রাজধানীর বাজারে আগাম শীতের সবজি আসতে শুরু করায় কিছুটা কমেছে কয়েক ধরনের সবজির দাম। শিম, ফুলকপি ও বাঁধাকপির সরবরাহ বাড়ায় ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও মাছ, মাংস, ডিম, টমেটো ও কাঁচামরিচের চড়া দামে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ থাকছে না। সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
শীতের আগাম সবজিতে কমেছে দাম
বাজারে শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়ায় কয়েকটি পণ্যের দাম আগের তুলনায় কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মুলার দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা। ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে।
গোল বেগুনের কেজি ১২০ টাকা হলেও সাধারণ বেগুন পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৭০ টাকায়। প্রতি কেজি বরবটি, করলা ও কাঁকরোলের দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা। লাউ প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম রয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে।
তবে টমেটো, কাঁচামরিচ ও গাজরের দাম এখনো বেশি। এসব পণ্যের মধ্যে টমেটো ও কাঁচামরিচের কেজি ১২০ টাকা এবং গাজরের কেজি ১৪০ টাকা। দেশি শসা ৮০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে চড়া দাম
সবজির কয়েকটি পণ্যের দাম কমলেও মাছের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায়।
এ ছাড়া কাতলা মাছের কেজি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা। ইলিশের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। বড় আকারের ইলিশের দাম ২ হাজার ৬০০ টাকাও ছাড়িয়ে গেছে।
মাংস কিনতেও বাড়তি খরচ
মাছের পাশাপাশি মাংসের বাজারেও উচ্চ দাম বহাল রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকায়।
গরুর মাংসের কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। খাসির মাংস কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা।
ডিমের দামেও স্বস্তি নেই
নিত্যদিনের খাবারের অন্যতম উপাদান ডিমের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়। ফলে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খাবারের খরচও বাড়তি চাপের মুখে পড়ছে।
ধুপখোলা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আল আমিন বলেন, এখনো পুরোপুরি শীত নামেনি। তবে আগাম কিছু সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। সরবরাহ বাড়ায় শিম ও ফুলকপিসহ কয়েকটি সবজির দাম কমেছে। শীতের সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
বাজার করতে আসা গৃহিণী সুমাইয়া আক্তার বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় কয়েকটি সবজির দাম কম মনে হচ্ছে। এতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছ, মাংস ও ডিমের চড়া দাম সেই স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছে। সবজি দিয়ে তো আর শুধু ভাত খাওয়া যায় না। সব মিলিয়ে বাজারের ব্যাগ ভরে ঘরে ফেরাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।












