মজুতদারির শাস্তি কী

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে, যে ব্যক্তি কালোবাজারে মজুত বা লেনদেনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবেন তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান আছে।

“স্বাধীনতার পর পণ্য মজুত করে সংকট তৈরির ঘটনা ঘটেছিল। তখনি এই আইনটি করা হয়েছিল। এ আইনে চোরাচালান, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং ক্ষতিকারক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত যে কাউকে সরকারের আটক করতে পারার বিধান রয়েছে,” বলছিলেন তিনি ।

প্রসঙ্গত, আইনটি করা হয়েছিল ১৯৭৪ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি, যার উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কিছু কার্যকলাপ প্রতিহত করা। একই সাথে কিছু গুরুতর অপরাধের দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।

তবে এই আইনটিকে ‘কালো আইন’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। এ আইনের অধীনে, যে ব্যক্তি কালোবাজারে মজুত বা লেনদেনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবেন তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

অথবা ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। জরিমানাও করা হবে।

তবে, শর্ত হিসেবে এতে বলা হয়েছে, যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি লাভ ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে মজুত করেছিলেন তবে তিনি তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই সাথে জরিমানাও করা হবে তাকে।

একই সাথে আদালত কালোবাজারি বা মজুত হয়েছে এমন কিছু সরকারকে বাজেয়াপ্ত করার আদেশও দিতে পারবে।

‘দরকার কঠোর ব্যবস্থা’

ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলছেন বাংলাদেশে কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখলেই মজুতদারি শুরু হয় এবং এখনো সেটাই হচ্ছে।

“তেলের সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকার বিকল্প উৎস থেকে বেশি দামে তেল আনছে। প্যানিক বায়িং হচ্ছে। কারণ সরকার যা বলছে মানুষ হয়তো তাতে আস্থা পাচ্ছে না। ফলে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। মজুত ও সরবরাহ নিয়ে প্রতিদিন তথ্য প্রকাশ করলে এমনটি হতো না,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু বা বন্ধ করা- কোনোটার সাথেই বাংলাদেশের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, কিন্তু এর প্রভাব ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে পড়েছে এবং সামনে আরও হবে।

“কারণ তেল কম সরবরাহ হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়বে। সেটি হলে জেনারেটর দিয়ে গার্মেন্ট কারখানা চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত ডিজেল আসবে কোথা থেকে। অর্থাৎ রফতানিতেও প্রভাব পড়তে পারে। সে কারণেই সরকারকে আরও স্বচ্ছতা ও দৃঢ়তা নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। মানুষকেও পরিস্থিতি বুঝে দায়িত্বশীল হতে হবে,” ক্যাব সভাপতি বলছিলেন।