পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তরের দাবিতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবারও সড়ক অবরোধ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সিগন্যালে অবস্থান নেন তারা। এতে ওই এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
একই সঙ্গে আন্দোলনের অংশ হিসেবে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে কুশপুত্তলিকা দাহ করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
পরীক্ষা বর্জন, ক্লাসে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা
আন্দোলন আরও জোরালো করতে মঙ্গলবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভায় সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি প্রতিদিন বেলা ১১টার পর সব ধরনের ক্লাসে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
পরে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে সব ব্যাচের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একত্রিত হন। সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ নিয়ে বিরোধ
পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি দাবি করে সেটি হস্তান্তরের দাবিতে গত ২৭ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু করেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনের প্রথম দিন মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্দেশ্যে চলমান মাটি পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও গাড়ি জব্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তারা।
পরদিন ২৮ অক্টোবর মাঠের মেলা বন্ধের জন্য আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা। এর পর মাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির মধ্যে ২৯ অক্টোবর সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
মেলা স্থগিত হলেও আন্দোলন অব্যাহত
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২৯ অক্টোবরই জাতীয় যুবমেলাসহ মাঠে সব ধরনের মেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
তবে মেলা স্থগিতের পরও আন্দোলন থামেনি। মাঠের বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণ না করা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে গত ২ নভেম্বর আরও কঠোর কর্মসূচি নেন তারা।
সেদিন আন্দোলনকারীরা পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে চাষ করে নিজেদের দখল প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নেন। এরপরও দাবি পূরণ না হওয়ায় বুধবার আবারও আগারগাঁওয়ের সড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
পুরোনো গবেষণার মাঠের মালিকানা ও হস্তান্তর নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের মধ্যে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও অনির্দিষ্টকালের শাটডাউনের কর্মসূচি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।












