ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় ছয়টি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) এসব হামলার মধ্যে রয়েছে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আরামকোর তেল স্থাপনা এবং নাজরানে সৌদি ন্যাশনাল গার্ডের একটি শিবির।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, এসব অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
তাঁর দাবি, রিয়াদের বিমানবন্দর, তেলের মজুত ট্যাংক ও আরামকোর একটি পরিশোধন স্থাপনা ছাড়াও খুরাইসের জ্বালানি স্থাপনা এবং দাওয়াদমির পাম্পিং স্টেশন নম্বর ৮ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সবগুলো অভিযান নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া নাজরানে সৌদি ন্যাশনাল গার্ডের একটি শিবির এবং ইয়েমেনের আল-জাওফ ও মারিব অঞ্চলে সৌদি সামরিক অবস্থানেও হামলার দাবি করেছে হুথিরা। এসব হামলায় কয়েকজন হতাহত হয়েছেন বলে তাদের বক্তব্য।
সৌদি হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি
হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ জেলার আল-হাদারা বাজারে সৌদি বিমান হামলার জবাবে তারা এই অভিযান চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে ওই বাজারে হামলায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাসহ বহু বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া রাজধানী সানার কাছে বানি হাশিশ জেলায় বেসামরিক মানুষের বাড়িঘরে হামলার অভিযোগও করেছে হুথিরা। তাদের দাবি, ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং অন্তত ছয়টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
তবে সৌদি আরব হুথিদের এসব হামলার দাবি, হতাহতের সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
নাজরানে সতর্কতা জারি
শনিবার নাজরান অঞ্চলে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। প্রায় ১০ মিনিট পর আরেকটি বার্তায় জানানো হয়, বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে।
এর আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছের একটি গ্রামে বিমান হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হুথি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু বলে জানানো হয়েছে। আল-শারিয়া এলাকায় ওই হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছে হুথিরা। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ইয়েমেনে সংঘাত আরও তীব্র
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি গত গ্রীষ্মে ভেঙে পড়ার পর সংঘর্ষ বেড়েছে।
ইরান-সমর্থিত হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে সৌদি আরব-সমর্থিত প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান মূলত দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে।
নতুন করে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলার দাবি আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।












