ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের ঐতিহাসিক আর্কাইভে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ১৯৪৮ সালের একটি ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটি বলেছে, ডাকসুর আর্কাইভে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি অবমাননা।
১৪ সেপ্টেম্বর সকালে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে ছাত্রদল অভিযোগ করে, ‘শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসু কাউন্সিল’ শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এর মধ্যে মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশরাত মঞ্জিল’ করার চেষ্টা এবং ডাকসুর ঐতিহাসিক আর্কাইভে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটির দাবি, বর্তমান ডাকসু নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমাধান, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির মতো বিষয়গুলোতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। বরং ডাকসুকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও আদর্শিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র ডাকসুর আর্কাইভে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অবমাননা।
ছাত্রদল জিন্নাহর ছবিটি অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি জিন্নাহকে এমন একজন নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে, যিনি বাংলা ভাষার বিরোধিতা করেছিলেন।
একই সঙ্গে ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ প্রচারের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মধুর ক্যান্টিনের মতো ঐতিহাসিক স্থানের পরিচয় পরিবর্তনের যেকোনো উদ্যোগ প্রতিহত করার কথাও জানিয়েছে তারা।
ছাত্রদল বলেছে, ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জিন্নাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেমন আন্দোলন করেছিলেন, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল চেতনা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা সংস্কারকাজ শেষে ডাকসু ভবনের নিচতলায় ঐতিহাসিক আর্কাইভটি পুনরায় উদ্বোধন করেন। এ সময় ডাকসুর সহসভাপতি আবু শাদিক কায়েম এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কার করা ওই আর্কাইভে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে—বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে—এক অনুষ্ঠানে জিন্নাহর বক্তব্য দেওয়ার একটি একক ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দু ঘোষণার কথা বলেছিলেন।
আর্কাইভে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব-সংশ্লিষ্ট একটি দলীয় ছবিও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডন-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ব্যবহৃত জিন্নাহর ছবিও সেখানে প্রদর্শন করা হয়েছে।












