যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য নেওয়া প্যারেন্ট প্লাস ঋণকে ঘিরে বড় নীতিগত পরিবর্তন সামনে এসেছে। নতুন আইনের ফলে ঋণ নেওয়ার সীমা ও পরিশোধের পদ্ধতিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, যা অনেক অভিভাবকের জন্য আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিলে এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা ধরে রাখা সম্ভব।
সময়সীমা মিস করলেই বন্ধ সুবিধা
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণ পরিশোধের যে ব্যবস্থা আছে, সেটি ২০২৮ সালের মধ্যে তুলে দেওয়া হবে। যারা এখনো এই ব্যবস্থায় যুক্ত হননি, তাদের জন্য চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় রয়েছে। তবে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ৯০ দিন সময় লাগতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে।
এই ব্যবস্থায় মাসিক কিস্তি নির্ধারণ করা হয় আয়ের ভিত্তিতে, যেখানে নির্দিষ্ট সীমার বেশি আয়ের ওপর প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কিস্তি ধার্য হতে পারে। নির্দিষ্ট সময় ধরে পরিশোধের পর বাকি ঋণ মওকুফ হওয়ার সুযোগও রয়েছে।
নতুন আইনে সীমিত হচ্ছে সুযোগ
গত বছর স্বাক্ষরিত নতুন আইনের ফলে প্যারেন্ট প্লাস ঋণের ক্ষেত্রে একাধিক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এতে ঋণের পরিমাণ কমানোসহ কিছু পরিশোধ পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় অভিভাবকদের জন্য বিকল্প পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
ঋণ একত্রিত করা এখন প্রধান পথ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ঋণ একত্রিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে কম খরচের অন্য একটি পরিশোধ পরিকল্পনায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এছাড়া সরকারি ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে নির্দিষ্ট সময় পর ঋণ মওকুফের সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে।
তবে এই প্রক্রিয়ায় কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। একত্রিত করার সময় পূর্বের সুদ মূল ঋণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট দেনা বাড়তে পারে। পাশাপাশি সুদের হারও কিছু ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেতে পারে।
জটিল প্রক্রিয়ায় বাড়ছে ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং একাধিক ধাপ ও সময়সীমা রয়েছে। কোনো একটি ধাপ মিস করলে পরবর্তীতে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে।
তাদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে আবেদন ও পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় কম কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের সুযোগ হারিয়ে বড় আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারেন অনেক অভিভাবক।
সামনে কী করণীয়
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, যেসব অভিভাবক এখনো এই ব্যবস্থায় যুক্ত হননি, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সময়মতো আবেদন ও পরিকল্পনা পরিবর্তনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের আর্থিক চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।












