পানামা খালকে নিরাপদ, সুরক্ষিত ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও পানামার মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পানামায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেভিন মারিনো ক্যাব্রেরা। তাঁর মতে, পানামার নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাকে বিদেশি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি দুটি সার্বভৌম দেশের অভিন্ন স্বার্থ ও দায়িত্বের অংশ।
সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্ট-এ প্রকাশিত এক চিঠিতে তিনি পানামা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্পর্কে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, পানামাকে এমন একটি ‘মিথ্যা বিকল্পের’ সামনে দাঁড় করানো হয়েছে—যেন দেশটিকে হয় বিদেশি শক্তিকে অবাধ প্রবেশাধিকার দিতে হবে, নয়তো কোনোভাবে পানামা খাল পরিত্যাগ করতে হবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয় বলে দাবি করেন তিনি।
ক্যাব্রেরার মতে, পানামাকে নিরাপত্তা জোরদার করতে, খালকে সুরক্ষিত রাখতে এবং বৈরী বিদেশি প্রভাব ঠেকাতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো দেশ নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে এই অঙ্গীকার আবারও স্পষ্ট হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে একের পর এক মার্কিন প্রশাসন পানামা এবং পুরো পশ্চিম গোলার্ধের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দেয়নি। এর ফলে মাদক, অস্ত্র, অবৈধ অভিবাসী এমনকি সন্ত্রাসীরাও এই অঞ্চল হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শহর ও জনপদের দিকে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে বলে তাঁর দাবি।
ক্যাব্রেরার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েছেন। তাঁর প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা রক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং একই সঙ্গে পানামার সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-পানামা সম্পর্ক কেবল কোনো সামরিক মহড়া, জঙ্গলের প্রশিক্ষণকেন্দ্র কিংবা নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প বা কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই সম্পর্কের সঙ্গে আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির প্রশ্ন জড়িত। এর কেন্দ্রে রয়েছে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা করা।
বিশেষ করে পানামা খালের নিরাপত্তাকে তিনি দুই দেশের যৌথ দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, খালটি যেন কোনো বৈরী শক্তির নিয়ন্ত্রণে না যায় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত থাকে—এটি নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্র ও পানামা উভয়েরই দায়িত্ব।
ক্যাব্রেরা বলেন, এজন্য আগাম প্রস্তুতি জরুরি, নিরাপত্তা সহযোগিতাও জরুরি। শুধু কূটনৈতিক আশ্বাসের ওপর পানামা খালের নিরাপত্তা নির্ভর করতে পারে না। খালের সম্ভাব্য দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলায় বাস্তব প্রস্তুতি প্রয়োজন।
তাঁর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—পানামা খাল রক্ষা এবং এর নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা মোকাবিলাকে তিনি পানামার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ হিসেবে দেখছেন না। বরং তাঁর মতে, এটি দুটি সার্বভৌম দেশের অংশীদারত্ব, যেখানে উভয়েরই দায়িত্ব হলো খালকে নিরাপদ রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত রাখা।
চিঠির শেষ দিকে পানামার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও স্পষ্ট করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, খালের ওপর যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পানামার পাশে রয়েছে।
পানামা খাল বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হওয়ায় এর নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থান শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়; এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক শক্তির প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নও জড়িয়ে আছে। ফলে পানামা ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে তার প্রভাব বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে।











