পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি বুশরা বিবি নিজের পছন্দের চিকিৎসকের মাধ্যমে চোখের চিকিৎসা করানোর অনুমতি চেয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের (আইএইচসি) দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর দৃষ্টিশক্তির অবনতি হওয়ায় দ্রুত বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
আল-কাদির ট্রাস্টের ১৯ কোটি পাউন্ড দুর্নীতি মামলায় করা আপিলের সঙ্গে যুক্ত একটি আবেদনে বুশরা বিবি এসব দাবি জানান। নিজের খরচে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসা করানোর অনুমতি চাওয়ার পাশাপাশি আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার নথি ও নতুন করে বিস্তারিত স্বাস্থ্য প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনাও চেয়েছেন।
চোখে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, বুশরা বিবির চোখে পরিপক্ব ছানি ধরা পড়েছে। তাঁকে আগামী ১৫ নভেম্বরের দিকে আবারও চোখে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
গত ২ নভেম্বর আদিয়ালা কারাগারে বুশরা ও ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাঁদের আইনজীবী ব্যারিস্টার সালমান সাফদার। ওই সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আদালতে একটি হলফনামা জমা দিয়েছেন।
হলফনামায় আইনজীবী জানান, সাক্ষাতের সময় বুশরা বিবির চোখে অস্বাভাবিক গাঢ় রঙের চশমা ছিল। ইমরান খান ও আইনজীবীর অনুরোধে চশমা খুললে তাঁকে দৃশ্যত অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায়। সূর্যের আলো কিংবা কৃত্রিম আলো—কোনোটিই তিনি সহ্য করতে পারছিলেন না। সুরক্ষামূলক চশমা ছাড়া চোখ খুলতেও তাঁর কষ্ট হচ্ছিল।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, বুশরার চোখের অবনতিশীল অবস্থা নিয়ে ইমরান খানও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কারাগারের চিকিৎসায় অসন্তোষ
আবেদনে বুশরা বিবি কারাগারের চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, কারাগারের চিকিৎসাব্যবস্থার পরিবর্তে নিজের পছন্দের চিকিৎসকদের মাধ্যমে পরীক্ষা ও চিকিৎসা করানোর সুযোগ দিতে হবে।
এ জন্য কারাগারের চিকিৎসা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুমতি চেয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে কারাগারের বাইরে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থাও চেয়েছেন।
এর আগে গত আগস্টে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া একটি চিকিৎসা প্রতিবেদনে বুশরা বিবির চোখের জটিলতা এবং রাওয়ালপিন্ডির আল-শিফা ট্রাস্ট চক্ষু হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচারসহ আগের চিকিৎসার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছিল।
এবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টের কাছে আদিয়ালা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ককে তাঁর সম্পূর্ণ চিকিৎসার নথি, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্যসহ নতুন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯ কোটি পাউন্ডের আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইমরান খানকে ১৪ বছর এবং বুশরা বিবিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ইমরান খানকে ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি এবং বুশরা বিবিকে পাঁচ লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়।












