চালের দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে খোলাবাজারে বেসরকারি ব্যবসায়ীদের কাছে চাল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণ করে ৫০ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাজারে চালের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে দেশটির সরকার।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যে ২৫ লাখ মেট্রিক টন চাল বিক্রি করা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে বিক্রির পরিমাণ ছিল ১১ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় এবার সরকারি উদ্যোগে চাল বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
উৎপাদন কমার আশঙ্কায় বাড়ছে উদ্বেগ

চলতি বছর ভারতে চালের উৎপাদন কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক দশকের মধ্যে এই প্রথম উৎপাদন কমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর উৎপাদন কমলে তার পরিমাণ হতে পারে প্রায় ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় ধানের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত ভারতে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে চালের সরবরাহ ও দাম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পাঁচ রাজ্যে মজুতের সীমা
চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধভাবে মজুত করে দাম বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে দক্ষিণ ভারতের পাঁচটি রাজ্যে চাল ও ধান মজুতের ওপর সীমা আরোপের অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

রাজ্যগুলো হলো অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা, তামিলনাড়ু ও তেলেঙ্গানা। আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।
সরকারের লক্ষ্য, বাজারে পর্যাপ্ত চালের সরবরাহ নিশ্চিত করা, মজুতদারি বন্ধ করা এবং কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে রাখা। উৎপাদন কমার আশঙ্কার মধ্যে সরকারি গুদাম থেকে চাল বিক্রি বাড়ানো এবং মজুতের ওপর নজরদারি জোরদার—এই দুই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজারে দামের চাপ কমাতে চাইছে ভারত।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ ভারত। দেশটির উৎপাদনে সম্ভাব্য ঘাটতি এবং বাজারে দাম বাড়ার আশঙ্কা তাই শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক চালের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।












