা, ভাঙচুর এবং সংঘর্ষের কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন।
উৎপাদন চালু রাখা নিয়ে উদ্বেগ
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব কি না, তা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে কি না, সেটিও আলোচনায় উঠে আসে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি। ফলে কারখানা চালু রাখা কিংবা বন্ধের বিষয়ে মালিকপক্ষের চূড়ান্ত অবস্থান প্রকাশ্যে আসেনি।
এর আগে গত ১ নভেম্বর শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন পোশাকশিল্পের মালিকেরা।
কারখানা বন্ধ নিয়ে মালিকদের মতভেদ
শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে ১ নভেম্বর বিজিএমইএর সাধারণ সদস্যদের নিয়ে সংগঠনটির কার্যালয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
ওই সভায় কয়েকজন উদ্যোক্তা পরদিন সোমবার থেকেই কারখানা বন্ধ রাখার পক্ষে মত দেন। তবে অধিকাংশ মালিক উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার পক্ষে অবস্থান নেন।
তাঁদের বক্তব্য ছিল, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবং কারখানায় বিশৃঙ্খলা অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান তখন আশা প্রকাশ করেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে ফিরে যাবেন। তবে আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে সেটিকে ভিন্ন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মজুরি বোর্ড গঠনের পরও কমেনি অসন্তোষ
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির মধ্যে গত ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। মালিকপক্ষ আশা করেছিল, এই উদ্যোগের পর শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ কমবে এবং উৎপাদন স্বাভাবিক হবে।
কিন্তু বোর্ড গঠনের পরও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ না করে বেরিয়ে আসছেন। কোথাও ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
এতে একদিকে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে কারখানার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে—মালিকপক্ষের সাম্প্রতিক আলোচনায় সেই আশঙ্কাই গুরুত্ব পেয়েছে।
শ্রমিক অসন্তোষ ও ভাঙচুরে তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন বন্ধের আশঙ্কা বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ে বিজিএমইএর শীর্ষ উদ্যোক্তাদের বৈঠক হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে সংবাদ সম্মেলন হয়নি।












