বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও বাজারে ছাড়তে শুরু করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সম্বলিত ব্যাংকনোট, যা এতদিন বিভিন্ন ভল্টে সিল করে রাখা ছিল। নগদ অর্থের বাড়তি চাহিদা এবং নতুন নোট সরবরাহে ধীরগতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে এটি নতুন সরকারের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
কেন আবার চালু হলো পুরোনো নোট
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে এসব নোট বাজারে ছাড়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিযুক্ত এসব নোট কখনো বাতিল বা নিষিদ্ধ করা হয়নি। ফলে এগুলো পুনরায় চালু করতে কোনো আইনি বা নীতিগত বাধা নেই।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নোট স্থগিতের ইতিহাস
২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে পরিস্থিতি বদলে যায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যার নেতৃত্বে ছিলেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও চিত্রায়নে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। সেই সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিযুক্ত নোটের নতুন ইস্যু বন্ধ রাখা হয় এবং ইতোমধ্যে মুদ্রিত বিপুল পরিমাণ নোট ভল্টে সিল করে রাখা হয়।
অর্থনীতিবিদদের সমালোচনা
এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তখনই প্রশ্ন ওঠে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের একাংশের মধ্যে। তাদের মতে, ইতোমধ্যে মুদ্রিত নোট বাজারে না ছাড়লে তা রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের আর্থিক অপচয়ে পরিণত হবে।
নতুন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত
সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে। নতুন সরকার মনে করে, মুদ্রিত নোট দীর্ঘদিন ভল্টে আটকে রাখা অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পুরোনো নোট পুনরায় ছাড়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
নতুন নোট আসছে, কিন্তু ধীরগতিতে
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, নতুন নকশার নয় ধরনের নোট তৈরির কাজ চলছে। তবে সরবরাহের গতি এখনো বাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। এ কারণে আগের নোটগুলোই আপাতত পর্যায়ক্রমে বাজারে ছাড়া হচ্ছে, যাতে নগদ সংকট মোকাবিলা করা যায়।












