শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আবু সালেহ আহমেদ (৬০) নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজের আগে খোতবা শুরুর মুহূর্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আবু সালেহ আহমেদ ভারুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য এবং নলকুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ দিন আগে ভারুয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি নির্বাচিত হন সালেহ আহমেদ। তবে তাঁর সভাপতি হওয়া নিয়ে আপত্তি জানান একই গ্রামের আব্দুল মতিন ও তাঁর অনুসারীরা। মতিন নলকুড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে ওই কমিটি স্থগিত রয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের আগে মসজিদ কমিটির বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সালেহ আহমেদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে তাঁর মাথায় আঘাত লাগে। বুকে লাথি মারার পর তিনি মাটিতে পড়ে যান।
পরে মুসল্লিরা তাঁকে উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুই পক্ষের বক্তব্য
নলকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলাম সুজা বলেন, মসজিদের অধিকাংশ মানুষ সালেহ আহমেদকে সমর্থন করে সভাপতি নির্বাচিত করেছিলেন। শুক্রবার খোতবার আগে আব্দুল মতিন কথা বলতে চাইলে সালেহ আহমেদ নামাজ শেষে আলোচনা করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেই কথা না শুনে মতিন ও তাঁর অনুসারীরা তাঁর ওপর হামলা করেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান।
সালেহ আহমেদের ছোট ভাই জয়নাল অভিযোগ করেন, তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না। পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেন তিনি।
নলকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামান জানান, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খোতবার আগে কথা বলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। সালেহ আহমেদ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও তাঁকে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহজাহান আকন্দ বলেন, সালেহ আহমেদের মৃত্যুর খবর তাঁরা পেয়েছেন। তাঁর বাড়িতে গিয়ে বিস্তারিত জানার পর দলীয়ভাবে করণীয় ঠিক করা হবে।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম নুর মোহাম্মদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সেটি শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।












