ব্রিটিশ কৌতুক অভিনেতা ও উপস্থাপক রাসেল ব্র্যান্ড ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বিবিসিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। খ্যাতির শীর্ষে ওঠার সময় তাঁর আচরণ সম্পর্কে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা জানত এবং কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
৫১ বছর বয়সী রাসেল ব্র্যান্ড গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক নারীকে ধর্ষণ এবং একাধিক নারীকে যৌন নিপীড়নের তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের আরও দুটি অভিযোগ এবং শালীনতাবিরোধী আচরণের চেষ্টা-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) তাঁর সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিবিসিতে কাজের সময়ও উঠেছিল অভিযোগ
বিবিসির বিভিন্ন বেতার অনুষ্ঠানে কাজ করার সময় টানা তিন বছর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর ‘শাগার অব দ্য ইয়ার’ খেতাব পেয়েছিলেন ব্র্যান্ড। তাঁর প্রকাশ্য ব্যক্তিত্বের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিতর্কিত আচরণ।

সমালোচকদের অভিযোগ, তাঁর এই আচরণ কর্মক্ষেত্রের নিয়োগকর্তা থেকে শুরু করে বৃহত্তর সমাজের অনেকের কাছেই উপেক্ষিত ছিল।
২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিবিসিতে কাজ করার সময় তাঁর আচরণ নিয়ে কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। তবে প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় অনেকে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে সাহস পাননি। এ পরিস্থিতিতে নীরবতার সংস্কৃতি তৈরি হওয়ার জন্য গত বছর বিবিসি ক্ষমা চেয়েছিল। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি আবারও ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।
২০২৩ সালের অনুসন্ধানে সামনে আসে অভিযোগ
২০২৩ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস ও টেলিভিশন চ্যানেল ফোর যৌথভাবে কয়েকজন নারীর অভিযোগ প্রকাশ করে। এরপর আরও অনেকে সামনে এসে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানান। এসব অভিযোগ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষ পর্যন্ত ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এর আগে ২০০৮ সালে অভিনেতা অ্যান্ড্রু স্যাকস ও তাঁর নাতনিকে নিয়ে সরাসরি সম্প্রচারে একটি বিতর্কিত কৌতুক করার পর বিবিসির রেডিও টু থেকে পদত্যাগ করেন ব্র্যান্ড। ওই ঘটনার পর সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিবিসিকে দেড় লাখ পাউন্ড জরিমানা করেছিল।

চ্যানেল ফোরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ
২০০৯ সালে চ্যানেল ফোরের একটি প্রকল্পে কাজ করার সময় ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে এক কর্মী গুরুতর অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগটি যথাযথভাবে তদন্ত না করায় ২০২৪ সালে ক্ষমা চায় চ্যানেল ফোর। ওই সাবেক কর্মীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগেও ব্র্যান্ড দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
গণমাধ্যম ও বিপণন খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্র্যান্ডের উসকানিমূলক ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্বকে গণমাধ্যম যেভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছিল, তা তাঁর আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তাঁর আচরণের বিপজ্জনক দিকগুলো শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও মানুষকে নিরুৎসাহিত করে থাকতে পারে এই প্রচার।
মিডিয়ার দায় নিয়ে নতুন বিতর্ক
ব্র্যান্ডের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অপরাধের বিচারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং বিনোদন জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর গণমাধ্যম, নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব কতটা কার্যকরভাবে পালিত হয়, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।













